
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউ ভবনে লিফট স্থাপন নিয়ে দুই দফায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটল। প্রথমবার এ গ্রেডের বদলে সি গ্রেডের লিফট বসানো হয়। পরে তদন্তে ধরা পড়লে সেটি খুলে নেওয়া হয়। আনা হয় নতুন লিফট। এ দফায় আশ্রয় নেওয়া হয় নতুন জালিয়াতির। জাপানের ফুজিটেক কোম্পানির নামে নকল ডোমেইনে ই-মেইল আইডি খুলে লিফটের অর্ডার দেখানো হয়েছে।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার কাজটি পেয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন। দরপত্রে এ গ্রেডের ফায়ার প্রটেক্টেড লিফটের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বসানো হয় নিম্নমানের সি গ্রেডের লিফট। দুটির দামের পার্থক্য প্রায় ৫০ লাখ টাকার। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে। ২০২৪ সালের ৬ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দরপত্রের শর্ত মানা হয়নি। পরে ঠিকাদার লিফট খুলে নেয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসের মধ্যে নতুন লিফট বসানোর কথা ছিল। কিন্তু সেটি আসে ১ অক্টোবর। এর আগে বন্দরে পোর্ট ইন্সপেকশন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বরং হাসপাতালের মনোনীত প্রতিনিধি ডা. শংকর কুমার বিশ্বাসকে ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে থাকার চিঠি দেওয়ার পর হঠাৎ জানানো হয়, লিফট ইতিমধ্যে রাজশাহীর পথে। পরে তিনি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানান, পোর্ট ইন্সপেকশন ছিল বানোয়াট।
লিফট আসার পর গঠিত তদন্ত কমিটিতে ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক। নথিপত্র খতিয়ে দেখে তাঁরা একাধিক অসংগতি পান। এলসির তারিখ ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দেখানো হলেও নথিতে পাওয়া যায় ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। এলসির মাধ্যমে ১৪ হাজার ডলার এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ হাজার ডলার পরিশোধ দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এ’ গ্রেড লিফটের দাম এত কম হওয়ার কথা নয়।
নথিতে বলা হয়েছে, লিফটটি জাপানের ফুজিটেক কোম্পানি থেকে কেনা। কিন্তু অর্ডারের প্রমাণ হিসেবে যে ই-মেইল দেখানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল ভুয়া। তদন্তে দেখা যায়, ডোমেইনটি ঢাকার এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত। অর্থাৎ জাপানি প্রতিষ্ঠানের নামে নকল ডোমেইন খুলে ই-মেইল চালাচালি দেখানো হয়েছে।
বাংলাদেশি আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হয়েছে সেল করপোরেশন বিডিকে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ফুজিটেকের অনুমোদিত ডিলার নয়। এলসি করেছে ময়মনসিংহের নাঈমা এন্টারপ্রাইজ, যারা অনুমোদিত আমদানিকারক নয়। এমন আরও নানা অসংগতি সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি বলছে, প্রি-শিপমেন্ট কার্যক্রম বানোয়াট। ই-মেইল অর্ডারও ভুয়া। ফলে লিফটের প্রকৃত উৎস অজানা। তাই সরবরাহকৃত লিফট স্থাপন না করার বিষয়ে একমত হন কমিটির সদস্যরা। ভুয়া কাগজ তৈরির কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠান।
এদিকে গণপূর্ত বিভাগও আলাদা কারিগরি কমিটি গঠন করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিফট দরপত্রের স্পেসিফিকেশন ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এসেছে। স্থাপন ও কমিশনিংয়ে বাধা নেই। তবে ওই কমিটিতে হাসপাতালের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, শুরু থেকে অসংগতি পাওয়া গেছে। ইন্সপেকশন ছাড়া লিফট আনা হবে না বলে সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু হঠাৎ লিফট আনা হয়। জালিয়াতির বিষয়টি সচিবকে জানানো হয়েছে। লিফট স্থাপন করা হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, তাঁর কাজ গণপূর্তের সঙ্গে। দরপত্রে ইন্সপেকশনের কথা ছিল না। লিফট স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী আনা হয়েছে।
লিফট আমদানির পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিউল আজম। তিনি বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত। যোগাযোগ করলে ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চাঁদাবাজির টাকা আদায়ের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
৬ দিন আগে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা সিটি ডেভেলপার্স হাউজিং ও একেপিচ টাওয়ার মার্কেটে চাঁদা দাবি করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর তাঁকে ঘটনাস্থল এলাকায় ঘুরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। আজ রোববার দুপুরে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের একটি দল তাঁকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
৮ দিন আগে
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থের বড় অংশ অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যয় করা হয়েছে। তবে ওসি দাবি করেছেন, একটি চক্র তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এসব
৯ দিন আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে মাহিন ইসলাম (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক কিশোরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে