Ajker Patrika

‘ত্রুটিপূর্ণ হলফনামা’ দিয়েও বৈধ হলেন বিএনপির প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৩৭
নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম ‘ত্রুটিপূর্ণ হলফনামা’ দাখিল করেও বৈধ প্রার্থিতা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আয়কর রিটার্নে থাকা সম্পদের বিবরণীর সঙ্গে হলফনামায় দেওয়া তথ্যের অমিল ও অধ্যাপক না হয়েও নামের আগে ‘অধ্যাপক’ লেখার মতো অসংগতিও রয়েছে তাঁর হলফনামায়।

শনিবার রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার যাচাই-বাছাই শেষে নজরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। আগের দিন শুক্রবার তাহের উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এসব অসংগতি তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

এদিকে নজরুল ইসলামের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর নথিতে দেখা গেছে, তাঁর ২০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। আয়কর নথিতে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তবে হলফনামায় তিনি এই সোনার দাম দেখিয়েছেন ১ হাজার টাকা। আয়কর নথির সঙ্গে এখানে সোনার দামের মিল নেই।

হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের বিবরণীর ১৫ নম্বর ক্রমিকে সব সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক। তবে নজরুল ইসলাম এখানে কিছুই লেখেননি।

হলফনামায় নজরুল ইসলাম দেখিয়েছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বা বিদেশি রেমিট্যান্স পাননি। তবে তিনি স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ৮ দশমিক ৬৬ একর কৃষিজমি অর্জন করেছেন। এর অর্জনকালীন আর্থিক মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হলেও তিনি তা করেননি।

এদিকে ২ জানুয়ারি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নজরুল ইসলাম বেসরকারি লস্করপুর ডিগ্রি কলেজে চাকরি করেছেন এবং বর্তমানে তাঁর নামের আগে অধ্যাপক লেখেন। কিন্তু বেসরকারি ডিগ্রি কলেজে শুরু প্রভাষক স্কেল থেকে। পদোন্নতির পর সহকারী অধ্যাপক স্কেল পর্যন্ত আছে। এরপরে আর নেই। কিন্তু তিনি অধ্যাপক না হয়েও নামের আগে অধ্যাপক লেখেন। এটি একাডেমিক শিষ্টাচার পরিপন্থী ও অতিকথন। এ ছাড়া তিনি হলফনামায় নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা দেননি। আয়ের উৎসে তাঁর নির্ভরশীল স্ত্রীর আয়ের উৎসও দেওয়া নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নজরুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন তাহের উদ্দিন।

তাহের উদ্দিন বলেন, নজরুল ইসলাম বেসরকারি কলেজে চাকরি করেছেন। তাই তিনি অধ্যাপক হতে পারেননি। কিন্তু তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের আগে অধ্যাপক লিখেছেন। অথচ এনআইডি নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র করা অপরাধ। এর জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এসব নিয়ে অভিযোগ করলেও আমলে নেওয়া হয়নি।

তাহের উদ্দিন আরও বলেন, অনেকে নামের আগে অধ্যাপক লিখে প্রচার করেন নিজেকে জাহির করার জন্য। কোনো প্রার্থী অধ্যাপক হলে ভোটারদের মনোজগতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই সুবিধা নিতে নজরুল ইসলাম অধ্যাপক না হয়েও অধ্যাপক লেখেন। এতে অন্য প্রার্থীদের ক্ষতি। তাই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে সেটা আমার কাছে আসার কথা, কিন্তু আসেনি। তাই অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

‘ত্রুটিপূর্ণ হলফনামা’ দাখিলের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ত্রুটিপূর্ণ হলফনামা দাখিল করিনি। সব সঠিক তথ্যই দেওয়া হয়েছে।’ হলফনামায় বিভিন্ন অসংগতির বিষয়গুলো নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আছি। এখন এসব বিষয়ে কথা বলতে পারছি না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত