Ajker Patrika

বিইউপিতে পঞ্চম জাতীয় গবেষণা প্রকল্প প্রতিযোগিতা

ক্যাম্পাস ডেস্ক 
বিইউপিতে পঞ্চম জাতীয় গবেষণা প্রকল্প প্রতিযোগিতা
বিইউপিআরএস আয়োজিত পঞ্চম জাতীয় গবেষণা প্রকল্প প্রতিযোগিতা-২০২৬। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও কার্যকর সমাধান। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গবেষণা সংগঠন রিসার্চ সোসাইটি (বিইউপিআরএস) আয়োজন করে ‘পঞ্চম জাতীয় গবেষণা প্রকল্প প্রতিযোগিতা-২০২৬’। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

‘আজকের গবেষণা, আগামীর পুনরুদ্ধার’ স্লোগান এবং ‘সবুজ দিগন্তের পথে’ মূলমন্ত্র নিয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা’। জলবায়ু ও পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করাই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের ৪৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই শতাধিক গবেষণাপত্র জমা পড়ে। কয়েক ধাপে বাছাইয়ের পর নির্বাচিত গবেষকেরা বিইউপিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সামনে তাঁদের গবেষণা উপস্থাপন করেন।

প্রতিযোগিতায় দুটি প্রধান পর্ব ছিল ‘রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার’ এবং ‘ক্রিটিক্যাল এসএ রাইটিং’। এতে জলবায়ু সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত নৈতিকতা, জলবায়ু যোগাযোগ, টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গত ৮ আগস্ট বিইউপির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ‘রিসার্চ মেড ইজি: এ স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড ফর বিগিনার্স’ শীর্ষক সেমিনারের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়। সেমিনারটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মহসিন রেজা। এতে ১৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সেমিনারে গবেষণার প্রাথমিক ধারণা, বিষয় নির্বাচন, গবেষণার পদ্ধতি ও গবেষণাপত্র তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। গবেষণা কীভাবে পরিকল্পিতভাবে শুরু করা যায়, সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

গবেষণার পদ্ধতিগত জ্ঞান বাড়াতে আয়োজন করা হয় আরও একটি অনলাইন সেমিনার। শিক্ষক সমিতির সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে ‘মি, মাইসেলফ, অ্যান্ড মাই মেথডোলজি: ক্রাফটিং অটোএথোনোগ্রাফিক রিসার্চ ডিজাইন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনা করেন ব্র্যাক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

১৫ আগস্ট নির্বাচিত প্রতিযোগীরা বিচারকদের সামনে তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনার পর বিচারকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের গবেষণার মান, যুক্তি উপস্থাপন ও সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। একই দিনে বিইউপির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান উইং কমান্ডার মো. মাহমুদুল হাসানের লেখা ‘মাস্টারিং রিসার্চ মেথডোলজি: এ সিমপ্লিফাইড গাইড টু মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

১৬ আগস্ট বিইউপির বিজয় অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিইউপির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ইংরেজি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফাহমিদা হক।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু ন্যায়বিচার: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের চেয়ার অধ্যাপক খন্দকার মোকাদ্দেস হোসেন। প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চূড়ান্ত প্রতিযোগীরা তাঁদের গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করেন। বিচারকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় চূড়ান্ত মূল্যায়ন। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী গবেষকদের দেওয়া হয় সনদ।

সমালোচনামূলক প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বিইউপির নুসরাত জাহান ইমা। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘দ্য ইকো-গথিক লেন্স: হাউ কালচারাল ন্যারেটিভস শেপ অ্যানথ্রোপোসিন অ্যাংজাইটি’। এ বিভাগে রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবোপম ঘোষ। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘দ্য ওয়েপনাইজেশন অব স্কার্সিটি: ইকো-ফ্যাসিজম, ক্লাইমেট সিকিউরিটি, অ্যান্ড দ্য আর্কিটেকচার অব অ্যাব্যান্ডনমেন্ট’।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাশমিন ফেরদৌস, চপল কুণ্ডু ও মুশফিকুর ইবনে জাহিদ। তাঁদের গবেষণার বিষয় ‘অ্যাক্টিভেশন অব অটোফ্যাজি মিটিগেটেড দ্য সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’। এ বিভাগে রানারআপ হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াহিদুর রহমান, মলয় রায় অর্ক ও সুহা ইসলাম মেথি। তাঁদের গবেষণার বিষয় ‘ইউনিভার্সাল ক্লাউড প্রিন্ট সিস্টেম (ইউসিপিএস): অ্যা সিকিউর অ্যান্ড স্কেলেবল ক্লাউড-বেইজড সলিউশন ফর মডার্নাইজিং লিগ্যাসি অ্যাকাডেমিক প্রিন্টিং ওয়ার্কফ্লোস’।

ব্যবসা, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির নওশীন শারমিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নূরশালিন ইসলাম শিফাত। তাঁদের গবেষণার বিষয় ‘কমপ্লিমেন্টিং এনভায়রনমেন্টাল রেগুলেশন উইথ বিহেভিয়ারাল চেঞ্জ: অ্যা ফিল্ড এক্সপেরিমেন্ট অন রিইউজেবল ব্যাগ ইউজ ইন বাংলাদেশ’। এ বিভাগে রানারআপ হয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আনিমা ইসলাম আনী, হামিম আল ফুয়াদ ও আসিফ মাহমুদ। তাঁদের গবেষণার বিষয় ‘স্টোরিজ অব নেচার ইন ইনস্টিটিউশনাল ডিসকোর্স: অ্যা ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স অ্যান্ড ইকোলিঙ্গুইস্টিক অ্যানালাইসিস অব ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ডে স্লোগানস (২০১৫–২০২৬)’।

পঞ্চম জাতীয় গবেষণা প্রকল্প প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ৪৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই শতাধিক গবেষণাপত্র জমা পড়া আয়োজনটির ব্যাপক অংশগ্রহণের দিকটিও তুলে ধরে। গবেষণা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও একাডেমিক চর্চায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত