
দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন; কিন্তু একটিতেও সুযোগ পাননি। সেই ব্যর্থতার বেদনাই তার হয়ে উঠেছিল জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। আর সেই শিক্ষা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো আজকের আসিফ মোক্তাদির বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া অফার পেয়েছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও। তাঁর এই অনুপ্রেরণাদায়ী যাত্রার গল্প শুনেছেন মো. মনিরুল ইসলাম।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সন্তান আসিফ মোক্তাদির। তাঁর বাবা মোক্তাদির হোসেন ও মা জান্নাতুল ফেরদৌসের সন্তান তিনি। ছোটবেলা তাঁর কেটেছে ভীষণ দুষ্টামিতে। তার আড়ালেই ছিল এক গভীর পড়ুয়া মন। আসিফ মোক্তাদিরের মা বললেন, ‘ওকে পড়ালেখা করার জন্য কখনো ধমক দিতে হয়নি। তবে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার প্রতি ওর ছিল ভীষণ আগ্রহ।’
শৈশব ও পড়াশোনা
আসিফ মোক্তাদিরের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হয় রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলে। মৌলভীবাজার জেলায় চালু থাকা ‘নির্ঝর বৃত্তি পরীক্ষা’য় তিনি ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করেন। তৃতীয় শ্রেণিতে দশম, পঞ্চমে নবম এবং সপ্তম শ্রেণিতে অষ্টম স্থান লাভ করেন। পাশাপাশি সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে বড়লেখা উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পাথারিয়া ছোটলিখা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ প্লাস অর্জন করে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভর্তির সুযোগ পান জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যর্থ
কৈশোর থেকে আসিফের স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া। তবে জীবনের পরিকল্পনা সব সময় নিজের মতো এগোয় না। এইচএসসি শেষে পারিবারিক কারণে মেডিকেল প্রস্তুতি না নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ঝুঁকে পড়েন।
ঢাকায় এসে কোচিং করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে (আইইউটি)।
কিন্তু সুযোগ হয়নি কোনোটিতে। এই ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি; বরং নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি জুগিয়েছে।
দ্বিতীয়বারে ঘুরে দাঁড়ানো
প্রথম ব্যর্থতার পর আসিফ সিলেটে ফিরে নতুন করে প্রস্তুতি নেন। সেই চেষ্টার ফল—শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও
বায়োটেকনোলজিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ।
এরপরই জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তিন সেমিস্টার শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ পান এবং ভর্তি হন বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে।
হতাশা থেকে সাফল্যের উত্থান
নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। প্রথম সেমিস্টারে আসিফের জিপিএ ছিল ২ দশমিক ৬৭। তবে তিনি থেমে থাকেননি। অদম্য পরিশ্রম ও দৃঢ় মানসিকতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী তিন সেমিস্টারে অর্জন করেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড। বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে মেজর ও কেমিস্ট্রিতে মাইনর সম্পন্ন করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
চিকিৎসা, উদ্যোগ ও নেতৃত্ব
স্নাতক পর্যায়ে আসিফ ‘ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট’ পেশা সম্পর্কে জানতে পারেন। নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সম্পন্ন করেন মাস্টার্স অব সায়েন্স ইন ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট স্টাডিজ। বর্তমানে তিনি একটি প্রাইমারি কেয়ার ক্লিনিকে সেবা দিচ্ছেন। শুধু চিকিৎসক হিসেবেই নয়, উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। ‘অ্যাচিভ’ নামে একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করে। পাশাপাশি ‘রেফারাল অ্যাসিস্ট’ নামের একটি ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যা রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে সহায়তা করে।
লেখালেখিতেও স্বতন্ত্রতা
লেখালেখিতেও রয়েছে আসিফের স্বতন্ত্র উপস্থিতি। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘সম্ভাবনার দেশে স্বপ্নজয়’ এবং ‘আমেরিকার বৃত্তান্ত’। বইগুলোতে তিনি অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম, বাস্তবতা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
স্বপ্নের শীর্ষে হার্ভার্ড
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আসিফ উপলব্ধি করেন, শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়া যথেষ্ট নয়, বৃহত্তর পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে কাজ করা। এই লক্ষ্যেই আবেদন করেন কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব, দুটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন ভর্তির প্রস্তাব। হার্ভার্ডে তিনি পড়বেন স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ে। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রান্তিক ও অভিবাসী জনগোষ্ঠী সমান সুযোগ পায়।
স্বীকৃতি ও অর্জন
আসিফ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস কর্পস (এনএইচএসসি) স্কলারশিপ এবং মাদার ক্যাব্রিনি হেলথ স্কলারশিপ, যার মোট মূল্য প্রায় ৫০ হাজার ডলার। এই অর্জনগুলো প্রমাণ করে, আসিফ মোক্তাদিরের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে নিবেদিত এক অঙ্গীকার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
সভাপতি পদে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মঈদ বাবুল ২৮৫ ভোট পেয়েছেন। অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার অফিসের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান তোজাম্মেল হক তোজাম ৩২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
উপমহাদেশে শিক্ষার ইতিহাসে কিছু প্রতিষ্ঠান সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী কলেজ তেমনই এক গৌরবময় নাম। কলেজটি অতীতের সংগ্রাম, ঐতিহ্যের গৌরব আর আধুনিকতার স্পর্শে গড়ে উঠেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
‘বই হচ্ছে মস্তিষ্কের সন্তান’—বিখ্যাত এই উক্তি আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় লেখক জনাথন সুইফটের। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি আর মেধার বিকাশ ঘটে। মানসিক প্রশান্তি, আত্মিক উৎকর্ষ এবং জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রেও বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
৮ ঘণ্টা আগে