Ajker Patrika

মিডল ইস্ট মনিটনের বিশ্লেষণ

অস্তিত্বের সংকটে গাজা

  • শান্তি পর্ষদটি মূলত বিলিয়নিয়ার ও ইসরায়েলপন্থীদের একটি মিলনমেলা।
  • এই সনদে গাজা বা জাতিসংঘ শব্দগুলোর কোনো উল্লেখ নেই।
  • প্রকল্পটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও মেজাজের ওপর নির্ভরশীল।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
অস্তিত্বের সংকটে গাজা
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত একটি এলাকা। ছবি: আনাদোলু

গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি পর্ষদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগের আড়ালে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ঘনিষ্ঠ মহলের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্রাম্প নিজেই এই শান্তি পর্ষদের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকছেন। পর্ষদটি মূলত বিলিয়নিয়ার এবং ইসরায়েলপন্থীদের একটি সংমিশ্রণ। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এ ছাড়া বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলে ম্লাদেনভকে ‘উচ্চ প্রতিনিধি’ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

শান্তি পর্ষদের সনদে একটি বিতর্কিত শর্ত রাখা হয়েছে—কোনো দেশ এই শান্তি পর্ষদের স্থায়ী আসন পেতে চাইলে তাকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে। যারা এই অর্থ দেবে না, তারা কেবল তিন বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হতে পারবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সনদে গাজা বা জাতিসংঘ শব্দগুলোর কোনো উল্লেখ নেই। ট্রাম্প একে জাতিসংঘের বিকল্প একটি ‘চটপটে ও কার্যকর’ সংস্থা হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছেন। যা মূলত আন্তর্জাতিক এই সংস্থাকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকির পাশাপাশি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে চীনকেও এই শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণ পেয়েছে, তবে বেইজিং সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ইসরায়েলের প্রতি নমনীয়তা দেখানো সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে তুরস্ক ও কাতারকে এই শান্তি পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এক উত্তপ্ত বিতর্কে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, গাজায় তুরস্ক বা কাতারের কোনো সেনা প্রবেশ করতে পারবে না।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, হয় নেতানিয়াহু গোপনে তুরস্ক ও কাতারের অন্তর্ভুক্তিতে রাজি হয়েছেন অথবা ট্রাম্প ইসরায়েলের স্বার্থকে পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন।

গাজার প্রশাসনিক কাজ চালানোর জন্য ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) নামে একটি ফিলিস্তিন টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আলী শাথ। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই কমিটি গাজায় জনসেবা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মূল ক্ষমতা ট্রাম্পের মনোনীত প্রতিনিধিদের হাতে থাকায় ফিলিস্তিনিদের প্রকৃত সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুরো প্রজেক্টটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও মেজাজের ওপর নির্ভরশীল। একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব থাকায় এবং ব্যক্তিগত স্বার্থকেন্দ্রিক হওয়ায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। সমালোচকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিকল্পনা ধসে পড়তে পারে—যা ওই অঞ্চলের জন্য আরও বড় বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত