Ajker Patrika

ড্যাফোডিলে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর

শিক্ষা ডেস্ক
ড্যাফোডিলে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর
ড্যাফোডিলে শেষ হলো দুই দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর । ছবি: সংগৃহীত

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘জেএমসি মিডিয়া বাজ’-এর সপ্তম আসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের আয়োজনে এবং ইয়ামাহার পৃষ্ঠপোষকতায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং’। উৎসবে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মশালা, প্যানেল আলোচনা, স্পটলাইট পিচ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘ন্যাশনাল ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’-এর বিষয় ছিল ‘এনভায়রনমেন্ট অব বাংলাদেশ’। প্রতিযোগিতায় প্রথম হন চট্টগ্রামের তাজিম উদ্দিন, দ্বিতীয় পটুয়াখালীর মো. ইমরান পারভেজ এবং তৃতীয় হন মো. রাকিবুল হাসান। বিচারক ও আলোচক হিসেবে ছিলেন ফটোগ্রাফার ও ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট সুদীপ্ত সালাম এবং ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব ফটোগ্রাফি মো. মাহমুদ জামান অভি। পর্বটি সঞ্চালনা করেন ফটোগ্রাফার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

প্রথম দিনে অভিনেত্রী, মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের তত্ত্বাবধানে ‘সিকিউরিং ইউর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইনে দায়িত্বশীল উপস্থিতি বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য নিউ এরা অব অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ইন দ্য এইজ অব এআই’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা ও ‘ইয়ামাহা প্রেজেন্টস দ্য স্পটলাইট পিচ’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচক ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম ফারহান চৌধুরী এবং অ্যাপলবক্স ফিল্মস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্মাতা পিপলু আর. খান।

আলোচনায় নাজিম ফারহান চৌধুরী বলেন, কনটেন্ট দেখার ধরন আরও বৈচিত্র্যময় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হচ্ছে, যা ব্র্যান্ডগুলোর সামনে নির্দিষ্ট ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

পিপলু আর. খান বলেন, আগামী কয়েক বছরে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পে রূপ নেবে।

ডিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বলেন, ‘মিডিয়া পেশাজীবীদের জন্য শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যবহারিক দক্ষতাও’। তাঁর মতে, এ আয়োজন শিক্ষা ও গণমাধ্যমশিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি পেশাদারত্ব, নৈতিকতা ও নেটওয়ার্কিংয়ের চর্চাকে উৎসাহিত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. লিজা শারমীন বলেন, জেএমসি মিডিয়া বাজের শুরু থেকেই তিনি যুক্ত আছেন। সপ্তম আসরে এসে আয়োজনটি একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আয়োজকদের অভিনন্দন জানান।

জেএমসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আব্দুল কাবিল খান বলেন, পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। আলোকচিত্র, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের মতো সময়োপযোগী বিষয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উৎসবের সমাপ্তি ঘটে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত গ্র্যান্ড কনসার্টের মধ্য দিয়ে। এতে সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আর্বোভাইরাস’ ও ‘আফটারম্যাথ’।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন এবং গণমাধ্যমশিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত জেএমসি মিডিয়া বাজের সপ্তম আসরে দুই দিনজুড়েই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত