Ajker Patrika

বই থেকে শেখা

সব পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই

সাব্বির হোসেন
সব পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই

​আধুনিক জীবনে ইঁদুর দৌড়ে আমরা প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠি। সাফল্য, খ্যাতি আর অন্যের স্বীকৃতির পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলে যাই নিজেদের আসল পরিচয়। অথচ জেই শেঠির বিখ্যাত বই ‘থিংক লাইক আ মংক’ আমাদের শেখায়, কীভাবে সন্ন্যাসীর মতো চিন্তা করে এই কোলাহলপূর্ণ পৃথিবীতেও প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। চলুন, বইটির নির্যাস থেকে নেওয়া জীবন বদলানো কিছু দর্শন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

​আমরা নিজেদের কীভাবে দেখি? বইটিতে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক কথা বলা হয়েছে—‘আপনি নিজে যা ভাবেন আপনি তা নন। অন্যরা আপনার সম্পর্কে যা ভাবেন, আপনি তাও নন। বরং আপনি হলেন তাই, যা আপনি মনে করেন যে অন্যরা আপনাকে ভাবছে।’ এই জটিল চিন্তা থেকে বের হতে না পারলে আমরা আজীবন অন্যের কাল্পনিক প্রত্যাশা পূরণেই ব্যস্ত থাকব। ​

কর্মের দর্শন ও উদ্দেশ্য (ধর্ম)

​জীবনের উদ্দেশ্য কী? লেখক বলছেন, আপনার প্রাকৃতিক দক্ষতা এবং বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা যখন একবিন্দুতে মেলে, তখনই আপনি আপনার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা ‘ধর্ম’ খুঁজে পান। ​তবে বড় কিছু অর্জনের জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন। বীজ রোপণের পরদিনই যেমন ফল পাওয়া যায় না, সফলতার ক্ষেত্রেও তা-ই। আর এই যাত্রায় ফলের আশা ত্যাগ করে কাজের প্রক্রিয়ার ওপর মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, ব্যর্থতা মানে হেরে যাওয়া নয়, এটি কেবল একটি ইঙ্গিত যে আপনাকে অন্য পথে চেষ্টা করতে হবে। জীবন তখনই সার্থক হয়, যখন আপনি অন্যের উপকারে আসতে পারেন। জীবনের মূল লক্ষ্যই হলো সেবা।

​মানসিক প্রশান্তি ও ক্ষমা

​মনের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ বা বিষ আমাদের শান্তি কেড়ে নেয়। ক্ষমা করা মানে অন্য ব্যক্তির কাজকে সমর্থন করা নয়; বরং নিজেকে সেই বিষ থেকে মুক্ত করা। পাশাপাশি যা হারিয়েছে তা নিয়ে আফসোস না করে, যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হতে শেখা। কৃতজ্ঞতাই সুখী হওয়ার সহজতম উপায়। ​অতীত নিয়ে অনুশোচনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিই দুঃখের মূল কারণ।

​মন ও চিন্তার নিয়ন্ত্রণ

​চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চিন্তাই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে জোর করে দূর না করে সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে শিখুন। আর যখনই খুব অস্থির বা উত্তেজিত বোধ করবেন, তখন গভীর শ্বাস নিন। আপনার নিশ্বাসই মনকে শান্ত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই; মাঝেমধ্যে নীরবতা বজায় রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

​একাকিত্ব বনাম নির্জনতা

​আমরা একা থাকতে ভয় পাই, কিন্তু একা থাকা মানেই একাকিত্ব নয়। নির্জনতা (Solitude) হলো নিজের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের ভেতরকে চেনা। নিজের মূল্য নির্ধারণের চাবিকাঠি অন্যের হাতে দেবেন না। আপনি ভেতর থেকে যেমন, সেটিই আপনার আসল সম্পদ।​

সম্পর্ক ও পরিবেশ

​আপনি যে ধরনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবেন, আপনার চিন্তাধারাও ঠিক তেমন হয়ে উঠবে। তাই ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকা জরুরি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অনেক বড় গুণ। দিনের শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সকালটা যেভাবে শুরু হবে, সারা দিন সেভাবেই কাটবে। তাই দিনের শুরুটা হোক গঠনমূলক কোনো কাজের মাধ্যমে।​

সন্ন্যাসীর মতো চিন্তা করার অর্থ এই নয়, সংসার ত্যাগ করে বনে চলে যেতে হবে। এর অর্থ হলো, সংসারে থেকেও মোহমুক্ত থাকা, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা। আজ থেকেই এই ছোট ছোট পরিবর্তন নিজের জীবনে আনতে শুরু করুন, দেখবেন জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর ও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত