
‘যদি ইরান চায়, আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করব। এটি মুছে ফেলার জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট’—কিম জং উনের এমন মন্তব্য দাবিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
তাইওয়ানভিত্তিক একটি টেলিভিশন মাধ্যম China TV, জাতীয় দৈনিক যুগান্তর, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভিসহ আরও কয়েকটি গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ফটোকার্ডটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট রয়েছে এখানে , এখানে , এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে ।
দাবিটি প্রথম ছড়ায় 中華微視 (China TV ) নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে। ২ মার্চ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৮ মিনিটে ‘BREAKING: KIM JONG UN: ‘IF IRAN ASKS, WE WILL PROVIDE MISSILES AGAINST ISRAEL. ONE...’ ক্যাপশনে পোস্টটি শেয়ার করা হয়। আজ বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ লাখ ৯৩ হাজার রিয়েকশন, ১ লাখ ১৭ হাজার শেয়ার এবং ১৪ হাজার ৯০০ কমেন্ট পড়েছে।
একই দাবিতে নাগরিক টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় শেয়ার করা ওই পোস্টে ৪ লাখ ৬৬ হাজার রিয়েকশন, ১১ হাজার শেয়ার এবং ১১ হাজার ২০০ কমেন্ট দেখা যায়।

পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী কিম জং উনের এমন মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। অনেকেই একে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে মতামত দিয়েছেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে রসিকতাও করেছেন।
এ ছাড়া একই দাবিতে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরেও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হলেও পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
অনুসন্ধানের শুরুতেই 中華微視 (China TV)–এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্টটি যাচাই করা হয়। তাদের শেয়ার করা ফটোকার্ডে কিম জং উনের ছবি ও আলোচিত বক্তব্য থাকলেও কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অনুসন্ধানে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খতিয়ে দেখা হলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters–এ ১ মার্চ প্রকাশিত ‘North Korea says Israeli attacks and US military operation against Iran are illegal aggression’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী দৈনিক The Chosun Ilbo–এর ইংরেজি সংস্করণেও ‘North Korea Condemns U.S., Israel’s Iran Airstrikes’ শিরোনামে ২ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

উভয় প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ’ ও ‘আগ্রাসনমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে এবং এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে দাবি করেছে।
তবে প্রতিবেদনের কোথাও সরাসরি ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার মতো কোনো ঘোষণা বা কিম জং উনের এমন বক্তব্যের উল্লেখ নেই।
সিদ্ধান্ত
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বা সরকারি সূত্র পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক নিন্দার খবর থাকলেও ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা বা ‘একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট’ এ ধরনের মন্তব্যের প্রমাণ নেই। কিম জং উনের নামে ছড়ানো বক্তব্যটি বানোয়াট।

‘হাদি হত্যার বিচার হলে, আজ “খামেনি” মরতো না’— ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার মন্তব্য দাবিতে এমন একটি ফটোকার্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টের কমেন্ট বক্সে বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
১ দিন আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে ঘিরে কয়েকজন চিৎকার করছেন, ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দাবির সমর্থনে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা
১ দিন আগে
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বলিউড তারকা শাহরুখ খান,সালমান খান ও আমির খান ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেছেন— এমন দাবিতে কিছু ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শনিবার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কার্যালয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ছবি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ।
২ দিন আগে