মাটি বহনের ট্রাক্টরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে চলাচলে ভোগান্তি

চৌদ্দগ্রামের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ ট্রাক্টর। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্যে জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। বাড়ছে ভোগান্তি।
জানা গেছে, ইট কাটার মৌসুম শুরু হলেই বেড়ে যায় ট্রাক্টরের বিরামহীন চলাচল। মাটিবাহী এসব ট্রাক্টরের কারণে বেহাল হয়ে পড়ছে সড়কগুলো। পিচ ও বিটুমিন উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে এসব গর্তে জমছে পানি। চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের। গর্তে যানবাহন আটকে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও। বিশেষ করে উপজেলার শাহ ফখরুদ্দিন সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল। এ জন্য মাটিবাহী ট্রাক্টরকে দুষছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া, ফসিল জমি থেকে মাটি নিয়ে মূল সড়কে ট্রাক্টরের ওঠানামায় ভেঙে যাচ্ছে সড়কের পাশ। ভাঙা অংশে যান চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর ইটকাটার মৌসুম মাত্র শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে পুরোদমে।
শাহ ফখরুদ্দিন সড়কের মুন্সীরহাট ইউনিয়নের যুগিরহাট গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নে ইটভাটার আধিক্য থাকায় শাহ ফখরুদ্দিন সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহন শুরু হয়েছে ব্যাপক হারে।
সরেজমিনে, শাহ ফখরুদ্দিন সড়কে বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর দেখা যায়। ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টরে ভরে পরিবহন করা হচ্ছে ইটভাটায়। অনেক স্থানে সড়ক ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়।
মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ গ্রামের হারুনুর রশিদ জানান, প্রতি বছর এসব ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হয়। কিন্তু বন্ধ হয় না নিষিদ্ধ এ যানের চলাচল। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী নুরুজ্জামান জানান, অবৈধ ট্রাক্টর বন্ধের বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা হয়েছে। খুব শিগগিরই উপজেলা পর্যায়ে আরও একটি সভা করা হবে। প্রথমে সচেতনতা সভা করা হবে। এতেও ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়ে পরবর্তীতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা অবৈধ ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে। কয়েক দিন আগে উপজেলার ঘোলপাশায় বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর আটকের পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।









