
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানা এলাকায় গাছ, বাঁশ, বালু কিংবা মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। এই চাঁদার কারবার চলে থানার ওসির নামে। প্রতি মাসে আদায় হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা যায় ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিমের পকেটে। চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. সাদ্দাম হোসেন।
পাইন্দংয়ের বাসিন্দা সাদ্দাম স্থানীয়ভাবে পুলিশের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত। ফটিকছড়ি থানা এলাকায় সড়কে চলাচলকারী পরিবহন থেকে চাঁদা তোলার পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাঁর মাধ্যমে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে সাদ্দাম পুলিশের অধীনে মাসিক বেতনে কাজ করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওসির ‘লাইন’ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসে। নতুন ব্যবস্থায় ওসির সঙ্গে সাদ্দামের একটি অলিখিত চুক্তি হয়। প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তিনি সড়কের লাইন পরিচালনার দায়িত্ব পান। সাদ্দাম নিজেই জানিয়েছেন, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ওসিকে নির্ধারিত অর্থ বুঝিয়ে দিতে হয়।
কোন গাড়িতে কী পণ্য, তার ওপর নির্ভর করে চাঁদার হার। গাছের গাড়িতে ৫০০ টাকা, বাঁশের গাড়িতে ১ হাজার, সেগুনগাছের গাড়িতে ১ হাজার, গামারিগাছের গাড়িতে ৭০০ এবং মাটিবাহী ডাম্প ট্রাকে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত গাছ ও বাঁশবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। এ ছাড়া পাইন্দং-কাঞ্চননগর সড়ক, ফটিকছড়ি-হেয়াকো সড়ক, পেলাগাজী-বারৈয়ারঢালা সড়ক ও লেলাং-রাঙামাটিয়া সড়ক দিয়ে বালু ও মাটি পরিবহনে গাড়িপ্রতি গুনতে হয় ১ হাজার টাকা। জায়গা ভরাট, মাটি কাটা বা বালু উত্তোলনের প্রতিটি স্পট থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে তোলেন সাদ্দাম।
কাঞ্চননগরের গাছ ব্যবসায়ী আবছার বলেন, পুলিশের ক্যাশিয়ার সাদ্দামকে সেগুনগাছের গাড়িপ্রতি ১ হাজার, গামারিসহ অন্যান্য গাছের গাড়িপ্রতি ৬০০ টাকা ‘লাইন খরচ’ দিতে হয়।
চালকেরা বলছেন, এই চাঁদার ব্যবস্থা কার্যত বাধ্যতামূলক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাম্প ট্রাকচালক বলেন, ‘মাটি পরিবহনের কাজ শুরুর আগে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে সাদ্দামের কাছ থেকে ওসির লাইন নিতে হয়। এই লাইন না নিলে পুলিশ গাড়ি ধরে নিয়ে যায়। তখন অনেক টাকা জরিমানা দিয়ে গাড়ি উদ্ধার করতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা টাকা দিই।’
একাধিক ট্রাকচালক জানিয়েছেন, নির্ধারিত চাঁদা না দিলে সড়কে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়ে। নানা অজুহাতে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়।
শুধু অবৈধ কারবারিরা নন, বৈধ ব্যবসায়ীরাও এই চাঁদার বাইরে নন। উপজেলার সর্তাখালের একটি বালুমহালের ম্যানেজার খোকন দে বলেন, বৈধ বালুমহাল হলেও মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি মাসে পুলিশের নামে ৫ হাজার টাকা নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক ইজারাদার বলেন, প্রতি মাসে ওসির টাকা দিতে দেরি হলে পুলিশ পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই টাকা দিতে হচ্ছে।
মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের পর সেই অর্থ কোথায় যায়? অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, দুই লাখ টাকা যায় ওসির কাছে। থানার অন্য কর্মকর্তারা পান ১০ হাজার। ওসির গাড়িচালক, বডিগার্ড এবং সার্কেলের গাড়িচালক পান ১০ হাজার টাকা করে। বিশেষ টহল টিম ও সাংবাদিকদের জন্যও আলাদা বরাদ্দ আছে। এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারাও পান মাসোহারা।
অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন নিজেও চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘ওসির নামে সড়কের লাইনটি আমাকে চালাতে হয়। আগে আমি মাসিক বেতনে চাকরি করতাম। এখন আমি উভয় সংকটে। কাজটি ছাড়তেও পারছি না, রাখতেও পারছি না। প্রতিদিন নানা মানুষের নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। নিজেই বুঝতে পারছি না এখন আমার কী করা উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘লাইন থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাদ্দামকে আমি চিনি না। খোঁজখবর নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাকে ‘শিশু’ হিসেবে আদালতে পাঠানো...
২ দিন আগে
রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত চার রোহিঙ্গা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ফেরদৌস, নুরু বিবি (১৯), উম্মে কুলসুম (২০) এবং এক শিশু।
২ দিন আগে
অটিজম ও এডিএইচডি আক্রান্ত ছেলে ক্রিস্টান রবার্টসকে একটি সুন্দর জীবন দিতে তিনি নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে কম বেতনের চাকরি নিয়েছিলেন মা অ্যাঞ্জেলা শেলিস, যাতে ছেলেকে বেশি সময় দিতে পারেন।
১০ দিন আগে
২০২৪ সালে ফ্রান্সে নিজ স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ডমিনিক পেলিকট ও তাঁর ৫০ জন সহযোগীর বিচারের ঘটনা বিশ্ববাসীকে প্রথমবার ইন্টারনেটে যৌন নির্যাতনকারী এক ঘৃণ্য চক্রের মুখোমুখি করেছিল। ডমিনিক তাঁর স্ত্রী জিসেল পেলিকটকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে ১০ বছর ধরে প্রায় ৭০ জন অপরিচিত পুরুষকে দিয়ে ২০০ বারের.....
১০ দিন আগে