Ajker Patrika

বাংলা কিউআর: গ্রাহকের টাকা আটকে গেলে ৩০ মিনিটে ফেরত

  • প্রণোদনা চালু, ২ হাজারে মিলবে সর্বোচ্চ ৬ টাকা।
  • বিরোধ থাকলে অভিযোগ নিষ্পত্তি ৩০ দিনের মধ্যে।
  • দুটি পৃথক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বাংলা কিউআর: গ্রাহকের টাকা আটকে গেলে ৩০ মিনিটে ফেরত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআর লেনদেনে গ্রাহকের হিসাব পরিচালনা আরও সহজ হয়েছে। কোথাও টাকা আটকে গেলে বা কেটে গেলেও তা মার্চেন্টের হিসাবে না পৌঁছালে গ্রাহককে এখন আর অপেক্ষা করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে ওই টাকা তাৎক্ষণিকভাবে, সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলা কিউআর লেনদেন বাড়াতে নতুন প্রণোদনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে গ্রাহকের হিসাব পরিচালনাকারী ও মার্চেন্টের লেনদেন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৬ টাকা দেওয়া হবে। তবে এই টাকা সরাসরি গ্রাহক বা বিক্রেতা পাবেন না।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ শাখা থেকে পৃথক দুটি সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে ২ হাজার টাকার লেনদেনে মার্চেন্টের লেনদেন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান পাবে সর্বোচ্চ ২ টাকা। আর গ্রাহকের হিসাব পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পাবে সর্বোচ্চ ৪ টাকা। অর্থাৎ ১ হাজার টাকার লেনদেনে এ দুটি প্রতিষ্ঠান পাবে যথাক্রমে ১ টাকা ও ২ টাকা। প্রণোদনার অর্থ মাসিক ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমে যুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা ও সেবাদাতার পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টও এই সুবিধা পাবেন। এর আগে ১০ আগস্ট সীমিত পরিসরে এই প্রণোদনা চালু করা হয়েছিল। এবার এর আওতা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে বাংলা কিউআর লেনদেনে টাকা আটকে গেলে অভিযোগ নিষ্পত্তির নিয়মও সহজ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ফেরত না এলে গ্রাহক লেনদেনের ৪৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

অভিযোগের সমাধান না হলে তা কেন্দ্রীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় যাবে। সেখানে মার্চেন্টের পক্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। বিরোধ থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। লেনদেনের অবস্থা জানা না গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মার্চেন্টরা ৬০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের আবেদন করতে পারবেন। অননুমোদিত বা প্রতারণামূলক লেনদেন তদন্তে সময় দেওয়া হয়েছে ৩০ দিন। কোনো প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ত্রুটি বা নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণে সমস্যা হলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে হবে।

বিরোধের সময় প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে টাকা ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ অর্থের সমপরিমাণ পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে। নির্ধারিত সময় না মানা বা অযৌক্তিকভাবে গ্রাহকের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত