Ajker Patrika

দাম্পত্যকলহে স্বামীর প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর অভিযোগ দেওয়া সবচেয়ে খারাপ: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৫১
দাম্পত্যকলহে স্বামীর প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর অভিযোগ দেওয়া সবচেয়ে খারাপ: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক বা দাম্পত্য বিরোধ চলাকালে স্বামীর কর্মস্থল বা নিয়োগকর্তার কাছে স্ত্রীর অভিযোগ জানানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে স্বামীর চাকরি চলে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর খোরপোশের দাবিকেই বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগারথনা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি চলাকালে এই মন্তব্য করেন।

আদালত মন্তব্য করেন, দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ চাওয়া এক বিষয়, কিন্তু আইনি লড়াইয়ের নামে জীবনসঙ্গীর জীবিকা অর্জনের পথ বন্ধ করে দেওয়া আরও ক্ষতিকর।

ঘটনাটি ঘটেছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) এক কর্মকর্তার পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। ওই কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আসামের একটি আদালতে মানহানির মামলা করা হয়েছিল। ওই নারী মামলাটি উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে স্থানান্তরের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, গাজিয়াবাদেই স্বামীর বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক মামলা চলমান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই নারী বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্বামী চাকরির সেবা বিধি লঙ্ঘন করে স্বতন্ত্র ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ওই কর্মকর্তার এক সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসামের আদালতে নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি করেন।

শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারথনা বলেন, পারিবারিক বিবাদের জেরে স্বামীর কর্মস্থলে চিঠি লেখা বা অভিযোগ জানানো স্ত্রীর জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’।

বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, এর ফলে স্বামী চাকরিচ্যুত হতে পারেন। আর চাকরিই যদি না থাকে, তবে আদালতে খোরপোশ বা ভরণপোষণ দাবি করার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি থাকে না।

স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে জানান, স্বামী আগেই স্ত্রী ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর একটি হেলমেট চুরির মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। সেই সরঞ্জামের অবস্থান যাচাই করতেই বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। আইনজীবী আরও দাবি করেন, মানহানির মামলাটি স্বামী নিজে না করে তাঁর সহকর্মীকে দিয়ে করিয়েছেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টারে’ (মধ্যস্থতা কেন্দ্র) পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে বিচারক নাগারথনা স্ত্রীর আইনজীবীকে পরামর্শ দেন, যেন তিনি তাঁর মক্কেলকে সব পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করার পরামর্শ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত