Ajker Patrika

এস আলমের মামলা লড়ার প্রস্তুতি সরকারের, ঘণ্টায় খরচ ১২৫০ ডলার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৫১
এস আলমের মামলা লড়ার প্রস্তুতি সরকারের, ঘণ্টায় খরচ ১২৫০ ডলার
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক সালিস আদালতে এস আলম পরিবারের করা মামলার আবেদনের বিরুদ্ধে সরকার আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এই আইনি লড়াইয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হবে বলেও জানান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আর্থিক বিরোধ ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এস আলম গ্রুপ। সরকার আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিশ্বব্যাংকের আওতাধীন সালিসি সংস্থা “ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে” (ইকসিড) মামলা করেছে। আমরা ইতিমধ্যে নোটিশ পেয়েছি এবং এর যথাযথ জবাব দিতে হবে। যেহেতু এটি বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয়, তাই আমরা একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি।’

অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন অর্থ পাচারের ব্যাপারে এস আলম বোধ হয় একটা মামলা করেছে লন্ডনে এবং চ্যালেঞ্জ করেছে বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে (আইসিএসআইডি)। তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল ফাইট (আইনি লড়াই) করার জন্য আমরা একজন আইনজীবী নিয়োগ করব। এখানে বহু টাকার ব্যাপার।’

এই মামলা মোকাবিলার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক মানের একটি নামি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, এটি কোনো সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া নয়, তাই আইনি প্রস্তুতি অপরিহার্য। একটি সরকারি প্রতিনিধি দল এই সালিসি প্রক্রিয়া মোকাবিলায় শিগগিরই ওয়াশিংটন ডিসি সফর করবে।

এদিকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ ল ফার্ম ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি’কে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। ল ফার্মটি থেকে সেবা নেওয়ার জন্য ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ ডলার করে দিতে হবে। তবে এ ঘণ্টার হিসাব কীভাবে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

গত বছরের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তাঁর পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিসি মামলার আবেদন করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

আবেদনে এস আলম পরিবার দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ‘ভিত্তিহীন’ তদন্ত এবং ‘প্ররোচনামূলক মিডিয়া অভিযান’ পরিচালনা করছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থী।

এস আলম ও তাঁর পরিবার সালিসি মামলা করেছে ২০০৪ সালের বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায়। নথি অনুযায়ী, এস আলম পরিবার ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে।

এস আলম পরিবার দাবি করছে, সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীনেও সুরক্ষা দাবি করছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত এবং সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় সরকার।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে এই পাচারের মোট পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

পাচার করা অর্থ উদ্ধারে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে এস আলম পরিবার। এ ছাড়া এস আলম ও তাঁর সহযোগীরা একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ঋণ ও আমদানি জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত