Ajker Patrika

জাপান-রাশিয়ায় বেড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, রেকর্ড ৬৪২.৯৩ মিলিয়ন ডলার

বাসস, ঢাকা  
জাপান-রাশিয়ায় বেড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, রেকর্ড ৬৪২.৯৩ মিলিয়ন ডলার
ফাইল ছবি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এক মাসে এ খাতে এটিই সর্বোচ্চ রপ্তানি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে জাপানে। এ সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক।

রপ্তানিতে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, রাশিয়া ও মেক্সিকোসহ অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব বাড়ছে। গত দুই বছর এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তেমন অগ্রগতি না থাকলেও চলতি অর্থবছরে চিত্রে পরিবর্তন এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে মাসিক গড় তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপানে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।

মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।

আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, ‘অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এত দিন এসব বাজারে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন এসব বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু দামি পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে। তাই প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আরও বাড়াতে অপ্রচলিত বাজারের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত