
‘আমার এখানে বিদ্যুৎ আছে। গ্যাসও আছে। গাড়িতে তেল আছে। বাসায় নিয়মিত বাজার আছে। যারা বলছেন, এই নাই, সেই নাই— তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর। আমি সজাগ আছি। আপনাকেও সজাগ থাকতে হবে’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দাবিতে এমন ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
‘Md. Antarul Haque’ নামের অ্যাকাউন্টে আলোচিত দাবিতে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট শেয়ার করা ওই পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘শুরু হয়ে গেছে, সত্য কথা বললে ফ্যাসিস্টদের দুসর হয়ে যাচ্ছেন, সময় খুব বেশি দূর নেই, কিছুদিন পর বাক স্বাধীনতাও কেড়ে নেবে! আর একটা কথা ও প্রিয় হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে, মহা দুর্নীতি হয়েছে মহা উন্নয়নের আড়ালে। আর বর্তমান সরকার শুরু করেছে দলীয়করণের মহা দুর্নীতি, যা সরকারের ভিন্ন প্রতি দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে। সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তাতে আপনারা চোখের সামনে দেখতেই পাচ্ছেন।’
‘আরেকটি সত্য কথা হলো, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে, সাধারণ জনগণ কিন্তু নিরাপদে জান-মাল নিয়ে চলাফেরা করতে পারছে। বর্তমান সময়ে কিন্তু তা করতে পারছে না। ছিনতাই,ডাকাতি, রাহাজানি বিএনপি সরকার আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা। বিএনপি সরকার আসলেই রাস্তাঘাটে এগুলো বৃদ্ধি পায়! এগুলা কে করে, কেন বিএনপি সরকার আসলে এগুলো বৃদ্ধি পায়, নিশ্চয়ই বিরোধী দল করে না, করলে আইনের আওতায় এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হতো, তারমানে এগুলো বিএনপি সরকারের আলাদা একটি বাহিনী এটা আমরা বলতে পারি!’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)
ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টটিতে আজ ১৫ আগস্ট বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ২ হাজার ১০০ কমেন্ট ও ৩৯১ শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলোচিত মন্তব্যটি সম্পর্কিত কোনো প্রতিবেদন দেশীয় কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ভাইরাল ফটোকার্ডটিতেও কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই। পাশাপাশি, তিনি কবে, কোথায় বা কোন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন—সেই বিষয়েও কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া কার্ডে বক্তার পদবি লেখা হয়েছে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’। কোনো মূল ধারার গণমাধ্যমে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ‘মাননীয়’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় না।
অনুসন্ধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল পেজ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা পেজ পর্যবেক্ষণ করেও এমন কোনো মন্তব্য বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়। সম্প্রতি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রয়েছে এবং সরকার সেই সংকট অস্বীকার করছে না। তিনি বলেন, বিগত সময়ের অপপরিকল্পনার খেসারত জনগণকে দিতে হচ্ছে এবং সরকার এই সংকট কাটানোর নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের দোসররা এই খাতকে অস্থির করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর আরও কিছু বক্তব্যেও (১, ২ ) বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে আলোচিত ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর এসব বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ‘Md. Antarul Haque’-এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে নিয়মিত বিএনপি ও সরকারের সমালোচনা এবং জামায়াত-সমর্থিত বিভিন্ন পোস্ট (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ) দেখা যায়। পাশাপাশি, এর আগেও ভুয়া ফটোকার্ড (১, ২, ৩ ) শেয়ার করার নজিরও পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

‘দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী’—এমন একটি দাবি গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরলেন।
১ দিন আগে
‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন, আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট’—এটি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উদ্ধৃতি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে
‘যে শিক্ষার্থী ১১ সাবজেক্টে এ প্লাস পায় সে এক সাবজেক্টে কীভাবে ফেইল করে? এই সরকার পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন অবিচার করছে’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে
‘এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৪ দিন আগে