Ajker Patrika

মার্কিন পুলিশের গুলিতে নিহত রেনি গুড ছিলেন একজন কবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত রেনে নিকোল গুড। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত রেনে নিকোল গুড। ছবি: সংগৃহীত

৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড ছিলেন তিন সন্তানের জননী, একজন শৌখিন গিটারবাদক ও একজন কবি। তিনি ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২০ সালে ‘একাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটস’ থেকে একটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পুরস্কারও জিতেছিলেন।

রেনির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে (মৃত্যুর পর প্রাইভেট করে দেওয়া হয়েছে) নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন ‘কবি, লেখক, স্ত্রী ও মা’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রেনি মূলত কলোরাডো স্প্রিংসের বাসিন্দা ছিলেন। গত বছর কানসাস সিটি থেকে তিনি মিনিয়াপোলিসে চলে আসেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্বামী টিম ম্যাকলিনের সঙ্গে একটি পডকাস্ট পরিচালনা করতেন। ম্যাকলিন ২০২৩ সালে মারা যান। তাঁদের এক ছেলে রয়েছে, যার বয়স এখন ছয় বছর।

প্রথম স্বামীর ঘরে রেনির আরও দুটি সন্তান রয়েছে। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, রেনি কোনো আন্দোলনকারী ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ খ্রিষ্টান। তরুণ বয়সে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডে যুব মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, রেনি আগে ডেন্টাল সহকারী ও একটি ক্রেডিট ইউনিয়নে কাজ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি মূলত গৃহিণী হিসেবেই সন্তানদের বড় করছিলেন।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকালে মিনিয়াপোলিসের পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা একটি বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, রেনি গুড তাঁর গাড়িতে বসে ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রেনি সেখানে একজন ‘লিগ্যাল অবজারভার’ বা আইন পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।

ভিডিওতে দেখা যায়, একজন আইসিই এজেন্ট রেনির গাড়ির হ্যান্ডেল ধরে দরজা খোলার চেষ্টা করছেন। রেনি যখন গাড়িটি ঘুরিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন সামনে থাকা অন্য এক এজেন্ট খুব কাছ থেকে গাড়ির জানলা দিয়ে তিনবার গুলি চালান। রেনি গুড মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন রেনি গুডকে ‘ডোমেস্টিক টেররিস্ট’ ও ‘পেশাদার বিক্ষোভকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, রেনি তাঁর গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আইসিই এজেন্টদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করেছিলেন।

আইসিই এজেন্টের গুলি চালানোকে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেছেন, রেনি ‘অত্যন্ত বিশৃঙ্খল’ আচরণ করছিলেন এবং কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দিচ্ছিলেন।

রেনি গুডের মা ডোনা গ্যাঙ্গার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বিবিসিকে জানান, রেনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও সংবেদনশীল মানুষ। তিনি সম্ভবত পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে একেবারেই ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ আছে, আইসিই এজেন্টরা অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। গভর্নর টিম ওয়ালজ ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, রেনি গুডের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সহায়তায় একটি তহবিল খোলা হয়েছিল। সেখানে ১০ ঘণ্টায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি সাহায্য জমা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত