Ajker Patrika

সজীব থাক শীতের ত্বক

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২১, ১২: ৩০
সজীব থাক শীতের ত্বক

বেতারে বিজ্ঞাপন শোনা যেত একসময়, ‘হে নানা, শীত আসিলে পা ফাটিলে, শরীর চড়চড় করিলে, বুলে দে এর প্রতিকার কী?’ এটি খুব বিখ্যাত বিজ্ঞাপন ছিল একটি পেট্রোলিয়াম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের। শীত যখন আসে, আমাদের ত্বককে পরিবেশের দুটো জিনিসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয়। একটি হচ্ছে তাপমাত্রা, অন্যটি আর্দ্রতা। শীতে এ দুটোই কমে যায়। প্রকৃতির সে প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। সে জন্য এই মৌসুমে আর্দ্রতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক, আসে নিষ্প্রাণ ভাব, ত্বক চড়চড় করে।

যা করবেন, যা করবেন না ত্বকের পরিচর্যায় প্রথমে আসে ত্বকের ধরন। সাধারণত শুষ্ক, তৈলাক্ত ও স্পর্শকাতর ত্বকের কথা জানি। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা চুলের রং, চোখের আইরিশ ও ত্বকের টোনের ওপর নির্ভর করে ত্বকের ৬টি ধরনের কথা বলে থাকেন। সেগুলো হলো টাইপ ১, ২, ৩। এ টাইপের ত্বক একটু বেশি সাদা। টাইপ ৪, ৫ হলো বাদামি ত্বক, যা সাধারণত আমাদের দেশে দেখা যায়। আর ৬ হলো একটু কালো ত্বক। এই ত্বক সাধারণত আফ্রিকা অঞ্চলে দেখা যায়।

টাইপ ১, ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে ত্বক পোড়ে বেশি, তবে ট্যান (কালো দাগ বা পোড়া ভাব) কম হয়। আর আমাদের ত্বকের ট্যান বেশি হয়, পোড়ে কম। শীত এলে প্রথম ভয় থাকে ত্বক নিস্তেজ ও কালো হয়ে যাওয়া। এ জন্য এ সময় অনেক বেশি ব্লিচিং বা লাইটেনিং উপাদান ব্যবহার করা হয়। এতে শীতের শেষে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ত্বকে ব্রণ বা র‍্যাশের সমস্যা দেখা যায়। অথবা পোস্ট ইনফ্লামেটরি হাইপার পিগমেন্টেশন দেখা দেয়।

যেকোনো ধরনের ত্বকের জন্য দরকার বছরমেয়াদি এসপিএফ রুটিন। এসপিএফ রুটিন বলতে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই নয়; বরং দিনে ঘরে বা বাইরে যাওয়ার জন্য যে পণ্যগুলো ব্যবহার হয়, যেমন বিবি ক্রিম বা বিভিন্ন ভ্যানিশিং ক্রিম, সেগুলোয়ও এসপিএফ থাকতে হবে। শীতকাল বলে এসপিএফযুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না, সেটি ভুল হবে। কারণ, শীতেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বলিরেখা ও সান বার্ন দুটোই সমানতালে করতে থাকে। আমরা এসপিএফ ও সানস্ক্রিনের সঙ্গে বেশি পরিচিত। বাদামি ত্বক ৪ ও ৫ নম্বর ধরনের, সেখানে এসপিএফ ৩০ ও ৫০ পর্যন্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য এমন পণ্য ব্যবহার করবেন, সেটি সানস্ক্রিন হোক বা ময়েশ্চারাইজার, বয়সের গতি রোধ করাই হবে যার মূল কাজ।

আর্দ্রতা ধরে রাখতে যা করবেন শীতকালে ত্বক একটু বেশি শুষ্ক হয়। যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। প্রথমত, ত্বকে যদি তেলসমৃদ্ধ ক্লিনজার ব্যবহার করা হয়, তাহলে ত্বকে বাড়তি আর্দ্রতা দেখা দেবে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের ত্বকে লিপিড নামে একটি পদার্থ থাকে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করে। শীতকাল এলে লিপিড নষ্ট হতে থাকে। তাই শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম জেলি, ফেসিয়াল অয়েল, সেরামাইড, লিপিডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

ঠোঁটের ত্বক একটু পাতলা। অক্সিজেনেশনের অভাবে শীতকালে ঠোঁট অনেকটা কালো হয়ে যায় এবং ঠোঁটের চামড়া উঠে যায়। নারীরা শীতে কিছু না কিছু ব্যবহার করেন ত্বক ভালো রাখার জন্য। কিন্তু পুরুষেরা তেমন কিছু ব্যবহার করেন না বলে তাঁদের ত্বকের সমস্যা বেশি হয়। ঠোঁটের যত্নে সবারই লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁট কোনোভাবে শুষ্ক রাখা যাবে না। ঘরের বাইরে থাকার সময় এসপিএফ ১৫ যুক্ত কোনো লিপ বাম বা চ্যাপস্টিক বা লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে।

ত্বক সজীব রাখতে যা খাবেন কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শীতেও আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল। মাছ, ডিম, মিষ্টিআলু, মিষ্টিকুমড়া, গাজর, অলিভ অয়েল, বাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভিটামিন সিযুক্ত খাবার, যেমন কমলা, মাল্টা, বাতাবিলেবু ত্বককে কোমল রাখে, শরীর ডিটক্স করতে সাহায্য করে। ত্বকের রুক্ষতা এড়াতে নারকেল, নারকেলের দুধ ও তেল খেতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য নারকেল মিরাকল ফুড হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিন গোসল করা শরীরের জন্য ভালো। এতে উদ্বেগ কমে, ঘুমও ভালো হয়। ২০১৮ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন গোসল করে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুস্থ্য থাকে। তাদের মানসিক চাপ কমায়, প্রদাহ বা ব্যথা থেকে দূরে রাখে।

  • তবে শীতে গোসলের সময় কিছু বিষয়ে লক্ষ রাখা উচিত।
  • শীতে ৫ থেকে ১০ মিনিট গোসল করাই যথেষ্ট।
  • গোসল করেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না। নয়তো ত্বক ফেটে যাবে। সরিষার তেল, অলিভ অয়েল বা লোশন ব্যবহার করতে পারেন।
  • মাথায় গরম পানি না ঢালাই ভালো।
  • পারলে ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। এতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে, শরীরও গরম থাকবে। রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

লেখক: চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, শিওর সেল মেডিকেল বাংলাদেশ

 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত