মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার—দুটো কি একই বিষয়? একটি কি অপরটির পরিপূরক? মৌলিক অধিকার বলতে আমরা সেই সব অধিকারকে বুঝি যা কোনো দেশের সংবিধানস্বীকৃত এবং যা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সাংবিধানিক নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মৌলিক অধিকারগুলো সবই মানবাধিকার, তবে পার্থক্য আছে। বিশেষ কারণেই রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারকে মানবাধিকারভুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিতে চায় না। আইন বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকারগুলো আইনগতভাবে প্রয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। মৌলিক অধিকার আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে পারবেন। সংবিধানে কিছু মৌলিক অধিকার নির্দিষ্ট আছে। বাংলাদেশে কোনো আইন যদি মৌলিক অধিকার পরিপন্থী হয় তাহলে তা বাতিল হবে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট সূক্ষ্ম বিভাজনটার বিষয়ে না জানার কারণে অধিকার আদায় প্রশ্নে কিছু ফাঁক থেকে যায়।
তবে এটা ঠিক, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের পার্থক্যের জায়গা কম। মানবাধিকারের সূত্রগুলো মৌলিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করেই হয়। মানবাধিকারে মানুষের চলাচলের অধিকার, জীবনের অধিকার থাকবে, বিশ্বাসের অধিকার থাকবে, বাক্স্বাধীনতা থাকবে। এগুলোও মৌলিক অধিকার।
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে যে ১৮টি অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে মৌলিক অধিকার, যা প্রকৃতিগতভাবে আইনগত অধিকার এবং সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। এই অধিকারগুলো ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র প্রতিকার প্রদানে বাধ্য থাকে। সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই অধিকারগুলোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে।
এটি স্পষ্ট যে সব মৌলিক অধিকারই আইনগত অধিকার, কিন্তু সব আইনগত অধিকার মৌলিক অধিকার নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ শিরোনামে রাষ্ট্র অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে, যার মধ্যে ১৫ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণভাবে ‘মৌলিক চাহিদা’ হিসেবে পরিচিত। সংবিধানের ৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত এই অধিকারসমূহ আদালতের মাধ্যমে প্রতিকারযোগ্য নয়।
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সাল থেকে এই দিনটি স্মরণ করতে ১০ ডিসেম্বরকে মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে একটি ভূমিকাসহ ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যাতে নাগরিক ও রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। যদিও এটি আইনি বাধ্যবাধকতাসমৃদ্ধ কোনো চুক্তি নয়, তবু এটি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সব সদস্যরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক উন্নয়ন সাধিত হলেও মানুষের স্বস্তির জায়গা, বেঁচে থাকার জন্য যে অধিকার দরকার, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সংকুচিত। গুম, ‘ক্রসফায়ার’, গায়েবি মামলা ইত্যাদি ঘটনা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। এগুলো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। দমনপীড়নের পথ পরিহার করলে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুগন্ধি খুব পছন্দ করতেন এবং নিয়মিত ব্যবহার করতেন। সুগন্ধির প্রতি প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত—আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪৭৮)
০৭ মার্চ ২০২৬
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫