Ajker Patrika

বিকল্প কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা লঞ্চশ্রমিকের

নুরুল আমীন রবীন, শরীয়তপুর
আপডেট : ১৩ জুন ২০২২, ০৯: ৪২
বিকল্প কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা লঞ্চশ্রমিকের

নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু। এতে এই পথে চলাচলকারীদের দুর্ভোগের শেষ হতে চলেছে। তবে বিকল্প কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় লঞ্চশ্রমিক, মালিক ও ঘাট ব্যবসায়ীরা।

ঘাট ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নদীপথে যাতায়াতের জন্য ১৯৮৪ সালে খেয়াঘাট হিসেবে শরীয়তপুরের জাজিরায় মাঝিরঘাট স্থাপন করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াতের সুবিধার্থে লঞ্চঘাট স্থাপন করা হয় মাঝিরঘাটে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করা হয় এই ঘাট দিয়ে। বর্তমানে শিমুলিয়া-মাঝিরঘাট নৌপথে ২০টি লঞ্চ ও ৪৪টি স্পিডবোট চলাচল করছে। এসব লঞ্চ ও স্পিডবোটে তিন শতাধিক মানুষ কাজ করেন। লঞ্চে টোল আদায়, ফেরিওয়ালা, মালামাল ওঠানো-নামানো মিলিয়ে রয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ। এ ছাড়া লঞ্চঘাটকে কেন্দ্র করে মাঝিরঘাটে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীর জীবিকা নির্বাহ হয়।

২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হলে বন্ধ হয়ে যাবে এই ঘাটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল। এতে কর্মহীন হয়ে পড়বেন ঘাটনির্ভর ব্যবসায়ী ও লঞ্চমালিকেরা।

নাওডোবার আলামিন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে লঞ্চ থেকে যাত্রীদের মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ করেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের খবরে খুশি তিনি। তবে নিজের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন। আলামিন বলেন, ‘পরিবারে মা ও ছোট বোন রয়েছে। এই কুলিগিরি কইরা সংসার চালাই। লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেলে কী করমু কইতে পারি না। মাছ ধরতে অইব, নয়তো কৃষিকাম করমু।’

লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, জীবন-জীবিকার তাগিদে আরও অনেকেই লঞ্চের যাত্রীদের কাছে খাবার বিক্রি করছেন। ঝালমুড়ি, আচার, কেউ-বা চানাচুর ও পানি বিক্রি করছেন।

পানি বিক্রেতা সালাম শেখ বলেন, ‘২০ বছর ধরে পানি বিক্রি করছি এই লঞ্চঘাটে। সেতু চালু হলে যাত্রীরা আর এই ঘাটে আসবেন না। তখন কী করব জানি না। ভিটেমাটি ছাড়া আর জমিও নেই যে চাষাবাদ করে খাব। সরকার যদি একটা ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে আমরা দুই বেলা খেতে পারতাম।’

মাঝিরঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তফা মৃধা বলেন, ‘তিন মাস হইছে জমিন বেইচ্চা খাওনের হোটেল দিছি। আগে চাষাবাদ কইরা খাইতাম। বয়স অইছে, রইদের মধ্যে আর খেতে কাম করতে পারি না।’

লঞ্চের টোল কাউন্টারের ইলিয়াস শেখ বলেন, ‘আমাদের রোদে পুড়ে খাটাখাটনি করা কিংবা বোঝা টানার অভ্যাস নেই। এই বয়সে এসে এখন চাষাবাদ করে খেতে হবে।’

লঞ্চমালিক লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘যৌথ মালিকানায় আমার সাতটি লঞ্চ রয়েছে। এসব লঞ্চে ৪৯ জন শ্রমিক কাজ করেন। একেকটি লঞ্চে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার টাকা আয় হয়। শুধু লঞ্চমালিকই নন, বিপদে পড়েছেন লঞ্চের কেরানি, সুকানিসহ অন্য কর্মচারীও। তাই সরকারের বিকল্প নৌপথ চালু করা উচিত।’

মাঝিরঘাটের ইজারাদার মোকলেছ মাদবর বলেন, ‘লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০ হাজার যাত্রী পারাপার হয়। এই ঘাটকে কেন্দ্র করে মাঝিরঘাট এলাকার গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পদ্মা সেতু চালু হলে এই নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের খ্রিষ্টীয় নববর্ষের বাণী প্রত্যাহার করেছে বিএনপি

এনইআইআর চালু করায় বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর

‘আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে আসেন, দায়দায়িত্ব আমাদের’

কাজী নজরুলের ‘বিদায় বেলায়’ কবিতায় দাদিকে স্মরণ জাইমা রহমানের

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে মোবাইল ফোনের শুল্ক ও কর কমাল সরকার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত