Ajker Patrika

তামাশা বন্ধ হোক

সম্পাদকীয়
তামাশা বন্ধ হোক

ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে দিন দিন অবনতি হচ্ছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত হিসাব ধরে চলতি বছর ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

দু-তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখের ঘরে পৌঁছাবে। ডেঙ্গু মূলত মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও মশা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গত শনিবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, ‘নীতিনির্ধারকেরা অবৈজ্ঞানিক পন্থায় হাঁটছেন। এতে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মারা যাচ্ছে মানুষ। মশা নিধনের নামে তামাশা চলছে। ব্যাঙ, হরিণ আর হাঁস দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। পৃথিবীর আর কোথাও এমনটা দেখা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘ডোবা-নালায় এডিস মশা ব্রিড করে, সেটার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সিটি করপোরেশন যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাতে খুব বেশি কাজ হচ্ছে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, মশা মারতে যে কীটনাশক প্রয়োগ করছে, তার প্রয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

এডিস মশার চরিত্র-বৈশিষ্ট্য পাল্টানো নিয়ে বিস্তর গবেষণা না করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠিয়ে কীটতত্ত্ববিদেরা সংবাদ সম্মেলনে এগুলোকে বিজ্ঞানের নামে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

উত্তর সিটি করপোরেশনে মশা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ‘অশুভ চক্র’ গড়ে ওঠা এবং কীটনাশক সরবরাহ নিয়ে জালিয়াতির যে অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে করা হয়েছে, তারও অনুসন্ধান প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অশুভ চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও অনেক কথা আছে। যেমন মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য জ্ঞান ও কারিগরি বুদ্ধি থাকে কীটতত্ত্ববিদদের। এ পর্যন্ত মশা তথা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কি কীটতত্ত্ববিদদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন? তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? ডেঙ্গু নিয়ে দেশে একটি প্রায় মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও মশা নিয়ন্ত্রণের নামে ‘তামাশা’ চলছে?

এই যে প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, এ জন্য কি কেউ কোনো গ্লানি বোধ করছেন, পীড়া বোধ করছেন? কীভাবে এই মৃত্যু রোধ করা যায়, তা নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন? নাকি ধরেই নেওয়া হয়েছে যে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার বাইরে যেহেতু কিছু হয় না, সেহেতু এ ক্ষেত্রে মানুষের আর করণীয় কী আছে?

মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব ও অন্য কর্মকর্তারা কি একবারের জন্যও একটি যৌথ সভায় বসার প্রয়োজন বোধ করেছেন? যদি না করে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ অবশ্যই উঠবে। তামাশা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত