Ajker Patrika

গ্রিন এনার্জি নিয়ে পড়ার সেরা সুযোগ

পল্লব শাহরিয়ার
গ্রিন এনার্জি নিয়ে পড়ার সেরা সুযোগ

বর্তমান পৃথিবী এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি এখন আমাদের ক্যারিয়ার ও অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবাশ্ম জ্বালানির দিন ফুরিয়ে আসছে, আর বিশ্ব এখন ঝুঁকছে নবায়নযোগ্য শক্তি বা ‘গ্রিন এনার্জি’র দিকে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর কোথায় পড়বেন, তা নিয়ে অনেকে ভাবতে থাকেন, তবে তাদের জন্য গ্রিন এনার্জি বা সাসটেইনেবল এনার্জি হতে পারে সঠিক গন্তব্য।

কেন গ্রিন এনার্জিতে পড়াশোনাসহজ কথায়, গ্রিন এনার্জি হলো এমন শক্তির উৎস, যা পরিবেশের ক্ষতি করে না, যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ এবং বায়োমাস। বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ বা কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে দেশগুলো কাজ করছে। এই লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে কয়েক কোটি দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, আপনি যখন এই বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, তখন আপনি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করছেন না, নিজেকে ভবিষ্যতের একটি বৈশ্বিক চাহিদার জন্য প্রস্তুত করছেন।

বাংলাদেশে পড়ার সুযোগ

আমাদের দেশেও এই বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • ইনস্টিটিউট অব এনার্জি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়): বাংলাদেশে রিনিউয়েবল এনার্জি শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে মাস্টার্স লেভেলে ‘রি-নিউ-অ্যাবল এনার্জি টেকনোলজি’ নিয়ে পড়ার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।
  • প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ (বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট): যদিও সরাসরি ‘গ্রিন এনার্জি’ ব্যাচেলর ডিগ্রি সব জায়গায় নেই, তবে ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের থিসিস বা প্রকল্পে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর কাজ করতে পারেন। বুয়েটের ‘ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং’ এ ক্ষেত্রে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ দেয়।
  • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগটি এই খাতের জন্য বেশ সম্ভাবনাময়। এ ছাড়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বা এআইইউবির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ বাড়ছে।

পড়াশোনার ধরন ও প্রস্তুতি

আপনি যদি এখন উচ্চমাধ্যমিক বা স্নাতক পর্যায়ে থাকেন, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:

১. ভিত্তি তৈরি করুন: আপনার মূল পড়াশোনার বিষয় হিসেবে ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নিতে পারেন। পরিবেশবিজ্ঞান নিয়েও পড়াশোনা করা যেতে পারে।

২. হাতের কাজ বা প্রকল্প: শুধু বই পড়লে হবে না, সোলার প্যানেল সিস্টেম ডিজাইন, স্মার্ট গ্রিড বা শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ওপর ছোটখাটো প্রকল্প করুন।

৩. ভাষাগত দক্ষতা ও সফটওয়্যার: গ্লোবাল মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়তে ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা আবশ্যক। এ ছাড়া MATLAB, PVSyst বা এনার্জি মডেলিং সফটওয়্যারগুলো শেখা থাকলে আপনি অন্যদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবেন।

বাইরের দেশে কাজের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ

জার্মানি, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো (নরওয়ে, ডেনমার্ক), অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য বর্তমানে গ্রিন এনার্জি বা সাসটেইনেবল টেকনোলজির ক্ষেত্রে বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই দেশগুলোতে এনার্জি অ্যানালিস্ট, গ্রিন বিল্ডিং ডিজাইন কনসালট্যান্ট, সোলার প্রজেক্ট ম্যানেজার বা এনার্জি পলিসি বিশেষজ্ঞের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে বেতনকাঠামো বেশ আকর্ষণীয়। বড় বড় কোম্পানি এখন তাদের ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, ফলে সেখানে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অনেক। ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডাস বা জার্মানির ডাড স্কলারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে পাড়ি জমাতে পারে।

ক্যারিয়ার গড়ার মন্ত্র

আপনার ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য অপেক্ষা না করে এখনই কিছু ছোট কাজ শুরু করতে পারেন:

  • নেটওয়ার্কিং: লিংকডইনে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করুন, যাঁরা এই খাতে কাজ করছেন। তাঁদের কাজ অনুসরণ করুন।
  • স্বেচ্ছাসেবী কাজ: পরিবেশ রক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বা ক্লাবে যুক্ত হন। এটি আপনার সিভিকে শক্তিশালী করবে।
  • আপডেট থাকা: প্রতিদিন এনার্জি সেক্টরে কী ঘটছে, তা নিয়ে পড়ার অভ্যাস করুন।

পরিশেষে, নবায়নযোগ্য শক্তি শুধু পড়ার বিষয় নয়, এটি বর্তমান সময়ের চাহিদা। আপনি যখন বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করবেন, তখন নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার কাজে শামিল হবেন। তাই সাহস নিয়ে এগিয়ে যান, আপনার জ্ঞান এবং শ্রমই হতে পারে আগামীর সবুজ পৃথিবীর শক্তির মূল উৎস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত