Ajker Patrika

জবিতে ‘ফিরে দেখা ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনার

জবি প্রতিনিধি‎‎
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০: ২৮
জবিতে ‘ফিরে দেখা ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ফিরে দেখা ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ফিরে দেখা ছাত্র জনতার রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইতিহাস বিভাগের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন বলেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হঠাৎ করেই সংঘটিত হয়নি। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের অব্যাহত সংগ্রামের ইতিহাস। স্বৈরাচার সরকারের অত্যাচার নির্যাতন ও শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

উপাচার্য আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে, পরিণত হয়েছিল জনযুদ্ধে। তেমনিভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অবদানে সফল হয়নি বরং দলমত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের ছাত্রজনতা এতে অংশগ্রহণ করেছিল। জুলাই পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী কাঠামো যেন বাংলাদেশ আর ফিরে আসতে না পারে সে জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, সৃজনশীল কর্মসূচি প্রণয়ন ও কর্মসূচির নামকরণ জুলাই আন্দোলনের যুগান্তকারী একটি দিক। সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে যুক্ত করতে এসব ভিন্নধর্মী কর্মসূচি ও নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের একাডেমিক আলোচনা, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার আয়োজনের বিকল্প নেই।

সেমিনারে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতন নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার সম্মিলিত সংগ্রামের ফলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয় সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার আহ্বায়ক মো. শাহীন মিয়া বলেন, বর্তমান সময়ে জুলাই আন্দোলনকে অনেকেই সূক্ষ্মভাবে কটাক্ষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশে আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো, ছাত্রজনতার রক্তক্ষয়ী এই বিজয়কে ছোট করার পাঁয়তারা কোনোভাবেই সফল হবে না।

জকসু সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে দেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তবে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব ধরনের বিভেদ ভুলে দলমত-নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে সবাইকে চেষ্টা করে যেতে হবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত