Ajker Patrika

উৎসবে চলচ্চিত্র

সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁকোটা দুলছে’

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা
সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁকোটা দুলছে’
‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত মনোজ প্রামাণিক। মনপাচিত্র নামের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আছে তাঁর। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এবার মনোজের প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা জায়গা করে নিল ২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে মনপাচিত্র থেকে নির্মিত ‘সাঁকোটা দুলছে’। সিনেমাটির ইংরেজি নাম ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’।

সাঁকোটা দুলছে চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ। এটি নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্র। মনপাচিত্রের সঙ্গে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে জার্মানির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোগাদর ফিল্মস। চলচ্চিত্রটি গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর গল্প অনুসরণ করে এগিয়ে গিয়েছে, যারা কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখে। জীবনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক মোড়ের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত একজন অন্ধ তরুণী তার স্বপ্নের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় এবং এক রহস্যময় হাতির মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়।

সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার ভিত্তিতে কাব্যিক চলচ্চিত্রভাষায় উপস্থাপন করেছে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম, নিশাত তাসনিম প্রমুখ।

সিনেমার অ্যাসোসিয়েট প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। এ ছাড়া কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে আছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির।

পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। সেই বাস্তবতা থেকেই এই চলচ্চিত্রের জন্ম।’

প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক বলেন, ‘এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।’

সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ারের পর চলচ্চিত্রটি বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। পরবর্তী সময়ে এটি বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত