Ajker Patrika

সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন: পরিকল্পনা না থাকায় অকেজো ৩০ লাখ সোলার সিস্টেম

  • সোলার হোম সিস্টেমের ৪৭ শতাংশ বর্তমানে অকেজো।
  • ২০১৮ সালে নতুন সোলার প্যানেল স্থাপন কমে যায় ৯৯.৬ শতাংশ।
  • পরিত্যক্ত সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি তৈরি করছে পরিবেশগত ঝুঁকি।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন: পরিকল্পনা না থাকায় অকেজো ৩০ লাখ সোলার সিস্টেম

পরিকল্পনা ছাড়াই জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং সমন্বয়হীনভাবে সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) স্থাপনের ফলে দেশে প্রায় ৩০ লাখ সোলার সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে এ খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংলাপে ‘এসএইচএস সার্ভে ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সিপিডি। এতে বলা হয়, দেশে স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের প্রায় ৪৭ শতাংশ বর্তমানে অকেজো। পাশাপাশি পরিত্যক্ত সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির কারণে নতুন পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহকারী আতিকুজ্জামান সাজিদ। সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

গবেষণায় বলা হয়, ২০০৩ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাইকার অর্থায়নে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি শুরু হয়। এর মাধ্যমে দুই কোটিরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে। ২০১৩ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৫৩ হাজার সিস্টেম স্থাপনের রেকর্ড গড়ে কর্মসূচিটি।

তবে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দ্রুত জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ করা হলেও বিদ্যমান সোলার সিস্টেমগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকেরা ধীরে ধীরে গ্রিডের বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর প্রভাবে নতুন সোলার স্থাপন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালে বার্ষিক স্থাপন ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে মাত্র ৩ হাজার ৪৫৫টিতে নেমে আসে।

সংলাপে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পাকিস্তানে বর্তমানে এক ধরনের ‘সৌর বিপ্লব’ চলছে। জ্বালানিসংকট, উচ্চ বিদ্যুৎমূল্য ও প্রযুক্তির খরচ কমে যাওয়ায় দেশটিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনে আরও কার্যকর নীতি ও প্রণোদনা প্রয়োজন।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৫১টি নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা রয়েছে, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২১৩ দশমিক ৩ মেগাওয়াট। শুধু ২০২৫ সালেই যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৩১টি নতুন স্থাপনা। তবে উচ্চ কর ও শুল্ক, সহজ অর্থায়নের অভাব, নেট মিটারিং অনুমোদনের জটিলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এ খাতের বিকাশে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের শুল্ক কমানো, আবাসিক পর্যায়ে নেট মিটারিং সহজ করা, স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে সিপিডি।

অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকার বিভিন্ন কর-সুবিধা দিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব সেচপাম্প সৌরশক্তিচালিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত