
বর্তমান বিসিএস পরীক্ষাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে একটি বিষয় এখন অনেকটাই স্পষ্ট—‘আগে প্রিলি, পরে লিখিত’ ধরনের প্রচলিত প্রস্তুতি কৌশল এখন আর যথেষ্ট কার্যকর নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিসিএস পরীক্ষাগুলোর কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য তুলনামূলক খুব কম সময় পাওয়া যায়। ফলে শুরু থেকে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিসিএস প্রিলি ও লিখিত প্রস্তুতি একসঙ্গে নেওয়ার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ৪৫তম বিসিএসের কাস্টমস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ আল নোমান।
বাংলা সাহিত্যের প্রস্তুতি অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই শুধু তথ্যভিত্তিক মুখস্থবিদ্যার মতো মনে হয়। অথচ এটিকে যদি সাহিত্যপাঠ ও বোধগম্যতার জায়গা থেকে দেখা যায়, তাহলে প্রস্তুতি অনেক বেশি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। প্রিলিমিনারির জন্য গাইড বই পড়ার পাশাপাশি লিখিতের বাংলা সাহিত্য অংশের যেকোনো মানসম্মত বই থেকে বিস্তারিত প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। সাহিত্য বিশ্লেষণভিত্তিক বই ও গ্রন্থসমালোচনামূলক আলোচনা এ ক্ষেত্রে কার্যকর সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলোর গ্রন্থসমালোচনা কয়েকবার পড়ে ফেললে তা প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা—তিন ক্ষেত্রেই উপকার দেয়। কারণ সাহিত্যকর্ম, চরিত্র, উদ্ধৃতি ও ঘটনাবলি মনে থাকলে এমসিকিউ যেমন সহজ হয়, তেমনি লিখিত পরীক্ষায় বিশ্লেষণধর্মী উত্তরও সমৃদ্ধ হয়। ভাইভা বোর্ডেও সাহিত্যভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেওয়া যায়।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পড়ার জন্য হুমায়ুন আজাদের লাল নীল দীপাবলি একটি চমৎকার সূচনা হতে পারে। বইটি শুধু তথ্য দেয় না; ভাষা ও বর্ণনার সৌন্দর্যে সাহিত্যপাঠকে উপভোগ্য করে তোলে। পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসির বাংলা বোর্ড বইয়ের গল্প, কবিতা, নাটক ও উপন্যাসও বিসিএস প্রস্তুতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলা ব্যাকরণে কার্যকর কৌশল হতে পারে আগে লিখিত বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ বানানরীতি, পদ, বাক্যশুদ্ধি, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, শব্দগঠন ও প্রবাদ-প্রবচনের মতো বিষয়গুলো লিখিতের জন্য ভালোভাবে পড়া থাকলে প্রিলির এমসিকিউ অনেক সহজ হয়ে যায়। অর্থাৎ ব্যাকরণকে আলাদা দুটি অংশ হিসেবে না দেখে একই প্রস্তুতিকে দুইভাবে ব্যবহার করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থীর জন্য ইংরেজির সবচেয়ে অবমূল্যায়িত দক্ষতা হচ্ছে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং। অনেকে প্রস্তুতির শুরুতে গ্রামার ও ভোকাবুলারি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু নিজের ভাষায় সুসংহতভাবে লিখতে পারার দক্ষতা গড়ে তোলেন না। অথচ বর্তমান লিখিত পরীক্ষার বড় অংশই পরোক্ষভাবে এই দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামার ও ভোকাবুলারি হচ্ছে ভিত্তি, তবে পরীক্ষার হলে নিজের ভাষায় সংগঠিতভাবে লিখতে পারাটাই মূল দক্ষতা। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় হলো—পড়ার অভ্যাস, অনুবাদচর্চা এবং নিয়মিত লেখা।
ইংরেজি পত্রিকা ও আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিয়মিত পড়লে ভোকাবুলারি, সেন্টেন্স স্ট্রাকচার ও অ্যানালিটিক্যাল থিংকিং একসঙ্গে উন্নত হয়। পড়ার সময় নতুন শব্দ, ফ্রেজও ভালো সেন্টেন্স প্যাটার্ন নোট করে রাখা কার্যকর হতে পারে। বাংলা টু ইংরেজি এবং ইংরেজি টু বাংলা ট্রান্সলেশন প্র্যাকটিস; ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর উপায়। বর্তমানে বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে নিজের অনুবাদ যাচাই করা আরও সহজ হয়েছে। তবে ভাষার যথাযথ সৌন্দর্য ও শব্দের সাংস্কৃতিক ব্যবহার বুঝতে বাংলা পড়ার অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে প্রতিদিন অল্প হলেও ইংরেজিতে লেখার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। নিউজ পেপার এডিটরিয়াল, চলমান ঘটনা কিংবা নিজের ভাবনা ইংরেজিতে লিখে অনুশীলন করা যেতে পারে। এতে ধীরে ধীরে অ্যানালিটিক্যাল রাইটিংয়ের সক্ষমতা তৈরি হয়। বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ সফল ক্যাডার আলাদা করে ইংরেজি লিখিতের প্রস্তুতি নেন না। কারণ নিয়মিত পড়া ও লেখার অভ্যাস থেকে সেই দক্ষতা তৈরি হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক বিসিএস সিলেবাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজ্ঞান, আইসিটি, গণিত ও মানসিক দক্ষতা অংশকে শুরু থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রিলিতে
এখান থেকে উল্লেখযোগ্য নম্বর থাকলেও লিখিতে এর পরিধি আরও বিস্তৃত। যাঁদের গণিতের বেসিক দুর্বল, তাঁরা সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড বই থেকে ভিত্তি পরিষ্কার করতে পারেন। এরপর লিখিতমুখী গণিত চর্চা করলে প্রিলির গণিত স্বাভাবিকভাবেই ম্যানেজেবল হয়ে যায়। সায়েন্স ও আইসিটির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আলো, শব্দ, চৌম্বকত্ব, অম্ল-ক্ষার-লবণ, খাদ্য ও পুষ্টি, রোগ ও স্বাস্থ্য, জৈবপ্রযুক্তি ও আইসিটি—এই টপিকগুলো প্রিলি ও লিখিত একসঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ার
জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, সরকারব্যবস্থা, ভূগোল, জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের মতো টপিক গভীরভাবে পড়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সংবিধান এখন শুধু অনুচ্ছেদভিত্তিক এমসিকিউতে সীমাবদ্ধ নেই; ভেতরের ব্যাখ্যামূলক অংশ থেকেও প্রশ্ন আসছে। ফলে বুঝে বুঝে পড়ার বিকল্প নেই। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে কনসেপচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং দিন দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাওয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটি, ডিপ্লোম্যাসি, ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনস, ক্লাইমেট ডিপ্লোম্যাসি, জিওপলিটিক্স কিংবা ট্রেড ওয়ারের মতো বিষয়গুলো শুধু তথ্যভিত্তিক নয়; বিশ্লেষণধর্মী বোধও প্রয়োজন। একটি বিষয় লক্ষণীয়—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়ার সময় ম্যাপ দেখে পড়লে তথ্য মনে রাখা সহজ হয় এবং জিওপলিটিক্যাল চিত্রায়ণের অভ্যাস তৈরি হয়।
বর্তমান বিসিএসে শুধু গাইড বই পড়ে ভালো করা কঠিন। নিয়মিত পত্রিকা পড়া এবং নিজের মতো শর্ট নোট তৈরি করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পত্রিকা পড়া শুধু সাম্প্রতিক তথ্য জানার জন্য নয়; এটি অ্যানালিটিক্যাল এবিলিটি, ভোকাবুলারি, মতামত তৈরির দক্ষতা এবং লিখিত উত্তরের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অর্থনীতি, ভূরাজনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নারী ও শিশু অধিকার এবং কূটনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়া প্রয়োজন। নোট একদম নিখুঁতভাবে সাজানো হওয়া জরুরি নয়। জরুরি হলো নিজের মতো করে রিভিশন–ফ্রেন্ডলি নোট তৈরি করা।
প্রিলি ও লিখিতের কমন টপিক নিজে সিলেবাস অ্যানালাইসিস করে বের করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শর্টকার্ট, রেডিমেড সাজেশন বা পিডিএফ-নির্ভর মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী প্রস্তুতির দিকে যেতে হবে। কারণ বিসিএস প্রস্তুতি শুধু তথ্য মুখস্থ করার পরীক্ষা নয়; এটি ধৈর্য, অধ্যবসায়, বিশ্লেষণক্ষমতা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমেরও পরীক্ষা। সহজে পাওয়া জিনিসের মূল্য সাধারণত কম হয়। তাই ক্যাডার হতে চাইলে খুঁজতে হবে, পড়তে হবে, লিখতে হবে এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে ‘ডট কানেকশন’ তৈরি করতে শিখতে হবে। সততা, অধ্যবসায় ও সঠিক কৌশল নিয়ে করা পরিশ্রম একদিন নিশ্চয়ই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেবে—এই প্রত্যাশাই রইলো।
গ্রন্থণা: এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য সুইডেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় রয়েছে নানা ধরনের বৃত্তির সুযোগ। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি....
২ ঘণ্টা আগে
আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে অনেকের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক দৃঢ়তা থাকলে এই সময়টাকেই সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি ও পরীক্ষা কৌশল...
৩ ঘণ্টা আগে
উত্তরা ইউনিভার্সিটির বর্তমান উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন...
১৯ ঘণ্টা আগে
আজ শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
১ দিন আগে