সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক বলছে, রাজধানীর কিছু এলাকার বাতাস শিশু ও বৃদ্ধদের মতো সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান-বারিধারা এলাকা।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) আইকিউএয়ারের সকাল ৮টা থেকে ৯টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বে সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৬। আর ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ৭৭, যা বিশুদ্ধ বাতাসের নির্দেশক।
তবে রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সহনীয় থেকে সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৩২, যা সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
র্যাঙ্কিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে—বারিধারার পার্ক রোড, বারিধারা লেকসাইড, উত্তর বাড্ডা, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), ধানমন্ডি, গোড়ান ও গুলশান ২-এর রব ভবন।
ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।
বিশ্বজুড়ে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রেটয়েটে। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ২২১, যা খুব অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— ইরাকের বাগদাদ (১৭৫, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন (১৬৯, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৭, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা ভারতের কলকাতা (১৬৩, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর)।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।
বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়
অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।
সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।
যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।
ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারী জেলায় ডিমলায়, যার পরিমাণ ছিল ১২৯ মিলিমিটার। এ সময় সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে ৯৯ মিলিমিটার।
১ ঘণ্টা আগে
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে কম, মাঝারি বা ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই প্রবণতা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। আজ শুক্রবারের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় আজ অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা
১৫ ঘণ্টা আগে
শ্রাবণের দ্বিতীয় দিনের গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে বৃষ্টি কিছুটা কম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হয়েছে সিলেটে ৩৫ মিলিমিটার। তবে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে আকাশ রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু আর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে ওঠায়...
১ দিন আগে
উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
২ দিন আগে