Ajker Patrika

ববি উপাচার্যের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার দিনই র‍্যাগিংয়ে নাজেহাল অর্ধশত শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ববি উপাচার্যের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার দিনই র‍্যাগিংয়ে নাজেহাল অর্ধশত শিক্ষার্থী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফাইল ছবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা র‌্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভোলা রোডে নির্মাণাধীন বিটাক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। ১৫ জুলাই বিকেলে ঘটনাটি ঘটলেও জানাজানি হয় গতকাল শুক্রবার রাতে। একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একদল শিক্ষার্থী এ ঘটনায় জড়িত বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। র‌্যাগিংয়ের সময় নবীন শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হলে এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে ১৫ জুলাই নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ র‌্যাগিংয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সরদার কায়সার আহমেদ জয় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের কাছেও মৌখিকভাবে এমন খবর এসেছে। খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, কিছু শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছে। এটা ৫০ অথবা তার কমও হতে পারে। তবে ১৫ জুলাই নবীন বরণের পর ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু একটা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। আগামী রোববার ক্যাম্পাসে গিয়ে অধিকতর তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরদার কায়সার আহমেদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে জড়িত সন্দেহে ২০২৪-২৫ শিক্ষার্থীদের কাউকে কাউকে ফোনে সতর্ক করা হয়েছে।’

জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে আইন বিভাগের ওই শিক্ষার্থীরা সিনিয়রদের হয়রানির মুখে পড়েন। এটি চলেছে ৪-৫ ঘণ্টা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, নবীন শিক্ষার্থীরা তাঁদের গোপন মেসেঞ্জার গ্রুপে সম্প্রতি সিনিয়রদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। সেই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা তাঁদের।

ভুক্তভোগী একাধিক নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, র‌্যাগিংকালে ক্যাম্পাসের কুকুর দেখলেও তাদের সালাম দিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে নিষেধ করার পাশাপাশি হুমকি ও গালমন্দ করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ঘড়ি কেড়ে নিয়ে তাঁদের আটকে রাখা হয়।

কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনা শিক্ষকদের জানালে কোনো বিচার হবে না এবং ক্যাম্পাসজীবন দুর্বিষহ করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে আমাদের সিনিয়ররা খুবই ভালো ব্যবহার করেছেন এবং আপ্যায়ন করেছেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে নির্মাণাধীন একটি পাঁচতলা ভবনে ৪-৫ ঘণ্টা মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে একজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন কান্নাও করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে শাসানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। রোববার ক্যাম্পাসে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারব।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘অভিযোগ দেওয়া না হলে কী করার আছে বলেন। এর আগে গণিত বিভাগে সমস্যা হয়েছিল, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

উপাচার্যের ঘোষণার দিনই র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরাও এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত