Ajker Patrika

৫৭ বার পুনর্গঠনের পর ‘অভয়া’ চ্যাম্পিয়ন

তানিয়া আক্তার
৫৭ বার পুনর্গঠনের পর ‘অভয়া’ চ্যাম্পিয়ন

একবার, দুবার নয়, সাতান্নবার। বারবার তৈরি হয়েছে, পরীক্ষা হয়েছে, বদলেছে ‘অভয়া’। কোথাও এসেছে প্রযুক্তিগত সমস্যা, কখনো আবার বদলাতে হয়েছে পুরো পরিকল্পনা। তবু থামেননি তাঁরা। প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিখে নতুন করে শুরু করেছেন।

সেই দীর্ঘ পথের শেষে সাফল্য ধরা দিয়েছে। নারীদের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী অ্যাপ ‘অভয়া’ (Abhoya) তৈরি করে জাতীয় রোবোটিকস উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম অভয়া’। ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের এডুকেশনাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের দলটি ৬৫টির বেশি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে অর্জন করেছে এই সাফল্য। দলের সদস্য ওয়ালিউর রহমান (দলনেতা), শুভ কুমার আচার্য ও পুনম পাল।

‘অভয়া’র শুরুটা অবশ্য এতটা বড় স্বপ্ন নিয়ে হয়নি। একটি সাধারণ ল্যাব প্রকল্প হিসেবেই এর যাত্রা শুরু। কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন, জরুরি পরিস্থিতিতে নারীদের দ্রুত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব। সেখান থেকে ভাবনাটি ধীরে ধীরে রূপ নিতে থাকে বাস্তব একটি সমাধানে। শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল-ত্রুটি আর নতুন করে তৈরির পালা।

চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে অ্যাপটি প্রায় ৫৭ বার তৈরি, পরীক্ষা, পরিবর্তন ও পুনর্গঠন করতে হয়েছে। কখনো একটি ফিচার প্রত্যাশামতো কাজ করেনি। কখনো দেখা দিয়েছে প্রযুক্তিগত জটিলতা, আবার কখনো নিজেদের পরিকল্পনাই নতুন করে সাজাতে হয়েছে। তবে কোনো ব্যর্থতাই তাঁদের থামিয়ে দেয়নি।

দলের সদস্য পুনম পালের কাছে এই দীর্ঘ পথের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়; বরং ব্যর্থতা নতুন করে আরও ভালোভাবে শুরু করার সুযোগ। অসংখ্যবার টেস্টিং, ডিবাগিং ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁরা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই অর্জন করেননি; শিখেছেন দলগতভাবে কাজ করা, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধান করা। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁদের এই পথেই হয়েছে। অর্থাৎ, ‘অভয়া’ শুধু একটি অ্যাপ হয়ে ওঠেনি; এর সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে তিন শিক্ষার্থীর দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন।

এই পুরো যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দলের সুপারভাইজার ও শিক্ষক আদিত্য রাজবংশী। নিয়মিত দিকনির্দেশনা, গঠনমূলক পরামর্শ, ধৈর্য ও উৎসাহ দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। তাঁর সহযোগিতায় একটি সাধারণ একাডেমিক প্রকল্প ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত একটি কার্যকর প্রযুক্তি সমাধানে রূপ নেয়।

জাতীয় রোবোটিকস উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’ অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। সেখানে ৬৫টির বেশি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ‘টিম অভয়া’। প্রতিযোগিতার মঞ্চে তারা তুলে ধরে ‘অভয়া’র উদ্ভাবনী ধারণা, সামাজিক গুরুত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা। বিচারকদের মূল্যায়নে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের শিরোপা অর্জন করে দলটি। আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি তরুণদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত