Ajker Patrika

ইরানের ওপর নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের ওপর নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পাঁচ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই কর্মকর্তারাই দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ দমনের মূল পরিকল্পনাকারী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতারা বিদেশি ব্যাংকে যে অর্থ পাঠাচ্ছেন, তা–ও তারা নজরদারিতে রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির সচিব, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারকে। ট্রেজারির অভিযোগ, তারাই বিক্ষোভ দমনের ‘মূল নকশাকারী।’

এ ছাড়া ফারদিস কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এই কারাগারে নারীরা ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর আচরণের’ শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা স্পষ্ট।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি জানে যে, ডুবে যেতে থাকা জাহাজ থেকে ইঁদুর যেমন মরিয়া হয়ে পালায়, ঠিক তেমনি আপনারা ইরানি পরিবারের কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দ্রুত পাঠাচ্ছেন। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা আপনাদের এবং সেই অর্থের খোঁজ রাখব।’

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, যদি আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, সহিংসতা বন্ধ করুন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশন এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশটিতে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য তাদের পুরোনো শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার অর্থনৈতিক কিছু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে, যেগুলো থেকেই প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তিনি জানান, দুর্নীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইরানে অস্থিরতা শুরু হয় লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে। পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটিতে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ২ হাজার ৪৩৫ জন বিক্ষোভকারী এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট ১৫৩ জন ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা কঠোরভাবে দমন অভিযান চালাচ্ছে। স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবিতে ইরানের জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেজারি মানবাধিকার দমনে জড়িত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করবে।’

এ ছাড়া ট্রেজারি বিভাগ আরও ১৮ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিদেশি বাজারে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ পাচারে জড়িত ছিলেন। এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবারের এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতির সর্বশেষ অংশ। এই নীতির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ইরান বরাবরের মতোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত