Ajker Patrika

শাবিপ্রবি ছাত্রলীগে পদের আশায় বিতর্কিত অছাত্রদের দৌড়ঝাঁপ

ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট
শাবিপ্রবি ছাত্রলীগে পদের আশায় বিতর্কিত অছাত্রদের দৌড়ঝাঁপ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয় আড়াই বছর আগে। এক বছর মেয়াদের ওই কমিটি ৯ বছর পার করেছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদ নতুন কমিটির আহ্বানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ১০৯ জন জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। 

তবে তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা-কর্মী রয়েছেন, যাঁদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এমনকি তাঁদের মধ্যে মামলার আসামি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, মাদকসেবন ও বিভিন্ন মামলার আসামিও রয়েছেন। 

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ৮ ফেব্রুয়ারি পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে। এরপর থেকেই শুরু নতুন কমিটিতে স্থান পেতে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। বলয়ভিত্তিক আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে সভাপতি পদে পদপ্রত্যাশী সাবেক পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. খলিলুর রহমান। তিনি ছাত্রজীবন শেষ করেছেন ২০১৮ সালে এবং ছাত্রত্ব দেখাতে ভর্তিও হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশসহ রাতের আঁধারে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন খাল-পুকুর সেচে মাছ বিক্রি করা থেকে শুরু করে নানা অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ২০৯/এ নম্বর কক্ষে থাকছেন তিনি। 

অভিযোগ অস্বীকার করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘কমিটি ঘোষণার সময় হওয়ায় এসব মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে প্রতিপক্ষ। আমি আইআইসিটির অধীনে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার অ্যাপলিকেশন কোর্সে ভর্তি আছি।’ 

আগের কমিটির উপদপ্তর সম্পাদক ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমানও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ৪২৯ নম্বর কক্ষে থাকেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় টেন্ডারের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের সঙ্গে সজিবের আলোচনার একটি অডিও রেকর্ড সেই সময়ে ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। 

সব অভিযোগ অস্বীকার করে সজিবুর রহমান বলেন, ‘অনার্সে স্টাডি বিরতি ছিল। বর্তমানে মাস্টার্স করছি। অডিওতে তো আমার কথা কিছু ছিল না। তখন তো আমি কর্মী ছিলাম।’ 

অর্থনীতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মামুন শাহ। তিনিও নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী। পড়াশোনা শেষ করেছেন ২০২১ সালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪০১৯ নম্বর কক্ষে থাকছেন তিনি। ২০২২ সালে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের পর থেকে ছাত্ররাজনীতিতে বেশ সরব হয়েছেন মামুন। বর্তমানে একটি গ্রুপ পরিচালনা করছেন। মাদক সেবন করে ছাত্রফ্রন্টের কর্মীকে মারধর, টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 

ছাত্রত্ব আছে দাবি করে মামুন শাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬-১২ মাসের বিভিন্ন কোর্স রয়েছে। সেগুলো করে (ছাত্রত্ব) কনটিনিউ (অব্যাহত) রাখছি। তবে আমি নিষ্ক্রিয় নই, পারিবারিক কাজে ছিলাম। ছাত্রফ্রন্টের কর্মীকে মারধরের সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’ 

পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী এবং রাজীব সরকার নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগে বহিষ্কৃত সুমন মিয়া।গত বছর শুরুর দিকে ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি শাহপরান হলের ৪২০ নম্বর কক্ষে থাকছেন। সুমন মিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটির অধীনে একটি কোর্স করছি।’ 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘যাঁরা ক্যাম্পাসে সুশিক্ষার পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তাঁদের নেতৃত্বে আনা হবে। অছাত্র ও বিতর্কিত কেউ কমিটিতে স্থান পাবেন না। কমিটি না থাকায় সম্মেলন হবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর কোনো পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে নয়: ভারতীয় সেনাপ্রধান

ইরানে বিক্ষোভে ১২ হাজার নিহতের খবর, সরকার বলছে ২ হাজার

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু সরাতে বিসিবির সঙ্গে আইসিসির সভা, আসেনি কোনো সিদ্ধান্ত

হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূকে ধর্ষণ: দুই আনসার সদস্য বরখাস্ত

আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত