Ajker Patrika

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনে ১,৮৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব

  • শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, যশোর-সৈয়দপুর টার্মিনাল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
  • বিমানের বহরে যুক্ত হবে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ
  • ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে লজিস্টিকস হাব; রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর হবে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনে ১,৮৮৪ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার তুলনায় বেশি হলেও মূল বরাদ্দ ২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার চেয়ে কম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিমান অবকাঠামো উন্নয়ন, বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন অ্যাভিয়েশন খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর ধারণক্ষমতা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

যাত্রীসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ বোয়িং

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে বিমানের বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগ বৃদ্ধি, যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাব গড়ার পরিকল্পনা

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড প্রতিষ্ঠা, নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে তৈরি এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করা হবে।

এ ছাড়া রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, বিমান নিরাপত্তা মান উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমান চলাচল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

পর্যটনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

অর্থমন্ত্রী জানান, পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত