নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর আগে তা না বাড়ানো, বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ভাড়া বৃদ্ধি না করা এবং জুন-জুলাইয়ে ভাড়া বৃদ্ধির সময় নির্ধারণসহ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের জন্য ১৬ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
রাজধানীর গুলশান-২-এ নগরভবনে আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িভাড়া নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এসব নির্দেশনার কথা জানান।
এ ছাড়া ভাড়া সর্বোচ্চ বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশ না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখতে হবে। বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসের (গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি) নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ও প্রতিদিন গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্য সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে ইউটিলিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে যথাযথ বিলের বেশি বা লাভ নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি মনুষ্যসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটেকে বাড়ির ছাদের ও প্রধান ফটকের চাবি শর্তসাপেক্ষে দিতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ভাড়াটেকে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া দেওয়াসহ প্রমাণ কপি হিসেবে রসিদ সংগ্রহে রাখতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো সমস্যা নিষ্পত্তিতে উভয় পক্ষের আলাদা সমিতি বা সালিসের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ভাড়াটের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত, সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে ভাড়াটেকে জানাতে হবে।
দুই বছর আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, দুই বছর পর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাড়াটেকে ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন। তাতে কাজ না হলে সব বকেয়া দিয়ে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য বাড়িওয়ালা লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন এবং ভাড়াটের সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো, সেসব চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা জানিয়ে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়তে হবে, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় এক থেকে তিন মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি ও ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিসে থাকবেন।
বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভাড়া কত হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ভাড়াটেদের অধিকার নিশ্চিতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর পক্ষে ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটেদের সমিতিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সমাধান না হলে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
এসব মেনে চলার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হলে ডিএনসিসির জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভার কথাও জানানো হয়।
নির্দেশিকায় যা রয়েছে:
১. বাড়ির মালিক অবশ্যই তাঁর বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।
২. বাড়িতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য সব সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে জানাবেন এবং বাড়িওয়ালা শিগগিরই সেই সমস্যা সমাধান করবেন।
৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক্ অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।
৪. সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তাঁর প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।
৫. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রসিদ দিতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ নেবেন।
৬. বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত নেবেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন-জুলাই।
৮. দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত/দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।
৯. নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন। ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
১০. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
১১. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।
১২. বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
১৩. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।
১৪. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিসে থাকবেন।
১৫. যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
১৬. ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করা।

বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর আগে তা না বাড়ানো, বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ভাড়া বৃদ্ধি না করা এবং জুন-জুলাইয়ে ভাড়া বৃদ্ধির সময় নির্ধারণসহ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের জন্য ১৬ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
রাজধানীর গুলশান-২-এ নগরভবনে আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িভাড়া নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এসব নির্দেশনার কথা জানান।
এ ছাড়া ভাড়া সর্বোচ্চ বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশ না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখতে হবে। বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসের (গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি) নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ও প্রতিদিন গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্য সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তবে ইউটিলিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে যথাযথ বিলের বেশি বা লাভ নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি মনুষ্যসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটেকে বাড়ির ছাদের ও প্রধান ফটকের চাবি শর্তসাপেক্ষে দিতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ভাড়াটেকে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া দেওয়াসহ প্রমাণ কপি হিসেবে রসিদ সংগ্রহে রাখতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো সমস্যা নিষ্পত্তিতে উভয় পক্ষের আলাদা সমিতি বা সালিসের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ভাড়াটের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত, সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে ভাড়াটেকে জানাতে হবে।
দুই বছর আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, দুই বছর পর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাড়াটেকে ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন। তাতে কাজ না হলে সব বকেয়া দিয়ে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য বাড়িওয়ালা লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন এবং ভাড়াটের সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো, সেসব চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা জানিয়ে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়তে হবে, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় এক থেকে তিন মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি ও ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিসে থাকবেন।
বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভাড়া কত হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ভাড়াটেদের অধিকার নিশ্চিতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর পক্ষে ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটেদের সমিতিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সমাধান না হলে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
এসব মেনে চলার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হলে ডিএনসিসির জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভার কথাও জানানো হয়।
নির্দেশিকায় যা রয়েছে:
১. বাড়ির মালিক অবশ্যই তাঁর বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।
২. বাড়িতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য সব সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে জানাবেন এবং বাড়িওয়ালা শিগগিরই সেই সমস্যা সমাধান করবেন।
৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক্ অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।
৪. সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তাঁর প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।
৫. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রসিদ দিতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ নেবেন।
৬. বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত নেবেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন-জুলাই।
৮. দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত/দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।
৯. নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন। ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
১০. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
১১. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।
১২. বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
১৩. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।
১৪. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিসে থাকবেন।
১৫. যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
১৬. ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশনের জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করা।

রাজধানী ঢাকায় কোনো ‘হাইপ্রোফাইল’ (উঁচু স্তরের) কেউ খুন হলে বা অন্য কোনো আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে প্রায়ই পুলিশের ভাষ্যে উঠে আসে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী কিংবা ‘গডফাদারের’ নাম। দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ওপর দায় চাপানোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও তাঁদের...
১৮ ঘণ্টা আগে
বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন ও আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশসহ তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম জানায়নি ডিবি। আজ বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র তালেবুর রহমান।
১৩ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামিনে মুক্তি পান ঢাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। পলাতক এসব সন্ত্রাসী ও তাঁদের অনুসারীরা আবারও চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ডে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততার তথ্য...
১৪ দিন আগে
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন নামের এক ব্যক্তি পরিচালনা করতেন। যিনি এর আগে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায়
২৪ দিন আগে