শরীরের জন্য উপকারী ‘নীল অপরাজিতা ফুলের চা’—এই তথ্য এখন মোটামুটি অনেকের জানা। নীল চা বা ব্লু টি নামে পরিচিত সম্পূর্ণ ক্যাফেইনমুক্ত হারবাল এই চা তৈরি হয় নীল অপরাজিতা ফুল থেকে। এই চায়ে থাকা পলিফেনলস ও ফ্লাভোনয়েড যৌগ লিভার এনজাইমের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে লিভারের সুরক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করে এই চা। চঞ্চলতা ও হতাশা কাটানোর এক দারুণ ওষুধ অপরাজিতার চা।
অপরাজিতা ফুল নীল ছাড়াও সাদা, হালকা বেগুনি, হলুদ ও লাল রঙের হয়ে থাকে। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের একটি ফুল। গাঢ় নীল অপরাজিতা ফুলকে নীলকণ্ঠ ফুল নামে চেনেন অনেকে। অপরাজিতা আমাদের অনেক পরিচিত হলেও ফুলটি ভারতীয় উপমহাদেশে আসে মূলত মালাক্কা দ্বীপ থেকে। মালাক্কা দ্বীপ বা টারনেট থেকে এসেছে বলে এ ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্লিটোরিয়া টারনেটিয়া। সব রঙের অপরাজিতার বৈজ্ঞানিক নাম একই। ক্লিটোরিয়ার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় যোনি পুষ্প। এই ফুলের আকৃতির জন্য এমন নাম। ভারতের কেরালায় অপরাজিতা ফুলের নাম শঙ্খপুষ্পী।
ইংরেজিতে নীল অপরাজিতা এশিয়ান পিজিয়ন উইংস, ব্লুবেল ভাইন, ব্লুপি, বাটারফ্লাই পি, কর্ডোফোন পি এবং ডারউইন পি নামে পরিচিত। ফুলটি গাঢ় নীল রঙের। কিন্তু এর নিচের দিক এবং ভেতরে সাদা, কখনো একটু হলদে আভাযুক্ত হয়ে থাকে। প্রকৃতিতে দুর্লভ প্রজাতির দ্বৈত পাপড়ির অপরাজিতা ফুলও দেখতে পাওয়া যায়। এই ফুল দেখলে মনে হয় যেন গাছের গায়ে প্রজাপতি বসে আছে। এ জন্য এই ফুলকে প্রজাপতিসম পুষ্পও বলা হয়।
অপরাজিতা ফুলের গাছটি লতানো এবং সবুজ পাতাবিশিষ্ট। পাতার গঠন উপবৃত্তাকার। পূর্ণাঙ্গ একটি ফুলগাছ ঝোপের মতো হয়ে যায় এবং প্রায় সারা বছর ফুল ফোটে। দীর্ঘজীবী এ গাছটি প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এতে অনেক বেশি ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস থাকে বলে এর ঔষধি গুণাবলিও অনেক। নীল অপরাজিতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে বলে এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে সহযোগিতা করে। অপরাজিতায় থাকা স্যাপোনিন ও ফ্লাভোনোয়েড যৌগ অ্যাজমা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন। এটি মানবদেহে ফ্রি রেডিক্যাল তৈরিতে বাধা দেয়, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি স্মৃতিশক্তি বর্ধক হিসেবে কাজ করে বলে আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। নীল অপরাজিতা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড, কোলেস্টেরল ও এলডিএল কমানোর মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে থাকে।
নীল অপরাজিতা ফুল ছাদবাগান বা স্বাভাবিক বাগানে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। সুন্দর রং ও গঠনে সবার নজর কাড়ে এই ফুল। প্রায় সারা বছরই নীল অপরাজিতা ফুল ফোটে। এর শাখা-প্রশাখা অল্প সময়ে ছড়ায় অন্যান্য রঙের অপরাজিতা থেকে। এর ফুল, পাপড়ি, মূল ও লতা বিভিন্ন রকম ভেষজ চিকিৎসায় বহুকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। নীল অপরাজিতা রোদে শুকিয়ে পানিতে একটু জ্বাল দিলেই নীল রঙের চা তৈরি হয়। এই চায়ে লেবুর রস দিলে গাঢ় নীল রং ধারণ করে। এর পাতা, মূল ও লতা বেটে রস খাওয়া যায়। অপরাজিতার পাতার রস লবণের সঙ্গে মিশিয়ে কানব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ
প্রকৃতি সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে, বর্তমানে জলবায়ু-সংক্রান্ত সবচেয়ে আলোচিত শব্দবন্ধ হলো ‘এল নিনো’। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও...
১০ ঘণ্টা আগে
বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে হবে।
১৪ ঘণ্টা আগে
প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। এর ফলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে বলে গতকাল মঙ্গলবার সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। একই সঙ্গে, এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ
২ দিন আগে
আকাশ থেকে টগবগ করা সূর্য যেন চোখ রাঙাচ্ছে। প্রখর রোদে পুড়ছে সারা দেশ। ৬৪ জেলার মধ্যে ৪১টি তাপপ্রবাহের কবলে। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য চলছে হাহাকার।
২ দিন আগে