গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি

‘এই জায়গায় প্রায় ২০ বছর থাকি আছি। আজ সেই জায়গা ছাড়ি চলি যাওয়া লাগেচোল। মনটা যাবার চায়চোল না। বুকটা ফাটি যায়চোল। এখন কোনটে যায়া বউ-বাচ্চা নিয়া থাকিম, বাচ্চাদের কী খাওয়াইম, কেমন করি পড়ালেখা করাইম, কোনটে বাড়ি করি থাকমো? চিন্তায় বাঁচি না। কী যে হইবে হামারগুলার কপালত, আল্লাহ ভালো জানে।’
তিস্তা নদীর ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়ে করুণ কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গঙ্গাচড়ার চর শংকরদহ গ্রামের আব্দুল খালেক।
উপজেলায় খালেকের মতো প্রায় ৫০টি পরিবার চলমান বন্যায় ইতিমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার অন্যের জমিতে ঘর দাঁড় করাচ্ছেন।
উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পশ্চিম ইচলি, চর শংকরদহ, বাগেরহাট, কেল্লারপার ও বিনবিনা গ্রামে তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের হুমকির কারণে লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।
এ সময় কথা হয় পশ্চিম ইচলি গ্রামের শামসুল হুদার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করি তামাক-ভুট্টা বিক্রি করি একটা ঘর তুলছিনুং। অনেক আশা ছিল, চরবাড়িত চাষাবাদ করি বাচ্চাদের পড়ালেখা করানুং হয়। সেই আশা বানের পানি বাসে নিয়া গেল। ১০ বছর থাকি এত কষ্ট করি গাছপালা বড় করি, সে গাছপালা এখন বানের পানি ভাসে দিয়া যাওয়া লাগেচোল। চোখের সামনে কষ্ট করি তৈরি করা বাড়িঘর ভাঙি গেইলে মন মানে? এখন বাগেরহাটে এক আত্মীয়ের বাড়ি নিয়া ঘরের জিনিসপত্র রাখা লাগবে। তারপর দেখি কী করা যায়।’
একেই গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর পানিতে সবকিছু ডুবি গেইছে। হামার থাকার ঘরটাও পানিত গেইছে। মাজার কমিটিক কয়া কবরহাটিত একনা চালা করি একটা নাতিসহ বউ-বেটিক নিয়া আছুং। নাই কোনো খাবার, নাই কিছু। এক সপ্তাহ থাকি কোনো কাজকাম নাই। কীভাবে যে দিনগুলা পার হয়চোল একমাত্র ওপরওয়ালা জানে। সোমবার খালি একনা চাউল দিয়া গেইছে চেয়ারম্যান।’
একই কথা বলেন ইচলি গ্রামের মনোয়ারা বেগম। তিনি জানান, সোমবার বিকেলে পানি এমনভাবে বাড়িতে ঢোকা শুরু করেছিল যে উপায় না পেয়ে বাড়ির সবকিছু নৌকাতে করে নিয়ে বাঁধের ওপর আসছেন।
যোগাযোগ করা হলে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, তার ইউনিয়ের মটুকপুর, উত্তর চিলাখাল, মধ্য চিলাখাল, বিনবিনা, খলাইর চর, শখের বাজার, আবুলিয়া, সাউদপাড়া ও আলেকিশামত গ্রামে প্রায় ৪৫০টি পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, তাঁর ইউনিয়নে বাগেরহাট, পূর্ব ইচলি, পশ্চিম ইচলি ও জয়রামওঝা গ্রামের ৫০০ পরিবার এখনো পানিবন্দী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘৭০০ থেকে ৮০০ পরিবার পানিবন্দী। নতুন করে কেউ পানিবন্দী হয়নি। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের শুকনো খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’
ঘরবাড়ির ভাঙনের শিকার হওয়া বিষয় জানতে চাইলে ইউএনও জানান, ভাঙনের হুমকিতে থাকায় কিছু ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে লোকজন।

‘এই জায়গায় প্রায় ২০ বছর থাকি আছি। আজ সেই জায়গা ছাড়ি চলি যাওয়া লাগেচোল। মনটা যাবার চায়চোল না। বুকটা ফাটি যায়চোল। এখন কোনটে যায়া বউ-বাচ্চা নিয়া থাকিম, বাচ্চাদের কী খাওয়াইম, কেমন করি পড়ালেখা করাইম, কোনটে বাড়ি করি থাকমো? চিন্তায় বাঁচি না। কী যে হইবে হামারগুলার কপালত, আল্লাহ ভালো জানে।’
তিস্তা নদীর ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়ে করুণ কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গঙ্গাচড়ার চর শংকরদহ গ্রামের আব্দুল খালেক।
উপজেলায় খালেকের মতো প্রায় ৫০টি পরিবার চলমান বন্যায় ইতিমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার অন্যের জমিতে ঘর দাঁড় করাচ্ছেন।
উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পশ্চিম ইচলি, চর শংকরদহ, বাগেরহাট, কেল্লারপার ও বিনবিনা গ্রামে তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের হুমকির কারণে লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।
এ সময় কথা হয় পশ্চিম ইচলি গ্রামের শামসুল হুদার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করি তামাক-ভুট্টা বিক্রি করি একটা ঘর তুলছিনুং। অনেক আশা ছিল, চরবাড়িত চাষাবাদ করি বাচ্চাদের পড়ালেখা করানুং হয়। সেই আশা বানের পানি বাসে নিয়া গেল। ১০ বছর থাকি এত কষ্ট করি গাছপালা বড় করি, সে গাছপালা এখন বানের পানি ভাসে দিয়া যাওয়া লাগেচোল। চোখের সামনে কষ্ট করি তৈরি করা বাড়িঘর ভাঙি গেইলে মন মানে? এখন বাগেরহাটে এক আত্মীয়ের বাড়ি নিয়া ঘরের জিনিসপত্র রাখা লাগবে। তারপর দেখি কী করা যায়।’
একেই গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর পানিতে সবকিছু ডুবি গেইছে। হামার থাকার ঘরটাও পানিত গেইছে। মাজার কমিটিক কয়া কবরহাটিত একনা চালা করি একটা নাতিসহ বউ-বেটিক নিয়া আছুং। নাই কোনো খাবার, নাই কিছু। এক সপ্তাহ থাকি কোনো কাজকাম নাই। কীভাবে যে দিনগুলা পার হয়চোল একমাত্র ওপরওয়ালা জানে। সোমবার খালি একনা চাউল দিয়া গেইছে চেয়ারম্যান।’
একই কথা বলেন ইচলি গ্রামের মনোয়ারা বেগম। তিনি জানান, সোমবার বিকেলে পানি এমনভাবে বাড়িতে ঢোকা শুরু করেছিল যে উপায় না পেয়ে বাড়ির সবকিছু নৌকাতে করে নিয়ে বাঁধের ওপর আসছেন।
যোগাযোগ করা হলে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, তার ইউনিয়ের মটুকপুর, উত্তর চিলাখাল, মধ্য চিলাখাল, বিনবিনা, খলাইর চর, শখের বাজার, আবুলিয়া, সাউদপাড়া ও আলেকিশামত গ্রামে প্রায় ৪৫০টি পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, তাঁর ইউনিয়নে বাগেরহাট, পূর্ব ইচলি, পশ্চিম ইচলি ও জয়রামওঝা গ্রামের ৫০০ পরিবার এখনো পানিবন্দী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘৭০০ থেকে ৮০০ পরিবার পানিবন্দী। নতুন করে কেউ পানিবন্দী হয়নি। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের শুকনো খাবার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’
ঘরবাড়ির ভাঙনের শিকার হওয়া বিষয় জানতে চাইলে ইউএনও জানান, ভাঙনের হুমকিতে থাকায় কিছু ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে লোকজন।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫