Ajker Patrika

আমরা আর মামুরা

সম্পাদকীয়
আমরা আর মামুরা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পিএস-১-এর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণারঅভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। পিএস ভদ্রলোক নাকি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন আর তাতে মজে গিয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা। তিনি দুই বছর ধরে মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়ে এসেছেন পিএসকে।

খবরটি গোলমেলে। আমাদের স্বাভাবিক ভাবনায় ঘটনাটির তল পাওয়া যাচ্ছে না। এটা যে কোনো সভ্য সমাজের ঘটনা, তা ভাবতেই ভয় হচ্ছে।

একজন মানুষ তাঁর যোগ্যতাবলে চাকরি পাবেন। কিন্তু এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে যোগ্যতার থেকে ‘যোগাযোগ’ কখনো কখনো চাকরি পাওয়ার মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে চাকরি হওয়ার নজির কম নয়। সেখানে যোগ্যতার চেয়ে পরস্পরের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার মূল্য অনেক বেশি। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত না হওয়ার একটা বড় কারণ হলো, যোগ্য মানুষকে চাকরি না দিয়ে ‘আমরা আর মামুরা’ মিলে প্রতিষ্ঠান চালানোর চেষ্টা করা হয়। সেই আলোচনা আরেক দিন করা যাবে। এই নির্দিষ্ট ব্যাপারটি নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে হয়, কেউ চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাবে আর সেই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে গাঁটের পয়সা খরচ করে তাঁকে ঘুষ দেওয়া হবে? কেন এই ছাত্রলীগ নেতা নিজের যোগ্যতা বিবেচনা না করে চাকরি ‘বাগাতে’ চাইছেন মাছ-মাংস, পোশাক-আশাক ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করে? তিনি যে সংগঠনের নেতা ছিলেন, সেই সংগঠন তাহলে তাঁর কাছ থেকে কী শিখবে? তিনি ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়ার ধান্দা করছেন—সেটাই কি প্রমাণ হয় না?

অন্যদিকে উপাচার্যের পিএসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটাও কম ভারী নয়। তিনি নাকি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন পদে চাকরি দিচ্ছেন। তিনি নাকি এই ছাত্রলীগ নেতাকে বলেছিলেন, চাকরির জন্য কোনো ঘুষ দিতে হবে না। আর তার ওপর ভিত্তি করেই সম্ভবত ‘ঘুষ’-এর জন্য জমানো টাকায় কেনা হয়েছে মাছ-মাংস-পোশাক-আশাক!’

এই দীনতা ক্ষমা করার যোগ্য নয়। জানি, নতুন কিছু বলছি না। এ ঘটনাটি আমাদের জানিয়ে দেয়, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়ে ‘লাইন ঘাট’ করে কোথাও চাকরি পাওয়াটাই এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যখন যার হাতে ক্ষমতা থাকে, তখন তাকে চিনে নিতে হয়। এরপর সেই চেনাজানার সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ার পরিমাণ কী হতে পারে, তা নিশ্চিত হতে হয়। আর তখনই মেলে সোনার হরিণ।

সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার চাকরিবৃত্তান্ত আইসবার্গের উপরিতলমাত্র। একটু এদিক-ওদিক কান পাতলেই চাকরি পাওয়ার নানা অভিনব গল্প শোনা যাবে। যিনি চাকরি দেবেন, তিনি কী পাবেন তা বিবেচনা করবেন আর যিনি চাকরি পাবেন, তিনি কিসের বিনিময়ে পাবেন, এটাই যদি চাকরির মূল শর্ত হয়ে যায়, তাহলে দেশটা কোন দিকে চলে যাবে, সেটা কি কেউ ভাবতে পারছেন? ‘আমরা আর মামুরা’ মিলে আর যা-ই হোক, একটি যোগ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে হয় না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চট্টগ্রামে ‘দুষ্কৃতকারী’র তালিকায় সাবেক মন্ত্রী–মেয়র, আ.লীগ–বিএনপি নেতা, আছেন চিন্ময় কৃষ্ণও

চট্টগ্রামে হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলা নিয়ে যা বললেন বিএনপি প্রার্থী

শৈত্যপ্রবাহ বইতে পারে কয়েক দিন, কোথায় জানাল আবহাওয়া অফিস

আমি না বললে এখান থেকে বের হতে পারবেন না, স্যার— ম্যাজিস্ট্রেটকে রুমিন ফারহানা

গভর্নরের মুখের কথায় ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিএসআরের টাকা ঢালতে অস্বস্তি, প্রজ্ঞাপন চান ব্যাংকাররা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত