Ajker Patrika

৩৩ কোটি টাকা এভাবেই ‘গচ্চা’ দিতে হচ্ছে কলকাতার

ক্রীড়া ডেস্ক    
৩৩ কোটি টাকা এভাবেই ‘গচ্চা’ দিতে হচ্ছে কলকাতার
৩৩ কোটি টাকা দিয়ে কলকাতা কিনলেও গ্রিন আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারছেন না। ছবি: ক্রিকইনফো

বেশি দামে ক্রিকেটার কিনে ভরাডুবির ঘটনা আইপিএল ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে যখন বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন, তখনই হয়তো কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভক্ত-সমর্থকেরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। এবার ঠিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই হচ্ছে।

২০২৬ আইপিএলের আগে নিলাম থেকে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে গ্রিনকে কেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এবারের আইপিএলে দুই ম্যাচের দুটিতেই একাদশে ছিলেন তিনি। তবে যে দামে তাঁকে কিনেছে কলকাতা, সেটার যথার্থ প্রতিদান তো পাচ্ছে না এই দল। নামে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হলেও খেলছেন শুধু ব্যাটার হিসেবে। দুই ম্যাচ মিলে করেছেন ২০ রান।

আইপিএল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিন আসরে তিনটি ভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন গ্রিন। ২০২৩ সালে অভিষেকে ১৬ ম্যাচে ৫০.২২ গড় ও ১৬০.২৮ স্ট্রাইকরেটে করেন ৪৫২ রান। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে এক সেঞ্চুরির পাশাপাশি করেন দুই ফিফটি। গ্রিনের চমক যে এই পর্যন্তই। ২০২৪ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে করেন ২৫৫ রান। সেঞ্চুরি তো দূরে থাক। কোনো ফিফটিও তাঁর ছিল না সেবার।

পিঠের চোটের কারণে ২০২৫ আইপিএলে গ্রিনের খেলা হয়নি। মাঝে এক বছর বাদ দিয়ে আবার ফিরেছেন ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে। ৩৩ কোটি টাকা দিয়ে কলকাতা কিনলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারছেন না। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ওয়াংখেড়েতে ২৯ মার্চ দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১০ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ১৮ রান। এই ম্যাচে তিনি আউটও হয়েছেন মুম্বাইয়ের পেসার শার্দুল ঠাকুরের শর্ট বলে। যে বলটা গ্রিন চাইলে সহজেই সীমানাছাড়া করতে পারতেন, সেই বলেই তিনি ডিপ কাভারে শারফেন রাদারফোর্ডের কাছে ক্যাচ দিয়ে। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারকে নামানো হয় তিন নম্বরে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে গতকাল ইডেন গার্ডেন্সে গ্রিন ব্যাটিংয়ে নেমেছেন চার নম্বরে। খেলতে পেরেছেন কেবল ২ বল। রানও করেছেন ২। তিনি এবার আউট হয়েছেন সতীর্থ অংক্রীশ রঘুবংশীর ভুলে। পাওয়ার প্লের (ষষ্ঠ ওভার) শেষ বলে হায়দরাবাদের পেসার ইশান মালিঙ্গার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে রঘুবংশী রানের জন্য দৌড়ান। নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে দৌড় দেন গ্রিনও। কিন্তু রঘুবংশী মুহূর্তেই তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। গ্রিন যতক্ষণে ফিরতে যাবেন, ততক্ষণে তাঁকে রানআউট করে দিয়েছেন গ্রিন।

টুর্নামেন্টের শুরুটাও কলকাতার হয়েছে যাচ্ছে তাই। দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে দশ দলের মধ্যে ৯ নম্বরে অবস্থান করছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। কলকাতার নেট রানরেট -১.৯৬৪। অধিনায়ক রাহানের ৪০ বলে ৬৭ রানের ইনিংসে ২২০ রানের পাহাড় গড়লেও মুম্বাই ৫ বল হাতে রেখে জেতে ৬ উইকেটে। গতকাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৪ রান করে কলকাতা। লক্ষ্য ছিল ২২৭ রান। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৬ ওভারে ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় কলকাতা।

হায়দরাবাদের কাছে ৬৫ রানের হারে ইডেন গার্ডেন্সে গত রাতে ব্লেসিং মুজারাবানির বোলিংটা বৃথাই গেছে। ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া মুজারাবানি এখন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে। মুজারাবানির সমান ৪ উইকেট নিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পেসার জয়দেব উনাদকাত। এদিকে গ্রিনকে নিয়ে সমালোচনা চলছেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও দিচ্ছে জবাব। তবে আইপিএলে দামি ক্রিকেটারের অভিশাপ ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাঁর এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত