Ajker Patrika

এবার ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার দাবি করল চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ১১
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই

চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের সময় যুদ্ধবিরতি অর্জনে মধ্যস্থতা করেছে চীন—এমনটাই দাবি করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তবে চীনের মধ্যস্থতার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লির সরকারি সূত্রগুলো। কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো আসেনি।

ভারত সরকারের সূত্রগুলোর পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, ‘অপারেশন সিঁদুরের’ পর ইসলামাবাদই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল এবং সেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংকে শান্তি আলোচক হিসেবে তুলে ধরার পরই এই স্পষ্টিকরণ বার্তা দেওয়া হলো নয়াদিল্লির তরফ থেকে। চীন দাবি করেছিল, মে মাসের ওই সংঘাতের সময় বেইজিং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

এনডিটিভিকে ভারত সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘মধ্যস্থতার বিষয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। অপারেশন সিঁদুরের পর কোনো মধ্যস্থতা হয়নি। ভারত সব সময়ই বলে আসছে যে, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো অবকাশ নেই। পাকিস্তান নিজেই ভারতের ডিজিএমও-এর (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস) কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল।’

ট্রাম্পের মতোই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ভারত-পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও চীনের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক এক সিম্পোজিয়ামে ওয়াং ই বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এই (২০২৫ সালে) বছর স্থানীয় যুদ্ধ এবং আন্তসীমান্ত সংঘাত বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে...টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত অবস্থান নিয়েছি এবং সমস্যার উপসর্গ ও মূল কারণ—উভয় দিকেই নজর দিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘উত্তপ্ত সমস্যাগুলো সমাধানের এই চীনা পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা উত্তর মিয়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যু, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সমস্যা এবং সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করেছি।’

নয়াদিল্লি জানিয়ে আসছে যে,৭ মে শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাত দুই দেশের সেনাবাহিনীর ডিজিএমও পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। গত ১৩ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ‘যুদ্ধবিরতি এবং অন্যান্য দেশের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গেলে—নির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং সমঝোতার ভাষা দুই দেশের ডিজিএমওদের মধ্যে ১০ মে ৩টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছিল।’

এদিকে, ভারত–পাকিস্তানের মধ্যকার গত মে মাসের সামরিক উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকরে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার দাবি নিয়ে গতকাল বুধবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। ওয়াং ই’র দাবির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক পোস্টে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা নিয়ে চীনের দাবি উদ্বেগজনক—শুধু এই কারণেই নয় যে তা এ পর্যন্ত দেশের মানুষকে যা বলা হয়েছে তার বিপরীত, বরং এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে উপহাস করার শামিল বলে মনে হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত