টানা দুই বছর শূন্য পাসের পর এবার কলেজের ‘মান রাখল’ একজন

নরসিংদীর রায়পুরার মোছলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন পাস করেছে। উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিতে কর্মরত ১৬ জন শিক্ষক। গত দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। আজ শনিবার দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজে ফলাফলে নিম্নমুখী ধারা চলছিল। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে একজন। ২০২৫ সালে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৪ সালেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয় না। পড়াশোনার পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটক নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারা। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রিটন মিয়া বলেন, ‘এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে চলে যায়। আর যারা থাকে, তাদের অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে আসে না।’
রিটন মিয়া আরও বলেন, ‘যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের ফরম পূরণ করিয়ে কোচিং করানোর পর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আমাদের ধারণা ছিল, ৯ জনই পাস করবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখি, মাত্র একজন পাস করেছে।’
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, গত বছর জীববিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া এক শিক্ষার্থী এবারও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আবার ফেল করেছে। তবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ফলাফল শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করে থাকে। কোন কলেজ কী ফলাফল করছে, তা বোর্ড অবগত আছে। স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে ফলাফলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বোর্ড সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, কলেজটির কার্যক্রম চলবে কি না।’
উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ বছর ১১টি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬৮০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন। গড় পাসের হার ৫৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
উপজেলার পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় ১১৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬৭ জন। গড় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ভোকেশনালে ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪১ জন।









