Ajker Patrika

ঢাকায় দুর্যোগপূর্ণ মাত্রায় বায়ুদূষণ, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সাভারে সবচেয়ে বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ঢাকায় দুর্যোগপূর্ণ মাত্রায় বায়ুদূষণ, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সাভারে সবচেয়ে বেশি
ছবি: আজকের পত্রিকা

গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তর এক পরিপত্রের মাধ্যমে ঢাকার সাভার এলাকাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে। দেশে প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়, বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫ অনুযায়ী, কোনো এলাকার বায়ুমান নির্দিষ্ট মানমাত্রা অতিক্রম করে মারাত্মক দূষিত এলাকায় পরিণত হলে এলাকাটিকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা যাবে।

ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষিত এলাকায় এখন দূষণের মাত্রা দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সাভারের হেমায়েতপুরের বাতাস দুর্যোগপূর্ণ মাত্রায় দূষিত। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ৬৬৭।

এলাকাটিকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পর সেখানে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও অবস্থার পরিবর্তন দেখা যায়নি। বেশকিছু দিন ধরেই এলাকাটির বাতাস খুব অস্বাস্থ্যকর থেকে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় আছে।

এমনকি আজ ঢাকাও বিশ্বের দূষিত শহর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। আইকিউএয়ারের সকাল ৮টার রেকর্ডে দেখা যায়, আজ ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ৩৩২, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বাতাসের নির্দেশক।

রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র‍্যাংকিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার আরও কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর থেকে খুব অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। সাভারের হেমায়েতপুরের পাশাপাশি খিলক্ষেতের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেডের বাতাসও আজ দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

র‍্যাংকিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, বেজ এজওয়াটার আউটডোর, শান্তা ফোরাম, সাগুফতা, দক্ষিণ পল্লবী, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম বিল্ডিং।

ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।

আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— পাকিস্তানের লাহোর (২৬৬, খুব অস্বাস্থ্যকর), ভারতের দিল্লি (২২২, খুব অস্বাস্থ্যকর), ভারতের কলকাতা (১৮৯, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও আফগানিস্তানের কাবুল (১৮৬, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর)।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।

দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।

বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত