Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

আমি যা চেয়েছি তাই হতে পেরেছি: আ খ ম হাসান

আমি যা চেয়েছি তাই হতে পেরেছি: আ খ ম হাসান

তিন দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন আ খ ম হাসান। বিশেষ করে কমেডি চরিত্র রূপায়ণে জুড়ি নেই তাঁর। সম্প্রতি তিনি নাম লিখিয়েছেন ওয়েব কনটেন্টে। ‘তাজমহল’ ও ‘লাইফলাইন’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে চমকে দিয়েছেন, প্রশংসায় ভাসছেন দর্শকদের। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ

এক মাসের ব্যবধানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেল আপনার অভিনীত দুটি ওয়েব ফিল্ম—তাজমহল ও লাইফলাইন। কেমন অনুভূতি?

ওটিটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা হলো, যাঁরা ভিন্ন ধরনের কাজ দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি।

বেশির ভাগ সময়ে হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয় করলেও তাজমহলের ভুনা ভাই ও লাইফলাইনের আক্কাস আলী চরিত্র দুটি একেবারেই ভিন্ন। আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল?

প্রস্তুতি সেভাবে নেওয়া হয়নি। চিত্রনাট্যটা আমার ভালো লেগেছে। সেটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমার শিকড় হচ্ছে মঞ্চ। সেখানে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের চর্চা করতে হয়। নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছি।

ওয়েব ফিল্ম দুটি মুক্তির পর আপনাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার অভিনয় নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে...

তাঁরা আমাকে এভাবে দেখে অভ্যস্ত নন। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয়নি। যেটা মঞ্চে হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শক মঞ্চনাটক দেখেন। কিন্তু ইউটিউবের নাটক সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছায়। সেখানে দর্শক আমাকে কমেডি চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত। তাই হয়তো ওটিটিতে আমাকে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখে তাঁরা নড়েচড়ে বসেছেন, আশ্চর্য হয়েছেন। মঞ্চের মানুষেরা কিন্তু আমার এ ধরনের অভিনয়ের সঙ্গে পরিচিত। সেখানে সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতাম। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় আমাকে যে চরিত্রের জন্য ডাকা হয়, সেই চরিত্রেই অভিনয় করতে হয়।

একই রকম চরিত্রে বারবার ডাকা হচ্ছে। এ নিয়ে কখনো আক্ষেপ হয়েছে?

এখন তো ভিউর বাণিজ্য। কমেডিবেজড নাটকগুলোর ভিউ প্রচুর হয়। তাই হাস্যরসাত্মক চরিত্রে বারবার ডাকা হয়। এটা মূলত বাণিজ্যিক কারণে। ভিন্ন ধরনের চিত্রনাট্য না এলে আমার কিছু করার থাকে না।

এত দিন কেন আপনাকে ওটিটিতে পাওয়া গেল না? বিশেষ কোনো কারণ আছে?

নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। আগেও ওটিটির প্রস্তাব এসেছে। চরিত্রগুলো গতানুগতিক ছিল। তাই করিনি। ইচ্ছা ছিল ওটিটিতে ভিন্ন কিছু করার। কারণ, ইউটিউব আর ওটিটি এক নয়। ওটিটিতে সিনেমার একটা ছোঁয়া আছে। খুব গুছিয়ে, যত্ন নিয়ে কাজ হয়। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ভালো করার তাগিদ থাকে। তাই আউটপুট ভালো হয়।

তাজমহল ও লাইফলাইনের সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

লাইফলাইনের নির্মাতা কাজী আসাদ আমার মঞ্চনাটক দেখেনি। কিন্তু সে যখন মিটিংয়ে ডাকল, দেখলাম প্রতিটি চরিত্রের অভিনয়শিল্পীর নামের পাশে অবলিগ দেওয়া আছে। কেবল আক্কাস আলী চরিত্রে একা আমার নাম। সে বলল, এ চরিত্রে আপনাকে নিয়ে কাজ করতে চাই। অন্যদিকে, আমার প্রতি ওয়াহিদ আনামের দৃষ্টিভঙ্গি বরাবর আলাদা। সে সব সময় আমাকে বলে, আপনাকে দিয়ে যে চরিত্রগুলো করানো হচ্ছে, সে অভিনেতা আপনি না। দুই নির্মাতার এমন ভিন্ন চিন্তাভাবনার কারণেই কাজ করা হলো।

কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা কি সহজ?

সবার পক্ষে কমেডি করা সম্ভব না। এক ফ্রেম যদি এদিক-সেদিক হয় তাহলে এটা কমেডি হবে না, কদমা হবে। হাসির বদলে মানুষ বিদ্রূপ করবে। আমার পেশা অভিনয়। তাই অভিনয়টা আমাকে করতেই হবে—আমার জন্য, পরিবারের জন্য, দর্শকদের জন্য। কমেডি নাটকে অভিনয় করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছি। তবে ভিন্নধর্মী কাজগুলো করতে না পেরে আক্ষেপও করেছি। এর মাঝেও কিছু সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘গন্তব্য চুনখালী’, ‘ভিলেজ ইঞ্জিনিয়ার’সহ আরও কিছু নাটক আছে।

মঞ্চে সময় দিতে পারছেন?

আমি আরণ্যক নাট্যদলের সদস্য। প্রোডাকশনের সঙ্গে সব সময় থাকতে না পারলেও কোনো অনুষ্ঠান থাকলে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। তবে মঞ্চে অভিনয় মিস করি। বিশেষ করে ‘রাঢ়াঙ’ নাটকটি। এখানে আমার আর চঞ্চল চৌধুরীর একটা যুগলবন্দী আছে। আমাদের জুটিটা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে অন্য কেউ হলে আমরা দুজনের কেউ সিঙ্ক করতে পারি না। অথচ, যেকোনো কারণেই হোক, এটা আমরা একসঙ্গে করতে পারছি না। আমার খুব ইচ্ছা হয় চঞ্চলের সঙ্গে রাঢ়াঙে অভিনয় করতে।

সাধারণত থিয়েটার করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসে না। এমন বাস্তবতার মুখে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিশ্চয় ঝুঁকিপূর্ণ ছিল? সেই বাস্তবতায় নিজেকে কতটা সফল মনে করেন?

প্রচণ্ড ঝুঁকি ছিল। আমি, মোশাররফ করিম, জয়রাজ, শামীম জামানসহ আমাদের সময়ে যারা থিয়েটার চর্চা শুরু করি, তখন অর্থনৈতিকভাবে কোনো বেনিফিট পাইনি আমরা। সে সময় আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ছিল না। ধূম্রজালের মধ্য দিয়ে গেছি। কী করলে কী হবে কিছুই ভাবিনি। থিয়েটারেই বুঁদ হয়ে ছিলাম। আমাদের মধ্যে এত বেশি থিয়েটার প্রেম ছিল যে অন্য কিছু মাথায় আসেনি। অভিনয় ভালোবাসতাম, সেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়েছি, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। যা চেয়েছি তাই হতে পেরেছি। আমার জীবনে যা অর্জন তার পুরোটাই অভিনয় দিয়ে।

সম্প্রতি আর কী কাজ করলেন?

‘আলাল দুলাল’ ও ‘কাপ নিয়ে কাঁপাকাঁপি’ নামের দুটি নাটক মুক্তি পেয়েছে। কয়েকটি ধারাবাহিকে কাজ করছি। ওটিটি নিয়ে কথা চলছে। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে এ নিয়ে কথা বলা নিষেধ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত