
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে ঘিরে কয়েকজন চিৎকার করছেন, ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দাবির সমর্থনে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ঘটনাটি সাম্প্রতিক।
আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট পাওয়া গেছে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। ইনস্টাগ্রাম পোস্ট আছে এখানে। এক্স-এও ভিডিওটি আছে এখানে।
এই দাবিতে ‘Mehedi Hasan’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পোস্টটি শেয়ার করা হয়। ‘মনির হায়দার ইউনূসের সহকারি কে আমেরিকায় গণধোলাই’ ক্যাপশনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ পর্যন্ত ২ লাখ ৩৭ হাজার বার দেখা হয়েছে। পোস্টটি ৫১৪ বার শেয়ার হয়েছে এবং এতে ৫ হাজার ৭০০ রিয়েকশন পড়েছে। এতে কমেন্ট পড়েছে ২৭৬টি।
‘Kabir Chowdhury Tmmoy’ নামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি একই ভিডিও শেয়ার করা হয়। ‘দখলদার ইউনূসের বিশেষ সহকারী ও রাজাকার শাবক মনির হায়দারকে নিউইয়র্কে বিশেষ আপ্যায়ন করেছে প্রবাসী বন্ধুরা, যেখানে রাজাকার—চিনিয়ে দেবে তাদের আকার’ ক্যাপশনে শেয়ার করা পোস্টটি আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১ লাখ ২৭ হাজার বার দেখা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ১৯৮টি কমেন্ট এবং ২৫১ শেয়ার হয়েছে।
পোস্টগুলোর মন্তব্যে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ভিডিওটি সত্য মনে করে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ আবার ঘটনাটি সত্য কিনা জানতে চেয়েছেন। শেয়ার করা এসব অ্যাকাউন্ট ও পেজের পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ পোস্টে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনামূলক কথা বলা হয়েছে।

দাবিটি যাচাই করতে প্রথমে ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার ঘিরে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। গাড়ির ভেতরে থাকা এক ব্যক্তির গেঞ্জি ছেঁড়া, তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও গালাগালি করা হচ্ছে।
ভিডিওর ক্যাপশনে আমেরিকা ও মনির হায়দারের নাম উল্লেখ থাকলেও, ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে সময়, স্থান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এ ছাড়া ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে সম্প্রতি প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা মনির হায়দারের চেহারার মিল নেই।
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ‘Masud Ahmed’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।
‘Masud Ahmed’ অ্যাকাউন্টটিতে পোস্ট করা একাধিক ভিডিওতে এক ব্যক্তির নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী বলে পরিচয় দিতে দেখা যায়। নাম বলেন— মাসুদ আহমেদ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ার করা ভিডিওর ইংরেজি ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘১০ মার্চ ২০২৫, লস অ্যাঞ্জেলেস, “আমার বাংলা”-র মালিক ও বিএনপির সঙ্গে জড়িত কিছু লোক আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিয়ে নানা অনিয়মে জড়িত। কিছু মানুষ নিজেদের গৃহহীন দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইবিটি কার্ড ও হোম কেয়ার ভাতা নিচ্ছে।’
ক্যাপশনে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু মানুষ আমেরিকান নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আত্মীয়, এমনকি চাচাতো বা আপন বোনকে বিয়ে করার মতো প্রতারণামূলক কাজও করছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনেকেই ধর্মের কথা বললেও তাদের মূল লক্ষ্য অর্থ।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, Masud Ahmed নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ভিডিওতে হেনস্তার শিকার ব্যক্তির সঙ্গে সম্প্রতি ছড়ানো ভিডিওতে হেনস্তার শিকার ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বের মিল রয়েছে।

এ ছাড়া দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে মনির হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে মবের শিকার হয়েছেন—এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও এ ধরনের ঘটনার উল্লেখ নেই।
সিদ্ধান্ত
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে মবের শিকার হয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভাইরাল ভিডিওটি পুরোনো এবং হেনস্তার শিকার ব্যক্তি ভিন্ন। অর্থাৎ, পুরোনো একটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও নতুন করে প্রচার করে সেটিকে মনির হায়দার হেনস্তার শিকার দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

‘হাদি হত্যার বিচার হলে, আজ “খামেনি” মরতো না’— ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার মন্তব্য দাবিতে এমন একটি ফটোকার্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টের কমেন্ট বক্সে বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বলিউড তারকা শাহরুখ খান,সালমান খান ও আমির খান ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেছেন— এমন দাবিতে কিছু ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শনিবার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কার্যালয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ছবি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ।
১ দিন আগে
‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে