সম্পাদকীয়

গ্রাম্য সালিসে ফতোয়া দিয়ে দোররা মারার নামে বিচারের নিয়ম নতুন নয়। মাঝখানে এসব ঘটনার খবর খুব একটা চোখে না পড়লেও, সম্প্রতি এ রকম একটা বাজে ঘটনা ঘটেছে। যাতে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষ বিস্মিত হবে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের মালোগাড়ি গ্রামে গত রোববার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মালোগাড়ি গ্রামের এক নারীর স্বামী প্রবাসী। তাঁর সঙ্গে ভাতিজা-সম্পর্কিত এক ব্যক্তির অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে গ্রামের লোকজন সালিস বসায়। সেখানে মাতবররা সিদ্ধান্ত দেন উভয়কে ১০১টি করে দোররা মারার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোররা মারা হয় চাচি-ভাতিজাকে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের ভাষ্য, ব্যস্ততার কারণে তারা যেতে না পারায় ইউপি সদস্যকে মীমাংসা করার কথা বলা হয়েছিল। এরপর এ নিয়ে গ্রামে দফায় দফায় দেনদরবার চলে। একপর্যায়ে কাজি ডেকে এনে ওই নারীকে তাঁর স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর ভাতিজার সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়ে তাঁদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
২০১১ সালে শরীয়তপুরের একটি ঘটনা। এক কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। পরে গ্রাম্য মাতবর ৭০-৮০টি দোররা মেরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সে সময় এ ঘটনাটি দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। এ রকম আরও অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে উচ্চ আদালত রায় দেন। এই রায়ে সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়, আইনবহির্ভূতভাবে কেউ ফতোয়া দিলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অথচ উচ্চ আদালতের এ রায় এখনো উপেক্ষিত হচ্ছে।
এর আগেও ২০০১ সালে ফতোয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন উচ্চ আদালত। পরে ২০১১ সালে আপিলের শুনানি শেষে সংক্ষিপ্ত রায়েও ফতোয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; অর্থাৎ দোররা মারার মতো ফতোয়া দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও কেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
একটি গ্রামের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা তাঁদের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা চালাতে পারেন না। মালোগাড়ির ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান এবং পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষমতাবানদের মধ্যে যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকে তাহলে এ ধরনের ঘটনা কখনো রোধ করা যাবে না। আর ভবিষ্যতে এই অসুস্থ প্রবণতা আরও কোথাও যে ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
দোররা মারার মতো ফতোয়া দেওয়া বন্ধ করার জন্য গ্রামের মাতবরদের মধ্যে প্রচারণা চালানো এবং গ্রামবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এটা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা-ও তাদের জানতে হবে। আর এ কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারে রাজনৈতিক দলগুলো।

গ্রাম্য সালিসে ফতোয়া দিয়ে দোররা মারার নামে বিচারের নিয়ম নতুন নয়। মাঝখানে এসব ঘটনার খবর খুব একটা চোখে না পড়লেও, সম্প্রতি এ রকম একটা বাজে ঘটনা ঘটেছে। যাতে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষ বিস্মিত হবে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের মালোগাড়ি গ্রামে গত রোববার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মালোগাড়ি গ্রামের এক নারীর স্বামী প্রবাসী। তাঁর সঙ্গে ভাতিজা-সম্পর্কিত এক ব্যক্তির অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে গ্রামের লোকজন সালিস বসায়। সেখানে মাতবররা সিদ্ধান্ত দেন উভয়কে ১০১টি করে দোররা মারার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোররা মারা হয় চাচি-ভাতিজাকে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশের সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের ভাষ্য, ব্যস্ততার কারণে তারা যেতে না পারায় ইউপি সদস্যকে মীমাংসা করার কথা বলা হয়েছিল। এরপর এ নিয়ে গ্রামে দফায় দফায় দেনদরবার চলে। একপর্যায়ে কাজি ডেকে এনে ওই নারীকে তাঁর স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর ভাতিজার সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়ে তাঁদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
২০১১ সালে শরীয়তপুরের একটি ঘটনা। এক কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। পরে গ্রাম্য মাতবর ৭০-৮০টি দোররা মেরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সে সময় এ ঘটনাটি দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। এ রকম আরও অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে উচ্চ আদালত রায় দেন। এই রায়ে সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়, আইনবহির্ভূতভাবে কেউ ফতোয়া দিলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অথচ উচ্চ আদালতের এ রায় এখনো উপেক্ষিত হচ্ছে।
এর আগেও ২০০১ সালে ফতোয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন উচ্চ আদালত। পরে ২০১১ সালে আপিলের শুনানি শেষে সংক্ষিপ্ত রায়েও ফতোয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; অর্থাৎ দোররা মারার মতো ফতোয়া দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও কেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
একটি গ্রামের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা তাঁদের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা চালাতে পারেন না। মালোগাড়ির ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান এবং পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষমতাবানদের মধ্যে যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকে তাহলে এ ধরনের ঘটনা কখনো রোধ করা যাবে না। আর ভবিষ্যতে এই অসুস্থ প্রবণতা আরও কোথাও যে ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
দোররা মারার মতো ফতোয়া দেওয়া বন্ধ করার জন্য গ্রামের মাতবরদের মধ্যে প্রচারণা চালানো এবং গ্রামবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এটা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা-ও তাদের জানতে হবে। আর এ কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারে রাজনৈতিক দলগুলো।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫