Ajker Patrika

ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে বিপাকে আরব-আমেরিকানরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১৩
ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে বিপাকে আরব-আমেরিকানরা
লেবাননে ফেলে আসা স্বজনদের জন্য প্রার্থনা করছেন এক আরব-আমেরিকান নারী। ছবি: এপি

প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে ইরান ও লেবানন যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবে সেই ডিয়ারবর্ন এখন শোক ও দুশ্চিন্তায় মুহ্যমান। পরিবারগুলোর প্রতিটি দিন কাটছে নিজ দেশের স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে অস্থিরতায় আর যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রার্থনায়।

শুরুতে এই যন্ত্রণা ছিল কেবল গাজা যুদ্ধ নিয়ে। কিন্তু মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরে বিপুলসংখ্যক লেবানিজ-আমেরিকান বাস করায় বর্তমানে লেবাননে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত এই সংকটকে আরও ব্যক্তিগত ও গভীর করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কেবল যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই, দেশে কঠোর অভিবাসন নীতি, ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি এবং সম্প্রতি একটি সিনাগগে হামলার পর সৃষ্ট উত্তেজনা তাঁদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

আরব-আমেরিকান সিভিল রাইটস লিগের প্রতিষ্ঠাতা নাবিহ আয়াদ বলেন, ‘আমরা একসময় পরিবর্তন চেয়েছিলাম। এখন দেখছি পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে।’

সম্প্রতি আরব-আমেরিকান নেতারা এক সভায় মিলিত হন। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের জীবনের কোনো উন্নতি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে সবাই একমত—অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন না করার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। তাঁদের মতে, তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ইসরায়েলের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের অন্ধ সমর্থন থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারেননি, যা তাঁদের ট্রাম্পের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মিশিগানের ডিয়ারবর্নে লেবাননে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোমবাতি হাতে এক নারী। ছবি: এপি
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মিশিগানের ডিয়ারবর্নে লেবাননে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোমবাতি হাতে এক নারী। ছবি: এপি

ওয়েইন কাউন্টি কমিশনার স্যাম বায়দুন জানান, তাঁরা এখন আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং ট্রাম্প বা রিপাবলিকানদের পুনরায় সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললে চলে।

ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধে লেবানন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু তা হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। লেবাননে এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৫ শতাধিক নারী, শিশু, স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২ হাজারের বেশি মানুষ।

মিশিগান হলো যুক্তরাষ্ট্রের আরব-আমেরিকানদের প্রধান কেন্দ্র এবং এর এক-চতুর্থাংশই লেবানিজ বংশোদ্ভূত। ২০২০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ওয়েইন কাউন্টিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করে, যাদের এক-তৃতীয়াংশই লেবানিজ। কাউন্টি কর্মকর্তা আসাদ তুর্ফে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ওপার থেকে একটি ফোনের অপেক্ষায় থাকি। লেবাননে আমার চাচা বা তাঁর পরিবার হয়তো আর বেঁচে নেই। এখানকার প্রায় প্রত্যেক মানুষের গল্পই এমন।’

ডিয়ারবর্ন হাইটসের মসজিদগুলোতে এখন কেবল প্রার্থনা নয়, আলোচিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। সম্প্রতি এক ইমাম ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির সমালোচনা করে বলেন, নেতাদের কাজ সেতু তৈরি করা, ধ্বংসাত্মক নীতি প্রচার করা নয়। পিস পার্কে আয়োজিত এক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে লেবানিজ পতাকায় ঢাকা শিশুদের হাতে দেখা গেছে যুদ্ধে নিহত শিশুদের ছবি। লেবানিজ-আমেরিকান সুহাইলা আমেন বলেন, ‘আমরা একটি শোকাতুর জাতি এবং আমরা অনেক সময় ধরে শোক পালন করছি।’

তথ্যসূত্র: এপি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত