Ajker Patrika

যে কারণে সরে দাঁড়াতে চান ঢাবি উপাচার্য

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৪৯
যে কারণে সরে দাঁড়াতে চান ঢাবি উপাচার্য
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ঢাবি উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিয়মিত রাজনৈতিক সরকারকে নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজানোর সুযোগ দিতে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার বা সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘একটি আপৎকালীন সময়ে আমি দেশ ও জাতির স্বার্থে ছাত্রদের অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এখন আর সেই আপৎকালীন নাজুক পরিস্থিতি নেই। তাই আমি উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। একই সঙ্গে ডেপুটেশনে নিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে আমি আমার মূল পদ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফিরতে চাই। এ জন্য উপাচার্য পদ থেকে বিভাগে ফিরতে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বরাবর চিঠি লিখব।’

ঢাবি উপাচার্য জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দায়িত্ব নেন একটি বিশেষ ও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল, প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানো। প্রায় দেড় বছর পর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখনো সীমাবদ্ধতা আছে, তবে সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। আপৎকালীন পরিস্থিতি আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি।’

উপাচার্য জানান, তিনি কখনোই এ দায়িত্বকে নিয়মিত চাকরি হিসেবে দেখেননি। উপাচার্যের দায়িত্বটি তাঁর কাছে ছিল একটি আমানতের মতো। ছাত্রদের অনুরোধ ও ভালোবাসায় তিনি এ দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

নিজের সরে দাঁড়াতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে তারা যেন নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে, এটাই আমি চাই, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিক এবং আমরা তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করব।’

দায়িত্বকালে অর্জনের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে, হল সংসদগুলো কার্যকর হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি হয়েছে, টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ২০০ ধাপ উন্নতি, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এ ছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে উপাচার্য জানান, ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, যা আবাসন, একাডেমিক ভবন ও গবেষণা অবকাঠামোর ঘাটতি অনেকটাই কমাবে।

উপাচার্য জানান, তিনি সরকারকে দ্রুত তাঁর ডেপুটেশন প্রত্যাহার করে মূল শিক্ষকতার দায়িত্বে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করবেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘অনেক দিন কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন।’

এর আগে দুপুর ১২টার পর জরুরি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হলে তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। তবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

এদিকে ঢাবি উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন—বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

বিকেল ৫টার দিকে পাঠানো এক বার্তায় মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পদত্যাগ করেননি ঢাবি উপাচার্য, কিছু গণমাধ্যমে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করার পক্ষে তিনি নন। এ কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তিনি রাজি আছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের ৩ দিন যান চলাচলে বিধিনিষেধ, ভোট দিতে যাবেন কীভাবে

এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে শেষ মুহূর্তে ইশতেহার ঘোষণা জামায়াত নেতার

নেত্রকোনায় চার ভোটকেন্দ্রসহ পাঁচ বিদ্যালয়ে আগুন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ৮৪ আসনে সহিংসতার শঙ্কায় পুলিশ

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম, স্কোর বাড়লেও এক ধাপ অবনমন: টিআইবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত