ঈদ মানে আনন্দের রঙে ভরা দিন, ঈদ মানে উল্লাস আর উৎসবের মিলনমেলা। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সকালে ঈদের নামাজ আদায় করার পর কোলাকুলি এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবমুখর দিন। চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে নতুন পোশাক নিয়ে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে ঈদের মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে বিশেষ, স্মৃতিমধুর। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শৈশবের সেই মধুর ঈদের স্মৃতিচারণা করেছেন। গ্রন্থনা করেছেন তানজিল কাজী

পায়েসের মিষ্টি ঘ্রাণে ঘুম ভাঙত
লিমা আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
স্কুলজীবনে আমাদের ঈদের আনন্দ শুরু হতো দিন গোনার মধ্য দিয়ে। নতুন জামার ভাঁজ আর নতুন মচমচে নোটের সালামিতেই আনন্দ লুকিয়ে থাকত। চাঁদরাতের প্রতীক্ষা ছিল অন্য রকম অনুভূতি। কার আগে কে ঈদের চাঁদ দেখতে পায়, সেটিই ছিল প্রতিযোগিতার মতো আনন্দ। ভোরে মায়ের হাতে রান্না করা সেমাই আর পায়েসের মিষ্টি ঘ্রাণে ঘুম ভেঙে যেত। নতুন জামা পরে বাবা-ভাইয়ের সঙ্গে ঈদগাহের দিকে ছুটতাম। নামাজ শেষে শুরু হতো পাড়ার মানুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর হাসি। ছোট ছোট সেই মুহূর্তই ঈদের আনন্দকে বিশেষ করে তুলত।

ঝলমলে জামা আর হাসিমুখ
আবদুল্লাহ আল নোমান, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ঈদ মানেই নতুন জামার সুবাস, মায়ের হাতে রান্না করা সেমাইয়ের ঘ্রাণ আর বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত। স্কুলজীবনে ঈদের আগের দিনটি ছিল একরকমের আলাদা উৎসব। সবার মধ্যে হাসি-আনন্দ আর গল্পের আসর। কে কী জামা পরবে, কোথায় কোথায় ঘুরবে, কার কার সঙ্গে দেখা হবে—এসব নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে চলত প্রাণবন্ত আলোচনা। ঈদের সকালে নতুন জামা পরে নামাজে যাওয়ার আনন্দে শুরু হতো দিন। এরপর পথে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা হলে শুভেচ্ছা বিনিময়। বিকেলে সালামির টাকা গোনা, সন্ধ্যায় ছাদে রঙিন আতশবাজি দেখার মুহূর্ত। ছোট ছোট সেই স্মৃতি শৈশবের ঈদকে উজ্জ্বল ও স্মরণীয় করে রাখে।

ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে উচ্ছ্বাস
তাসনিম আক্তার কনা, ঢাকা সিটি কলেজ
ঈদের চাঁদরাত মুসলমানদের জীবনে এক অবিস্মরণীয় আনন্দের মুহূর্ত। এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন আকাশে চাঁদ দেখা যায়, তখন সবার মধ্যে অন্য রকম আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি সাজানো, সেমাই-পায়েস তৈরি, শেষ মুহূর্তের টুকটাক কেনাকাটা—এই সবকিছু আনন্দঘন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও শুভেচ্ছা বিনিময় চলে। পুরো শহর যেন উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়। ছোট থেকে বড়—সকলে এই মুহূর্তগুলোতে হাসি, মজা ও ভালোবাসা ভাগাভাগি করে। এই রাত হয়ে ওঠে আনন্দ, ব্যস্ততা ও উচ্ছ্বাসে ভরা স্মরণীয় সময়। আর ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, মেহেদি দিয়ে উৎসব রঙিন করে তোলা।

হাসি, আনন্দ আর অগুনতি স্মৃতি
ইশরাত জাহান হাফসা, ফরিদপুর
ছোটবেলার ঈদ মানে এক অন্য রকম আনন্দের দুনিয়া। কৌতূহল, সরল উচ্ছ্বাস, ছোট ছোট প্রতিযোগিতা। কার আগে ঘুম ভাঙবে, ঈদের শুভেচ্ছা জানাবে, মেহেদির রং কার গাঢ় হবে—সবই আনন্দের অংশ। নতুন জামা পরে আয়নার সামনে নিজেকে দেখে দেখে সাজানো, সালামিতে নোট পাওয়ার উদ্দীপনা ছিল এক অন্য রকম আনন্দ। ঈদগাহে যাওয়ার প্রস্তুতি, নামাজের পর আশপাশের দোকান ও খেলনা—সবকিছু আকর্ষণীয় মনে হতো। মিষ্টিমুখ করা, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা—সব মিলিয়ে আনন্দের সীমা ছিল না। এই স্মৃতিগুলো ছোটবেলার ঈদকে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় হিসেবে মনে রাখে।

স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে সোনালি মুহূর্ত
সামিউল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, মিলন ও ভালোবাসার আনন্দ। ছোটবেলার ঈদ মানে স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো উচ্ছ্বাসময় সময়। নতুন জামা পরে নামাজ শেষে বন্ধুদের খোঁজে বের হওয়া; পাড়ার মাঠ, রাস্তার মোড় বা স্কুলের সামনে সবাই জড়ো হওয়া; হাসি-ঠাট্টা, কোলাকুলি, সালামি ও ছোট ছোট গল্প ভাগ করার মাধ্যমে দিনটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। ফুটবল খেলা, হাঁটাহাঁটি, বন্ধুদের বাড়িতে সেমাই-পিঠা—সব মুহূর্তই প্রিয়। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, তবে ঈদ এলেই সেই সোনালি স্মৃতিগুলো ফিরে আসে—বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর একসঙ্গে কাটানো সেসব মুহূর্ত জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালের ইরাসমাস মুন্ডাস ডব্লিউওপি-পি বৃত্তির আবেদন শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
১ দিন আগে
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন থানায় একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং, র্যাগিং ও ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও ডিজিটাল নজরদারির আওতাভুক্ত শিক্ষাবা
২ দিন আগে
বাংলাদেশ সরকার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার-আরআরআরসি সহযোগিতায় ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ১ হাজার ১০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষককে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এই প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সরাসরি পাঠদানে যুক্ত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে...
২ দিন আগে
এটি একটি পাইলট কর্মসূচি, যা জুলাই থেকে শুরু হবে। প্রথমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে সারা দেশের আটটি বিভাগে সম্প্রসারণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো হবে। পরে মাদ্রাসা ও ইবতেদায়ি প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসবে...
২ দিন আগে