বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেকেরই। সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধাগুলোর একটি অর্থের সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, আবাসন, খাবার, বইপত্র—সব মিলিয়ে বিদেশে পড়াশোনার খরচ অনেক শিক্ষার্থীর নাগালের বাইরে চলে যায়। তবে অর্থের সীমাবদ্ধতা যেন শিক্ষার পথে শেষ কথা না হয়, সে জন্য রয়েছে বিভিন্ন বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ। সমস্যা হলো, যোগ্যতা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী জানেন না কোথায় এসব বৃত্তির খবর পাওয়া যায়।
কেউ শুধু পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে খোঁজেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর করেন। অথচ বৃত্তি খোঁজার জন্য রয়েছে বেশ কিছু নির্দিষ্ট ও নিয়মিত আপডেট হওয়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে স্কলারশিপস ডটকম, বোল্ডডট ওআরজি এবং জেএলভি কলেজ কাউন্সেলিং শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য তিনটি ওয়েবসাইট। তবে এগুলোর উদ্দেশ্য ও ব্যবহার এক নয়। তাই বৃত্তির খোঁজ করার আগে কোন প্ল্যাটফর্ম কীভাবে কাজে লাগবে, সেটি জানা জরুরি।
বৃত্তি খোঁজার ক্ষেত্রে স্কলারশিপস ডটকম দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সাল থেকে তারা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি খুঁজে পেতে সহায়তা করছে এবং ২৬ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী ও পরিবার তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে। ওয়েবসাইটটিতে শিক্ষার্থীর বিষয়, জিপিএ, বয়স, আর্থিক প্রয়োজন, শিক্ষাবর্ষ, বসবাসের রাজ্য, খেলাধুলা, শিল্পকলা, সামরিক সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন মানদণ্ড অনুযায়ী বৃত্তি খোঁজার সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী নিজের প্রোফাইল তৈরি করে তাঁর যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৃত্তিগুলো খুঁজে নিতে পারেন। ওয়েবসাইটের বর্তমান সার্চ পেজে ৩.৭ মিলিয়নের বেশি স্কলারশিপ ও গ্র্যান্ট এবং প্রায়
১৯ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তার তালিকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—স্কলারশিপস ডটকম মূলত স্কলারশিপ সার্চ ও ম্যাচিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা, আবেদনের পদ্ধতি ও চূড়ান্ত আবেদনস্থল আলাদা হতে পারে। তাই কোনো সুযোগ দেখলেই আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট বৃত্তির মূল ওয়েবসাইট ও শর্ত যাচাই করা উচিত।
বৃত্তি খোঁজার আরেকটি প্ল্যাটফর্ম বোল্ডডট ওআরজি। এর বিশেষত্ব হলো, এখানে বিভিন্ন দাতা ও প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে তৈরি বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। ওয়েবসাইটটিতে নতুন বৃত্তির সুযোগ নিয়মিত প্রকাশিত হয় এবং শিক্ষার্থীর প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে সুযোগ দেখানো হয়। এখানে গ্র্যাজুয়েট স্কুল স্কলারশিপ, নো এসেই স্কলারশিপ, মেরিট-বেসড স্কলারশিপ, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপসহ বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি রয়েছে। কিছু বৃত্তিতে রচনা বা নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন হলেও কিছু সুযোগে এসেই বা রচনা না-ও থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বোল্ডডট ওআরজির অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী বৃত্তিতে আবেদন করার জন্য কোনো ক্রয় বা পরিশোধের প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিটি বৃত্তির নিজস্ব যোগ্যতার শর্তাবলি অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ওয়েবসাইটটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বোল্ড ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয় এবং প্ল্যাটফর্মটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে ব্যবহারের কথা জানায়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে একটি বড় সতর্কতা রয়েছে। বোল্ডডট ওআরজির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, তাদের খোলা ৪৬০টি এক্সক্লুসিভ স্কলারশিপের তালিকা ইউএস স্টুডেন্ট অনলি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই না করে আবেদন করা উচিত নয়।
জেএলভি কলেজ কাউন্সেলিংয়ে নিয়মিত বিভিন্ন বৃত্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০২৬ সালের একটি সাম্প্রতিক ‘স্কলারশিপ স্যাটারডে’ তালিকায় একসঙ্গে ৩৪টি বৃত্তির তথ্য দেওয়া হয়েছিল। এই তালিকায় সাধারণত বৃত্তির নাম, অর্থের পরিমাণ, আবেদনের শেষ তারিখ এবং কারা আবেদন করতে পারবেন—এ ধরনের প্রাথমিক তথ্য দেওয়া হয়। তবে সাইটটি নিজে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বৃত্তির মূল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত ‘এলিজিবিলিটি অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন রিকয়ারমেন্টস’ যাচাই করতে উৎসাহিত করে। ফলে জেএলভি কলেজ কাউন্সেলিংকে সরাসরি আবেদন করার জায়গার চেয়ে নতুন বৃত্তির খবর খোঁজার একটি ডিসকভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
কোনো বৃত্তির পোস্ট দেখে সরাসরি আবেদন বা কাউকে টাকা পাঠানোর আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি। প্রথমত, অফিশিয়াল স্কলারশিপ পেজ খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর দেশ বা জাতীয়তার শর্ত দেখতে হবে। তৃতীয়ত, ডিগ্রি লেভেল, জিপিএ, বিষয় এবং বয়সের যোগ্যতা মিলিয়ে নিতে হবে। চতুর্থত, অ্যাপ্লিকেশন ফি আছে কি না যাচাই করতে হবে। সবশেষে ডেডলাইন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবার পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা’ কথাটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব বৃত্তি যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে বৃত্তি খুঁজে আবেদন করলেই কাজ শেষ নয়। নিয়মিত সার্চ করা, যোগ্যতা যাচাই করা, ডেডলাইন লিখে রাখা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখা উচিত।

‘মম, এমনভাবে পড়বে যেন পত্রিকায় আসে। পত্রিকায় না আসলে হবে না।’ ভাগনের এই কথাটিই ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন
২ ঘণ্টা আগে
নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাবারিটা বিচ ও হেস্টিংস পয়েন্টে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের (ইউকিউবিডিএ) বার্ষিক পিকনিক ২০২৬। সম্প্রতি দিনব্যাপী এ আয়োজনে ইউকিউবিডিএর সদস্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের প্রায় ৭৫ জন অংশ নেন।
২ ঘণ্টা আগে
কোনো নীতি কাগজে সুন্দর দেখালেই তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নীতিমালাটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, কত ব্যয় হবে, কারা উপকৃত হবে এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের বোঝা কার ওপর পড়বে—এসব বিষয়ও বিবেচনা জরুরি...
১৫ ঘণ্টা আগে
নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ইতিমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে