Ajker Patrika

ভারতে ভোটার তালিকায় বাদ পড়ল মীর জাফরের বংশধররাও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতে ভোটার তালিকায় বাদ পড়ল মীর জাফরের বংশধররাও
মীর জাফরের বংশধর বর্তমানের ‘ছোটে নবাব’ সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলী মির্জা। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বাংলার আলোচিত নবাব মীর জাফরের বংশধরদের একটি বড় অংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মুর্শিদাবাদের লালবাগের ঐতিহাসিক ‘কেল্লা নিজামত’ এবং এর আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী নবাব পরিবারের অন্তত ১৫০ জন সদস্য এই তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাদ পড়া নামের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের ‘ছোটে নবাব’ হিসেবে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা এবং তাঁর পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা। ফাহিম আলি মির্জা স্থানীয় পৌরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিজের এবং তাঁর বাবার নাম তালিকায় নেই।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর তাদের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে তাঁরা বৈধ সব নথিপত্র জমা দিলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ থেকে পরে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নবাব পরিবারের ১৬ তম উত্তরপুরুষ ফাহিম আলি মির্জা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা এই অঞ্চল শাসন করেছেন, হাজারদুয়ারি প্রাসাদসহ সব স্থাপত্য তাঁদের নির্মাণ। দেশভাগের সময় ১৯৪৭ সালে অনেক প্রলোভন সত্ত্বেও এই পরিবার পাকিস্তানে না গিয়ে ভারতে থেকে গিয়েছিল। মুর্শিদাবাদ যাতে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের পরিবারের ভূমিকা ছিল। অথচ এত বছর পর আজ আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, মীর জাফরের পূর্বপুরুষরা আরব থেকে এসেছিলেন বলে জানা যায়। মীর জাফরের বংশধরেরা দাবি করেন তাঁরা ইমাম হাসান (রা.) ও হোসাইনের (রা.) উত্তরপুরুষ। মীর জাফর পরিবারের এক সদস্য ইস্কান্দার আলী মির্জা পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। কিন্তু রেজা আলী মির্জাদের দাবি, তাঁদের মূল ধারাটি সবসময়ই ভারতের মাটির প্রতি অনুগত ছিল।

মুর্শিদাবাদের লালবাগের নব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২১ এবং ১২২ নম্বর বুথে নবাব পরিবারের প্রায় ৫৫০ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০ জনের নাম বাদ পড়াকে ‘অবিচার’ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নামের অসংগতি ধরার প্রক্রিয়ার কারণেই এমনটা হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা জানান, এর আগে ভোটার তালিকায় তাঁদের নামের কিছু অংশ বাদ গিয়েছিল (যেমন ‘সৈয়দ’ বা ‘মুহাম্মদ’ শব্দগুলো), যা তাঁরা নিয়ম মেনে সংশোধন করেছিলেন। কিন্তু এবার চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের মতে, শুধু নবাব পরিবার নয়, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সমাজ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট-এর গবেষক সাবির আহমেদ জানান, নামের বানানে অসংগতি বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে না পাওয়ার অজুহাতে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

নবাব পরিবারের সদস্যরা এখন ট্রাইব্যুনালে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ঐতিহাসিক পরিবারের সদস্যরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অফিস সকাল ৯টা থেকে ৪টা, সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ মার্কেট

ইরানের ইউরেনিয়াম মাটির অনেক গভীরে—বোল পাল্টালেন ট্রাম্প

অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আটক, ট্রাক জব্দ

বাংলাদেশ সীমান্তে নদী-খালে সাপ-কুমির নামাবে বিএসএফ

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি, নেপথ্যে গাইড-হাসপাতাল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত