Ajker Patrika

আগামীর শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি হতে হবে বহুমুখী

পল্লব শাহরিয়ার
আগামীর শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি হতে হবে বহুমুখী

সময় বদলেছে, বদলেছে পড়াশোনা, কাজের ধরন এবং জীবনের লক্ষ্যও। একসময় ভালো ফলই ছিল শিক্ষার্থীর প্রধান সাফল্য। এখন সে ধারণা আর যথেষ্ট নয়। ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের সামনে অপেক্ষা করছে এমন এক বিশ্ব, যেখানে জ্ঞান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দক্ষতা, মানসিক স্থিতি ও অভিযোজন ক্ষমতাও সমান প্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি হতে হবে বহুমুখী। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাস্তবজীবন, প্রযুক্তি ও মানবিক গুণাবলির সমন্বয়েই গড়ে উঠবে টেকসই ভবিষ্যৎ।

লক্ষ্য নির্ধারণেই শুরু

শিক্ষাজীবনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো লক্ষ্য নির্ধারণ। কোন বিষয়ে পড়তে আগ্রহ, কোন পেশায় যেতে চাই—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নেওয়া জরুরি। স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে পড়াশোনার দিকনির্দেশনা পরিষ্কার হয়; অযথা চাপও কমে। ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ প্রয়োজন। এতে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

বইয়ের বাইরের দক্ষতা এখন অপরিহার্য

বর্তমান বিশ্বে চাকরি বা ক্যারিয়ার আর শুধু সনদের ওপর নির্ভর করে না, দক্ষতাই হয়ে উঠেছে মূল চাবিকাঠি। তাই শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনায় থাকতে হবে:

  • তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতা।
  • প্রোগ্রামিং ও ডেটা বিশ্লেষণের প্রাথমিক ধারণা।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা।
  • যোগাযোগ ও উপস্থাপন দক্ষতা।

পাশাপাশি ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতের সুযোগকে আরও বিস্তৃত করে।

অনলাইন শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি

অনলাইন শিক্ষার বিস্তার শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিশ্বের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের কোর্স এখন হাতের নাগালে। ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের উচিত সঠিক অনলাইন কোর্স বেছে নিয়ে নিয়মিত শেখার অভ্যাস গড়ে তোলা। তবে শুধু কোর্স সম্পন্ন করাই নয়, শেখা বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাস্তব অভিজ্ঞতা গড়ে তোলে আত্মবিশ্বাস

শুধু বইয়ের জ্ঞান অনেক সময় বাস্তব জীবনে যথেষ্ট হয় না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। এসব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বোঝাতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়।

মানসিক সুস্থতাও পরিকল্পনার অংশ

বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ একটি বড় সমস্যা। পড়াশোনা, প্রতিযোগিতা ও প্রত্যাশার চাপ অনেক সময় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনায় মানসিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে। নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এ সবই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

নিয়মিত মূল্যায়ন ও সংশোধন

পরিকল্পনা স্থির কোনো বিষয় নয়। সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন বদলায়, বদলায় লক্ষ্যও। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা। কোথায় উন্নতি দরকার, কোথায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, তা বুঝে পরিকল্পনায় সংশোধন আনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সর্বোপরি, ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি মানে শুধু ভালো ফল নয়; বরং একজন দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। সময়োপযোগী পরিকল্পনা, দক্ষতা অর্জন ও মানসিক সুস্থতার সমন্বয়ই পারে শিক্ষার্থীদের আগামীর পথে এগিয়ে নিতে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত