Ajker Patrika

বছরের সেরা পাখি হলো বিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে আসা ‘ব্ল্যাক রবিন’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বছরের সেরা পাখি হলো বিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে আসা ‘ব্ল্যাক রবিন’
পৃথিবীর বিরলতম ‘ব্ল্যাক রবিন’ পাখি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বিরল পাখি হিসেবে পরিচিত ছিল নিউজিল্যান্ডের ব্ল্যাক রবিন। বিলুপ্তির দ্বার থেকে অসাধারণ এক সংরক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে ফিরে আসা ছোট্ট এই পাখিটিই এবার জিতেছে নিউজিল্যান্ডের ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতা। রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় ১ লাখ ৫ হাজার ভোট পড়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ব্ল্যাক রবিনের আবাসস্থল নিউজিল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জ। মাওরি ভাষায় পাখিটির নাম কাকারুইয়া, আর চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী মরিওরি ভাষায় এর নাম কারুরে। কালো পালক, কালো চোখ এবং সরু কালো ঠোঁটের কারণে পাখিটিকে স্নেহ করে নিউজিল্যান্ডের পাখিজগতের ‘গথ’ও বলা হয়।

আবাসস্থল ধ্বংস এবং বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর প্রাণীর আক্রমণে একসময় দ্রুত কমতে থাকে এদের সংখ্যা। ১৯৭০-এর দশকে পৃথিবীতে ব্ল্যাক রবিনের সংখ্যা নেমে আসে মাত্র পাঁচটিতে। শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল একটি মাত্র প্রজননক্ষম জুটি—‘ওল্ড ব্লু’ ও ‘ওল্ড ইয়েলো’।

এরপর শুরু হয় অভিনব সংরক্ষণ কর্মসূচি। অন্য প্রজাতির পাখিকে পালক মা হিসেবে ব্যবহার করে ব্ল্যাক রবিনের ডিম ফোটানোর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পাখিটির সংখ্যা। বর্তমানে চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৩৫০টি পূর্ণবয়স্ক ব্ল্যাক রবিন রয়েছে। তবে এখনো এটি ‘বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্টের মুখপাত্র জেস ম্যাকেঞ্জি বলেন, পাখিটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও গত কয়েক বছর প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচে থাকার পরও কখনো শিরোপা জিততে পারেনি।

তবে সংরক্ষণবিদদের মতে, ব্ল্যাক রবিন এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এর আবাসস্থলের ধারণক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। পাখিটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার জন্য আরও একটি কীটপতঙ্গ ও শিকারিমুক্ত দ্বীপ প্রয়োজন।

সংরক্ষণ সংগঠন ‘ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড’ ২০ বছর আগে ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতা শুরু করে। নিউজিল্যান্ডের বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় পাখিদের প্রতি মানুষের মনোযোগ বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।

এবার দ্বিতীয় হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী তোতা কাকাপো, আর ২০২৫ সালের বিজয়ী নিউজিল্যান্ডের একমাত্র ফ্যালকন কারেয়ারাহ হয়েছে তৃতীয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত