
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি ‘অলটারনেটিভস’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা।
মাসুদ রানা

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশের সামরিক বাহিনী কর্তৃক আটক করে নিয়ে যাওয়া কি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী নয়?
যত আইনকানুন তৈরি করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, তার সবটাই ভেস্তে গেছে। যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র একেবারে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে তাদের দেশে নিয়ে গেল—এটা কোনো আইনের মধ্যে পড়ে না। এমনকি তার নিজ দেশের সংবিধানের মধ্যেও পড়ে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার কিন্তু এটা করেনি। বিভিন্ন ধরনের কথা বলে এ ধরনের পদক্ষেপ তারা আগেও নিয়েছে। এর আগে পানামায় তো একই কাজ করেছে। তার আগে লাতিন আমেরিকাসহ একাধিক দেশে কিন্তু ইন্টারভেনশন, ইনভেনশন করেছে। এমনকি লাতিন আমেরিকার বাইরে ইরাকেও মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একই ঘটনা আফগানিস্তানেও করা হয়েছিল। এই ব্যাপারগুলো তাদের কাছে নতুন না।
এর কারণ কী?
এই শতাব্দীতে এসে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে তারা এ ঘটনা ঘটাবে, তাতে অনেকে অবাক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন আর্মি জেনারেল তিনি তাঁর অবসরকালীন অনুষ্ঠানের ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি যুদ্ধ না থামাও তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো একেবারেই ভেস্তে যাবে।’ তাঁর সেই কথাটিই সত্য হলো। তবে ট্রাম্প কিছুটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ন্যাশনাল সিকিউরিটির স্ট্র্যাটেজি তিনি নভেম্বর মাসে নিয়েছেন। সেখানে নতুনত্ব ছিল এমন—‘আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র রীতিমতো নাক গলাত, আমি সেটা করব না। কিন্তু উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকায় আমরা কাউকেই ঢুকতে দেব না।’ এই ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়াকে তারা এখানে ঢুকতে দেবে না। এসব দেশে কোনো বাম আদর্শের সরকার গঠিত হোক, সেটা তারা সমর্থন করবে না। একসময় তারা ‘মনরো ডকট্রিন’ নামে একটা নীতি গ্রহণ করেছিল। মনরো ডকট্রিন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত একটি বিশেষ পররাষ্ট্রনীতি। এ নীতি অনুসারে পুরো আমেরিকার যেকোনো বিষয়ে ইউরোপের কোনো দেশের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা কলোনি স্থাপন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অবৈধ হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সেই মনরো ডকট্রিনের নতুন ভার্সন এই শতাব্দীতে এসে ট্রাম্প করছেন। প্রশ্ন হলো, কেন তিনি এটা করছেন? এতে অনেক বিষয় আছে। কেউ কেউ বলছেন, তাঁর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিষয় আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তা ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতির ওপর যে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। এটাই হলো মূল সমস্যা। এটা কমানোর জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে প্রথম চেষ্টা হলো, সরকারকে ছোট করা, বিভিন্ন খরচ বন্ধ করে দেওয়া। আমরা দেখলাম, তিনি ডব্লিউএইচও, ইউনেসকো থেকে বের হয়ে গেলেন। সেসব জায়গায় তিনি আর অর্থ দেবেন না। এমনকি ইউএসএআইডির জন্যও অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র যত আয় না করে তার চেয়ে খরচ বেশি করে। এটাই হলো বড় সমস্যা। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য আর অস্ত্র-বাণিজ্য তাদের বড় ব্যবসা। এসব করেও তাদের ঘাটতি থাকে। আগে ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ হতো উত্তর কোরিয়া, ইরান, রাশিয়া—এসব দেশের ওপর। কিন্তু শুল্ক আরোপ করেও যখন উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও ইরানকে থামানো যাচ্ছে না, তাই এবার নতুনত্ব আনা হলো। বন্ধু যেসব দেশ এত দিন ধরে তাদের অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা-সুবিধা নিয়েছে, সেসব দেশের ওপরও তিনি শুল্ক চাপিয়ে দিলেন। এখন এগুলো করেও যখন সমাধান করা যাচ্ছে না, হওয়ারও কথা না। কারণ, এ ধরনের শুল্ক চাপানো ঘুরেফিরে তাঁর দেশের জনগণের ওপরই পড়বে। সে কারণে ট্রাম্প চিন্তা করে ভেনেজুয়েলাকে তাঁর দৃষ্টিতে নিয়ে এলেন।
ভেনেজুয়েলাকেই কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো?
একটা বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদিও তেল রপ্তানিকারক একটা দেশ। আর তাদের তেলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেলের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। তেলের মৌলিক উপাদানের পরিমাণ ভেনেজুয়েলার তেলের মধ্যে বেশি পরিমাণে আছে, যাকে একদম খাঁটি বলা হয়। ভেনেজুয়েলায় তেলের মজুত অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে ট্রাম্প হিসাব করে দেখেছেন, ভেনেজুয়েলার বাম সরকার তার দেশের উন্নয়নের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নির্মাণ করেছে। চীন সেখানে বিনিয়োগ ও সহায়তা করছে। ভেনেজুয়েলাকে অনেক বছর ধরে অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর চীন এই সুযোগে সেখান থেকে তেল নিচ্ছে। সেটা বন্ধ করা গেলে চীনের ওপর তার একটা প্রভাব পড়বে। এ রকম বিভিন্ন ধরনের কারণে ট্রাম্প সেখানে একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছে। এটার যৌক্তিকতা কতটুকু?
ট্রাম্প যে মাদক নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, সেটারও কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যাঁরা গবেষণা করেন এবং আমেরিকার সরকারি মাদক গবেষণা প্রতিষ্ঠানও বলেছে, আমেরিকার মধ্যে যে মাদকদ্রব্য যায়, সেটাতে কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলা যুক্ত নয়। সেটা মেক্সিকো থেকে যায়।
তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যাপার আছে কি?
ভেনেজুয়েলায় এ ঘটনা তড়িঘড়ি করে ঘটানোর কারণ কেউ কেউ বলছেন, সামনে তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আবার দাম্ভিকতাকে পছন্দ করে এবং সে কারণে ভোটও দেয়। তাই এই নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার জন্যও এটা করতে পারেন। কারণ, তাঁর সমর্থন ক্রমাগত কমে যাচ্ছিল। বিশেষ করে, বিভিন্ন দেশে শুল্ক বসানোর কারণে। আর তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের ওপরও পড়ছিল। তিনি এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়। তবে কোনো সন্দেহ নেই—এটা যে ট্রাম্প একাই করছেন, সেটাও ঠিক নয়। এতে রিপাবলিকান পার্টিরও অ্যাজেন্ডা তৈরি করার ব্যাপার থাকতে পারে।
এসব ঘটনায় জাতিসংঘ কেন ভূমিকা নিতে পারে না?
বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার প্রশ্নে জাতিসংঘ অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যদি ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের ঘটনাগুলো দেখি, তাহলে জাতিসংঘের ভূমিকা সবার কাছে স্পষ্ট হবে।
মনে রাখতে হবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যতগুলো যুদ্ধ করেছে, তার মধ্যে কোরিয়ার সঙ্গে জাতিসংঘের আইনকানুন মেনে করেছে। এর বাইরে যতগুলো যুদ্ধ করেছে, পানামাসহ সব যুদ্ধে শুধু আন্তর্জাতিক আইন নয়, নিজ দেশের আইনেরও পরিপন্থী ছিল। এ কারণে বলছি, তারা যেটা করল তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই হলো তাদের আসল চরিত্র। অনেকে ‘গণতান্ত্রিক আমেরিকা’ বলে থাকেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তার যে আধিপত্য, সেটা না বুঝলে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝা যাবে না। জাতিসংঘ এ ঘটনায় কিছু করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। আর তার কোনো কিছু করার কথাও না।
যুক্তরাষ্ট্র এভাবে কি তার বৈশ্বিক আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে পারবে?
প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কবে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে? অতীতের অনেক সুপার পাওয়ারও ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন একসময় স্পেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পর্তুগাল সুপার পাওয়ার ছিল। তারপর ব্রিটিশরা বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিল। এ দেশগুলো একসময় ধীরে ধীরে নরমাল (স্বাভাবিক) দেশ হয়ে গেছে। সেসব দেশের জনগণের মানসিকতাও পরিবর্তন হয়ে গেছে।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী কমপ্লেক্স যত দিন পরিবর্তন না হবে, তত দিন পৃথিবীর অনেক দেশের ভোগান্তি কমবে না। তাদের আধিপত্য থেকে কেউই রক্ষা পাবে না। কারণ, যুদ্ধ অথবা যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক থাকতে পারে না। যে অস্ত্র তারা তৈরি করে, সেসব যদি ব্যবহার করা না হয়, তাহলে তাদের উৎপাদন লাইনে সমস্যা দেখা দেবে।
সমাধানের পথ কী?
যুক্তরাষ্ট্র বিশাল এক অর্থনৈতিক ঝামেলার মধ্যে আছে। আবার পৃথিবী একটা মাল্টিপোলারের দিকে যাচ্ছে। যদিও বিশ্বায়ন তার সঙ্গে জড়িত। সেই বিশ্বায়নের কারণে কিন্তু একাধিক দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিটা তুলনামূলকভাবে ধীরে ধীরে কমে আসছে। আর সেটাকে থামানোর একটা চেষ্টা হতে পারে এই ঘটনা। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এটা দিয়ে ট্রাম্প সেটার সমাধান করতে পারবেন না। কারণ, ৫০-৬০ দশকের লাতিন আমেরিকার সঙ্গে এখনকার বাস্তবতার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। লাতিন আমেরিকার মধ্যে যে আন্দোলনের কাঠামো এবং কিউবাসহ চে গুয়েভারার একটা বড় প্রভাব রয়েছে। আর লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, যেমন নিকারাগুয়া, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলায় অনেক সরকার কিন্তু গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।
সমাধানের একটা পথ হলো, ভেনেজুয়েলার জনগণ এটাকে কীভাবে দেখছে? আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভেনেজুয়েলার জনগণ সরাসরি রাস্তায় নেমেছে। তারা কোনোভাবেই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছে না। আবার এও দেখা দরকার যে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী করবে? ট্রাম্পের আশা ছিল, মাদুরোকে নিয়ে যাওয়ার ফলে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা করবে বা ক্ষমতায় চলে আসবে। কিন্তু মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এখন ক্ষমতা নিয়েছেন। আমি আশা করছি, ভেনেজুয়েলার সমর্থন তাঁর পক্ষেই থাকবে। তার কারণ হলো, জনগণের যে প্রতিক্রিয়া, তাতে দেখা যাচ্ছে মাদুরো সরকার এবং তার আগের সরকার দুটিই বামপন্থী ছিল। তারা কিন্তু দেশের মধ্যে কিছু সামাজিক কাঠামো তৈরি করতে পেরেছে।
এ কারণে ভেনেজুয়েলার বড় অংশ কিন্তু এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। এর ওপরই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। আবার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কী করবে, সেটাও দেখার বিষয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এগুলো একেবারেই পছন্দ করে না। কারণ, ঘটনাটি যেভাবে ঘটানো হয়েছে, তাতে পশ্চিমা সভ্যতা, গণতন্ত্র এবং পশ্চিমা যে কাঠামো, মানবাধিকারের কনসেপ্ট তৈরি হয়েছিল, তাতে সবকিছু কিন্তু তছনছ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ সেটা চাইবে না। সেখানেই আমাদের দেখা দরকার এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ কী পদক্ষেপ নেয়। এর বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেরও ব্যাপার আছে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের দেখা এবং পদক্ষেপ—তার ওপরই এর একটা সমাধান নির্ভর করছে।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আজকের পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশের সামরিক বাহিনী কর্তৃক আটক করে নিয়ে যাওয়া কি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী নয়?
যত আইনকানুন তৈরি করা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, তার সবটাই ভেস্তে গেছে। যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র একেবারে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে তাদের দেশে নিয়ে গেল—এটা কোনো আইনের মধ্যে পড়ে না। এমনকি তার নিজ দেশের সংবিধানের মধ্যেও পড়ে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার কিন্তু এটা করেনি। বিভিন্ন ধরনের কথা বলে এ ধরনের পদক্ষেপ তারা আগেও নিয়েছে। এর আগে পানামায় তো একই কাজ করেছে। তার আগে লাতিন আমেরিকাসহ একাধিক দেশে কিন্তু ইন্টারভেনশন, ইনভেনশন করেছে। এমনকি লাতিন আমেরিকার বাইরে ইরাকেও মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। একই ঘটনা আফগানিস্তানেও করা হয়েছিল। এই ব্যাপারগুলো তাদের কাছে নতুন না।
এর কারণ কী?
এই শতাব্দীতে এসে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে তারা এ ঘটনা ঘটাবে, তাতে অনেকে অবাক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন আর্মি জেনারেল তিনি তাঁর অবসরকালীন অনুষ্ঠানের ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি যুদ্ধ না থামাও তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো একেবারেই ভেস্তে যাবে।’ তাঁর সেই কথাটিই সত্য হলো। তবে ট্রাম্প কিছুটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ন্যাশনাল সিকিউরিটির স্ট্র্যাটেজি তিনি নভেম্বর মাসে নিয়েছেন। সেখানে নতুনত্ব ছিল এমন—‘আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র রীতিমতো নাক গলাত, আমি সেটা করব না। কিন্তু উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকায় আমরা কাউকেই ঢুকতে দেব না।’ এই ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়াকে তারা এখানে ঢুকতে দেবে না। এসব দেশে কোনো বাম আদর্শের সরকার গঠিত হোক, সেটা তারা সমর্থন করবে না। একসময় তারা ‘মনরো ডকট্রিন’ নামে একটা নীতি গ্রহণ করেছিল। মনরো ডকট্রিন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ঘোষিত একটি বিশেষ পররাষ্ট্রনীতি। এ নীতি অনুসারে পুরো আমেরিকার যেকোনো বিষয়ে ইউরোপের কোনো দেশের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা কলোনি স্থাপন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অবৈধ হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সেই মনরো ডকট্রিনের নতুন ভার্সন এই শতাব্দীতে এসে ট্রাম্প করছেন। প্রশ্ন হলো, কেন তিনি এটা করছেন? এতে অনেক বিষয় আছে। কেউ কেউ বলছেন, তাঁর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিষয় আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তা ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতির ওপর যে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। এটাই হলো মূল সমস্যা। এটা কমানোর জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে প্রথম চেষ্টা হলো, সরকারকে ছোট করা, বিভিন্ন খরচ বন্ধ করে দেওয়া। আমরা দেখলাম, তিনি ডব্লিউএইচও, ইউনেসকো থেকে বের হয়ে গেলেন। সেসব জায়গায় তিনি আর অর্থ দেবেন না। এমনকি ইউএসএআইডির জন্যও অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র যত আয় না করে তার চেয়ে খরচ বেশি করে। এটাই হলো বড় সমস্যা। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য আর অস্ত্র-বাণিজ্য তাদের বড় ব্যবসা। এসব করেও তাদের ঘাটতি থাকে। আগে ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ হতো উত্তর কোরিয়া, ইরান, রাশিয়া—এসব দেশের ওপর। কিন্তু শুল্ক আরোপ করেও যখন উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও ইরানকে থামানো যাচ্ছে না, তাই এবার নতুনত্ব আনা হলো। বন্ধু যেসব দেশ এত দিন ধরে তাদের অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা-সুবিধা নিয়েছে, সেসব দেশের ওপরও তিনি শুল্ক চাপিয়ে দিলেন। এখন এগুলো করেও যখন সমাধান করা যাচ্ছে না, হওয়ারও কথা না। কারণ, এ ধরনের শুল্ক চাপানো ঘুরেফিরে তাঁর দেশের জনগণের ওপরই পড়বে। সে কারণে ট্রাম্প চিন্তা করে ভেনেজুয়েলাকে তাঁর দৃষ্টিতে নিয়ে এলেন।
ভেনেজুয়েলাকেই কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো?
একটা বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদিও তেল রপ্তানিকারক একটা দেশ। আর তাদের তেলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেলের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। তেলের মৌলিক উপাদানের পরিমাণ ভেনেজুয়েলার তেলের মধ্যে বেশি পরিমাণে আছে, যাকে একদম খাঁটি বলা হয়। ভেনেজুয়েলায় তেলের মজুত অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে ট্রাম্প হিসাব করে দেখেছেন, ভেনেজুয়েলার বাম সরকার তার দেশের উন্নয়নের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নির্মাণ করেছে। চীন সেখানে বিনিয়োগ ও সহায়তা করছে। ভেনেজুয়েলাকে অনেক বছর ধরে অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর চীন এই সুযোগে সেখান থেকে তেল নিচ্ছে। সেটা বন্ধ করা গেলে চীনের ওপর তার একটা প্রভাব পড়বে। এ রকম বিভিন্ন ধরনের কারণে ট্রাম্প সেখানে একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছে। এটার যৌক্তিকতা কতটুকু?
ট্রাম্প যে মাদক নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, সেটারও কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যাঁরা গবেষণা করেন এবং আমেরিকার সরকারি মাদক গবেষণা প্রতিষ্ঠানও বলেছে, আমেরিকার মধ্যে যে মাদকদ্রব্য যায়, সেটাতে কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলা যুক্ত নয়। সেটা মেক্সিকো থেকে যায়।
তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যাপার আছে কি?
ভেনেজুয়েলায় এ ঘটনা তড়িঘড়ি করে ঘটানোর কারণ কেউ কেউ বলছেন, সামনে তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আবার দাম্ভিকতাকে পছন্দ করে এবং সে কারণে ভোটও দেয়। তাই এই নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার জন্যও এটা করতে পারেন। কারণ, তাঁর সমর্থন ক্রমাগত কমে যাচ্ছিল। বিশেষ করে, বিভিন্ন দেশে শুল্ক বসানোর কারণে। আর তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের ওপরও পড়ছিল। তিনি এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়। তবে কোনো সন্দেহ নেই—এটা যে ট্রাম্প একাই করছেন, সেটাও ঠিক নয়। এতে রিপাবলিকান পার্টিরও অ্যাজেন্ডা তৈরি করার ব্যাপার থাকতে পারে।
এসব ঘটনায় জাতিসংঘ কেন ভূমিকা নিতে পারে না?
বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার প্রশ্নে জাতিসংঘ অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যদি ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের ঘটনাগুলো দেখি, তাহলে জাতিসংঘের ভূমিকা সবার কাছে স্পষ্ট হবে।
মনে রাখতে হবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যতগুলো যুদ্ধ করেছে, তার মধ্যে কোরিয়ার সঙ্গে জাতিসংঘের আইনকানুন মেনে করেছে। এর বাইরে যতগুলো যুদ্ধ করেছে, পানামাসহ সব যুদ্ধে শুধু আন্তর্জাতিক আইন নয়, নিজ দেশের আইনেরও পরিপন্থী ছিল। এ কারণে বলছি, তারা যেটা করল তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই হলো তাদের আসল চরিত্র। অনেকে ‘গণতান্ত্রিক আমেরিকা’ বলে থাকেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী তার যে আধিপত্য, সেটা না বুঝলে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝা যাবে না। জাতিসংঘ এ ঘটনায় কিছু করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। আর তার কোনো কিছু করার কথাও না।
যুক্তরাষ্ট্র এভাবে কি তার বৈশ্বিক আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে পারবে?
প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কবে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে? অতীতের অনেক সুপার পাওয়ারও ধ্বংস হয়ে গেছে। যেমন একসময় স্পেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পর্তুগাল সুপার পাওয়ার ছিল। তারপর ব্রিটিশরা বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ছিল। এ দেশগুলো একসময় ধীরে ধীরে নরমাল (স্বাভাবিক) দেশ হয়ে গেছে। সেসব দেশের জনগণের মানসিকতাও পরিবর্তন হয়ে গেছে।
এখন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী কমপ্লেক্স যত দিন পরিবর্তন না হবে, তত দিন পৃথিবীর অনেক দেশের ভোগান্তি কমবে না। তাদের আধিপত্য থেকে কেউই রক্ষা পাবে না। কারণ, যুদ্ধ অথবা যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক থাকতে পারে না। যে অস্ত্র তারা তৈরি করে, সেসব যদি ব্যবহার করা না হয়, তাহলে তাদের উৎপাদন লাইনে সমস্যা দেখা দেবে।
সমাধানের পথ কী?
যুক্তরাষ্ট্র বিশাল এক অর্থনৈতিক ঝামেলার মধ্যে আছে। আবার পৃথিবী একটা মাল্টিপোলারের দিকে যাচ্ছে। যদিও বিশ্বায়ন তার সঙ্গে জড়িত। সেই বিশ্বায়নের কারণে কিন্তু একাধিক দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিটা তুলনামূলকভাবে ধীরে ধীরে কমে আসছে। আর সেটাকে থামানোর একটা চেষ্টা হতে পারে এই ঘটনা। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এটা দিয়ে ট্রাম্প সেটার সমাধান করতে পারবেন না। কারণ, ৫০-৬০ দশকের লাতিন আমেরিকার সঙ্গে এখনকার বাস্তবতার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। লাতিন আমেরিকার মধ্যে যে আন্দোলনের কাঠামো এবং কিউবাসহ চে গুয়েভারার একটা বড় প্রভাব রয়েছে। আর লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, যেমন নিকারাগুয়া, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলায় অনেক সরকার কিন্তু গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।
সমাধানের একটা পথ হলো, ভেনেজুয়েলার জনগণ এটাকে কীভাবে দেখছে? আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভেনেজুয়েলার জনগণ সরাসরি রাস্তায় নেমেছে। তারা কোনোভাবেই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছে না। আবার এও দেখা দরকার যে যুক্তরাষ্ট্র এখন কী করবে? ট্রাম্পের আশা ছিল, মাদুরোকে নিয়ে যাওয়ার ফলে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা করবে বা ক্ষমতায় চলে আসবে। কিন্তু মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এখন ক্ষমতা নিয়েছেন। আমি আশা করছি, ভেনেজুয়েলার সমর্থন তাঁর পক্ষেই থাকবে। তার কারণ হলো, জনগণের যে প্রতিক্রিয়া, তাতে দেখা যাচ্ছে মাদুরো সরকার এবং তার আগের সরকার দুটিই বামপন্থী ছিল। তারা কিন্তু দেশের মধ্যে কিছু সামাজিক কাঠামো তৈরি করতে পেরেছে।
এ কারণে ভেনেজুয়েলার বড় অংশ কিন্তু এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। এর ওপরই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। আবার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কী করবে, সেটাও দেখার বিষয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এগুলো একেবারেই পছন্দ করে না। কারণ, ঘটনাটি যেভাবে ঘটানো হয়েছে, তাতে পশ্চিমা সভ্যতা, গণতন্ত্র এবং পশ্চিমা যে কাঠামো, মানবাধিকারের কনসেপ্ট তৈরি হয়েছিল, তাতে সবকিছু কিন্তু তছনছ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ সেটা চাইবে না। সেখানেই আমাদের দেখা দরকার এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ কী পদক্ষেপ নেয়। এর বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেরও ব্যাপার আছে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের দেখা এবং পদক্ষেপ—তার ওপরই এর একটা সমাধান নির্ভর করছে।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আজকের পত্রিকা এবং আপনাকেও ধন্যবাদ।

বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন ও আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশসহ তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম জানায়নি ডিবি। আজ বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র তালেবুর রহমান।
৪ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামিনে মুক্তি পান ঢাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। পলাতক এসব সন্ত্রাসী ও তাঁদের অনুসারীরা আবারও চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ডে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততার তথ্য...
৫ দিন আগে
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন নামের এক ব্যক্তি পরিচালনা করতেন। যিনি এর আগে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায়
১৫ দিন আগে
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
১৮ দিন আগে